Main Menu

দলের সরকার, সরকারের দল নয়

মোঃ শফিকুল আলম: গনতন্ত্রে দল থাকবে। একাধিক দল থাকবে। দলের নেতার নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহনপূর্বক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্য দিয়ে একটি দল সরকার গঠন করে। তার পূর্বেই দলীয় ফোরামে দলটি ক্ষমতায় যেতে পারলে দেশের জন্য কিকি করবে তার ফিরিস্তি জনসমক্ষে উপস্থাপন করে থাকে। দল তাদের যোগ্য নেতৃত্ব দলীয় ফোরামে নির্বাচন করে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহনের জন্য মনোনয়ন দিয়ে থাকে। এরপরেও জনগনের চুড়ান্ত বিবেচনায় যারা যোগ্য তারা নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্টে জনগনের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। গনতন্ত্রে এই সরকারকে প্রতিনিধিত্বশীল সরকার বলা হয়ে থাকে। মূলত নির্বাচিত সকল সদস্যই এক অর্থে সরকারের অংশ। গনতন্ত্রে বিরোধী দলকে অলটারনেটিভ গভর্নমেন্ট বলা হয়। বিরোধী দলেরও কেবিনেট থাকে। তাদেরও নির্দিষ্ট সংখ্যক সরকারী কর্মকর্তা বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সচিব যেমন কোনো মন্ত্রীকে ব্রিফ করেন  একইভাবে শ্যাডো কেবিনেট মন্ত্রীকেও ব্রিফ করতে হয়। কারন বিরোধী মন্ত্রীও জনগনের ট্যাক্সের পয়সায় বেতন পায় এবং তাকেও মন্ত্রী’র বিপরীতে বিকল্প পরিকল্পনা তুলে ধরতে হয়। উদারনৈতিক সরকার অনেক সময়ে বিরোধী শ্যাডো মন্ত্রী’র পরিকল্পনা বেটার মনে করলে গ্রহন করে থাকে।

তা’হলে সরকারটি দলীয়; কিন্তু কোনোক্রমেই দলটি সরকারের নয়। কারন, সরকার একটি কনস্টান্ট প্রতিষ্ঠান। নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে নির্বাচনে অন্য আরেকটি দল সরকার গঠন করতে পারে। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

তা’হলে এই সময়টায় দল এবং সরকারের কার্যকরন সম্পর্ক কিভাবে হয়ে থাকে? সরকারের জন্য দলের কোনো পরামর্শ থাকলে তা’ দলীয় ফোরামে নির্ধারিত করা হবে এবং দলের প্রধান যেক্ষেত্রে দলীয় প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী এক ব্যক্তি নন সরকার প্রধানকে পরামর্শ হস্তান্তর করবেন। দলের মুখপাত্র গনমাধ্যমেও সরকারকে পরামর্শ দিতে পারে। দলের বক্তব্য দলের নির্ধারিত মুখপাত্রের মাধ্যমেই প্রকাশিত হবে। দলের কোনো পর্যায়ের নেতা, এমনকি দলীয় মুখপাত্রও সরকারের কোনো কাজের দায়িত্ব নিয়ে কথা বলার অর্থই হচ্ছে দল এবং সরকারকে গুলিয়ে ফেলা। দলের মুখপাত্র হতে পারেন সাধারন সম্পাদক তাকেও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি যখন কথা বলবেন তখন তাকে স্পষ্ট করতে হবে তিনি সরকারের মন্ত্রী হিসেবে কথা বলছেন না দলের মুখপাত্র হিসেবে কথা বলছেন।

এতো কথা বলার প্রয়োজন হতোনা যদি তারা প্রত্যেকে প্রত্যেকের দায়িত্বের ব্যাপারটি বুঝতেন। প্রায় প্রতিনিয়ত দলের নিম্ন স্তরের নেতাকেও সরকারের দায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। বিশেষ করে টিভি টকশোতে। উপস্থাপকরাও তাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাকে বেশ উপভোগ করেন। আবার অন্য দিকে প্রধানমন্ত্রী’র দপ্তরে রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীগন যাদের কাজ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করা। তারা তাদের দায়িত্বের স্তর সম্পর্কে সতর্ক থাকেনা। They always pretend that they have got the authority to talk about the government and the party as well. যারা টকশোতে দায়িত্ব নিয়ে কথা বলছেন তারা এমনকি উপসচিবের পদমর্যাদারও অফিসার নন। অথচ সরকার এবং দল সবকিছুর দায়িত্ব নিয়ে কথা বলছেন। প্রতারক শাহেদকেও একইভাবে সরকার এবং দলের দায়িত্ব নিয়ে টকশোতে বুলি কপচাতো। শাহেদকেও তখন বেশ ক্ষমতাবান মনে হতো। 

প্রধানমন্ত্রী’র দপ্তর বা অন্যান্য মন্ত্রীদের সাথে যারা রাজনৈতিক নিয়োগে রয়েছেন তাদের বিষয়ে তদন্ত হওয়া জরুরী। আপনাদের মাধ্যম ছাড়া শাহেদ প্রধানমন্ত্রী’র দপ্তর বা অন্যান্য মন্ত্রনালয়ে এ্যাকসেস পায়নি। এখন আপনারা শাহেদের ভাষায় সরকার এবং দলের দায়িত্ব নিয়ে গনমাধ্যমে কথা বলেন কোন্ সাহসে? তা’ছাড়া গনমাধ্যমে মতামত প্রকাশের জন্য আপনারা বুদ্ধিদীপ্ত নন। আপনারা ঐ স্তরের মতামত প্রকাশে যোগ্য নন। অনৈতিক সুবিধা আদায়ে গনমাধ্যমে ফোকাস্কড হয়ে বরং শাহেদের মতো বিপদে পড়বেন।

দল এবং সরকারকে গুলিয়ে খাবেননা। গনতন্ত্রের মিনিমাম নর্মস এবং ভ্যালুসগুলো আগে শিখুন এবং অনুশীলন করুন। আপনাদের নিম্নমানের মতামত প্রকাশ দল এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। আপনাদের নিজেদের জীবনও কিন্তু বিপন্ন হবে।

 

 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT