Main Menu

সতত এ নদ তুমি পড় মোর মনে.......

বনজ কুমার মজুমদার: মহাকবি মাইকেল মধুসুদন দত্তের সনেটটি আমাদের অস্টম শ্রেণীর পাঠ্য ছিল। তখন জানতাম কবি ভার্সাই শহরে পরবাসকালীন সিন নদীর তীরে বসে কপোতাক্ষ নদের উদ্দেশ্যে এটি লিখেছিলেন! তার বাসভবনটি’র এখন রিনোভেশন চলছে। এই ভবনের সামনেই পর্যটকদের উদ্দেশ্যে খোলা হয়েছে পাঞ্জাবী রেষ্টুরেন্ট। ১ম বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ীদের বিখ্যাত ভার্সাই চুক্তি এই শহরের Versailles Palace (১৭শ শতাব্দী, ফ্রান্সের রাজপ্রাসাদ)-এর Hall of Mirrors- এ সম্পন্ন হয়েছিল। কেউ বলেন জার্মেনীর উপর অবমাননাকর শর্ত আরোপের জন্য ২য় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল এ চুক্তি হতে ।

Mirror বা আয়না ছিল ১৭শ শতাব্দীর সবচেয়ে মূল্যবান ও এলিট সামগ্রী। আয়না তৈরীর প্রযুক্তি ফ্রান্স চুরি করে এনেছিল স্বাধীন ভেনেটিয়ান রিপাবলিক (বর্তমানে ইতালির ভেনিস) থেকে। এ প্রযুক্তি শুধু তারাই জানত। কথিত আছে ভেনেটিয়ান সরকার এ প্রযুক্তির একচেটিয়া অধিকার আয়ত্তে রাখতে ফ্রান্সের কারিগরদের বিষ প্রয়োগে হত্যার জন্য গোয়েন্দা প্রেরণ করেছিল । Hall of Mirrors -এ ১৭টি কাচেঁর জানালা এবং তার বিপরীত ওয়ালে ৩৫৭টি আয়না ও হাজার মোমবাতির খেলা তখনকার ইউরোপের অর্থনীতি ও টেকনোলোজিতে ফ্রান্সের শ্রেষ্ঠত্ব ইঙ্গিত করত। ইউরোপের সকল রাজারা কোন না কোনভাবে আত্মীয়। বিপ্লব এদের ক্ষমতা তছনছ করে দেয়। ফ্রান্স বিপ্লবের সময় রাজা ছিলেন লুইস-১৭ এবং রানী ম্যারি এন্তোনিয়েতি (৩৬)। বিপ্লবীরা তাদের এই রাজপ্রাসাদেই নজরবন্দী করে রাখার পর গিলোটিনে শিরচ্ছেদ করে। এটিতে শুধু এলিটদেরই মৃত্যুদন্ড কার্যকর হত। এ ভাগ্যবান  গিলোটিনটি বসানো ছিল প্যারিসের কেন্দ্রে। কনকর্ড নামে পরিচিত এ জায়গাটি সৌন্দর্য পিপাসীদের আর্কষনীয় স্থান।

ভার্সাই হতে সিন নদী পার হলেই প্যারিস। পারফিউম, প্রেমী, চিত্র-শিল্পী ও ফ্যাশন ডিজাইনারদের তীর্থস্থান। ডাউনটাউনে ৬ তলা বিশিষ্ট একটির সাথে অন্যটি লাগানো প্রায় একই স্থাপত্য কৌশলে তৈরী। অপ্রশস্ত রাস্তায় ঘুরে বেড়নো উপভোগ্য বিষয় বটে। আইফেল টাওয়ার, মোনালিসার লুভরে (Louvre) মিউজিয়াম, Notredame cathedral, প্যারিস গেট, কনকর্ড........ কি নেই সেখানে! ইউরোপের সেরা ট্রাফিক জ্যাম, রাস্তার পার্শ্বে ছোট ছোট বস্তি, অপরিস্কার রাস্তা, খুব ভোরে ডাস্টবিনে খাবার খোঁজা নাম গোত্রহীন ভিক্ষুক, অহরহ পকেট মার সবই আছে। আর যাই বলেন পকেট মাররা প্রফেশনাল। চেহারা সুরতে এবং পোশাকে টিপটপ ইউরোপিয়ান। পাশে বসা লোকটি পকেটমার হতে পারে এ চিন্তা আপনার মাথায়ই আসবে না। ভিকটিম হয়ে থানায় যাবেন ? জিডি করে দায়িত্ব শেষ। ভাবটা এই- “পকেট” থাকলে “মার”-তো হতেই পারে। কোন কোন পুলিশ কেন্দ্র তো ৫টায় বন্ধ। সরকারী চাকরী না। খুব বেশি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যাবেন! বসে থাকেন ইমারজেন্সীর অপেক্ষার রুমে। কপাল ভালো থাকলে ঘন্টা ৪/৫ পর ডাক পাবেন। টু-শব্দ করার জো নেই। সে তুলনায় আমরা আছি ভালো। ১৫ মিনিট ডাক্তারের দেরি- হাসপাতাল ভাংচুর করো, না হয় ডাক্তারের কলার ধরো। প্যারিসের দুই তৃতীয়াংশই ইমিগ্রান্টদের দখলে। পাসপোর্ট হারালে একমাত্র ভরসা বাংলাদেশ দূতাবাস। তাদের আন্তরিকতা আমাদের মুগ্ধ করেছে।

প্যারিসের সাথে ভার্সাই’র যেমন মিল নাই তেমনি নিশ্চয়ই সারা দেশের সাথে প্যারিসের।
কয়েক জায়গায় বেশ কয়েকজন সুদর্শন বাংগালী দেখলাম। তারা আমাদের সাথে ইচ্ছে করে পরিচিত হন নি। বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিবান এ স্মার্ট তরুনরা এখনো জীবন-জীবিকা ও অর্থের প্রায় শতভাগ ঝুঁকি নিয়ে এ দেশে কেন আসে? শহরের নিচ তলার হালচাল দেখে মনে হতেই পারে এতো ইমিগ্র‍্যান্ট নেয়ার পিছনে কি কোন রাজনীতি আছে...?

নোটঃ লেখাটি করোনা ভাইরাস মহামারীর আগে লেখা।

 

লেখকঃ পিবিআই প্রধান ও ডিআইজি


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT