Main Menu

তৃতীয় ধাপে বিজ্ঞানীরা কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিনের ব্যাপারে আশাবাদী হয়েছেন

প্রাথমিক হিউম্যান ট্রায়েলে বেশ কয়েকজন সাবজেক্টের শরীরে শক্তিশালী ইমিউনিটি রেসপন্স প্রনোদিত করেছে এবং বিজ্ঞানীরা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড এর হিউম্যান ট্রায়েলের প্রথম ফেইজের পর মনে করা হচ্ছে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন আসন্ন। ১০০০ সাবজেক্টের ওপর প্রয়োগে দেখা গেছে তাদের শরীরে প্রয়োজনীয় মাত্রায় এন্টিবডি তৈরী হয়েছে যা ভাইরাল ইনফেকশন রোধে পুরোপুরি সক্ষম। এবং সাবজেক্টের শরীরে মারাত্মক কোনো পার্শ প্রতিক্রিয়া তৈরী হয়নি। ফলাফলে দেখা যায় ভ্যাকসিন প্রয়োগে ইমিউন সিস্টেমের অন্যতম কম্পোনেন্ট টি-সেলস রেসপন্স করেছে। টি-সেলস এর কাজ হচ্ছে ইনফেক্টেড হোস্ট সেলসকে নির্মূল করা এবং অন্যান্য আনইনফেক্টেড সেলসকে ইনফেকশন রোধক উজ্জিবীত করা।

ইউএস বায়োটেক মডার্না ঘোষনা করেছে যে এই সপ্তাহে ৪৫ সাবজেক্টের ওপর প্রয়োগিত ভ্যাকসিন বলিষ্ঠ ইমিউন রেসপন্স করেছে। নিশ্চিত ফল প্রাপ্তির জন্য বা প্রাপ্ত ফলাফল সন্দেহাতীতভাবে নিশ্চিত করার জন্য ২৭ জুলাই ৩০,০০০ আমেরিকান সাবজেক্টের ওপর এফিকেসি ট্রায়েল শুরু হবে।

বিশ্বব্যাপী নিশ্চিত করে বলা যায় যে ২১ টি ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়েল শুরু হয়েছে। অক্সফোর্ড হিউম্যান ট্রায়েল তৃতীয় ধাপে রয়েছে। এর সাথে একই পর্যায়ে রয়েছে চাইনিজ কোম্পানি সিনোভ্যাক। সর্বোমোট বিশ্বব্যাপী ১৫০ টি ভ্যাকসিন তৈরীর পথে রয়েছে।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইমিউনাইজেশন রিচার্স এন্ড সার্ভিলেন্সের এর পরিচালক ম্যাকার্টনি প্রাথমিক হিউম্যান ট্রায়েল রেজাল্টস এ ভ্যাকসিন আবিষ্কার যে সুনিশ্চিত সে ব্যাপারে তিনি আত্মপ্রত্যয়ী। অধ্যাপিকা ম্যাকার্টনি আরও বলেন, “যে গতিতে ভ্যাকসিন আবিষ্কার এগোচ্ছে তাতে উল্লেখ করার মতো কোনো বাঁধা নেই।” তাঁর মতে, “ আমরা অন্তত তিনটি পৃথক পৃথক ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিন দেখতে পাচ্ছি এবং এই তিনটির প্রথম ফেইজের গবেষনাপত্রও দেখতে পাচ্ছি। এবং শীঘ্রই অক্সফোর্ড ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিনের বড় আঁকারের গবেষনাপত্র প্রত্যাশা করা হচ্ছে।”

ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিন হচ্ছে ইনফেকশনের জন্য দায়ী ভাইরাসের পার্টিকেল থেকে প্রয়োজনীয় এন্টিজেনিক প্রোটিন খুঁজে বের করা যা’ শরীরে রোগ প্রতিরোধে সুপার এন্টিবডি তৈরী করে। এবং অংশীদারী উৎপাদন প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী ভ্যাকসিন করে।

বাস্তবতা হচ্ছে ছয় বছরের কর্মযজ্ঞ ছয় মাসে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। তবে আশার ব্যাপার হলো ভ্যাকসিন আবিষ্কার স্পষ্টভাবে সফলতার সাথে হিউম্যান ট্রায়েলের দ্বিতীয় ধাপ অতিক্রমনে রয়েছে। এই ধাপে হাজার হাজার মানুষের ওপর ভ্যাকসিনের কার্যকরিতার ওপর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের সফলতা নির্ভর করছে।

এ সপ্তাহে সোমবার অস্ট্রেলিয়ায় ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড তাদের ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিনের প্রথম ফেইজের হিউম্যান ট্রায়েলে প্রথম ডোজের প্রয়োগ শুরু করে। তারা মলিকুলার ক্লাম্প প্লাটফর্ম টেকনোলজি ব্যবহার করে ইমিউন রেসপন্স তৈরী করতে প্রোটিন স্থিতিকরনের কাজ করছে। ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড সিএসএল গ্লোবাল বায়োটেকনোলোজি কোম্পানির সাথে অংশীদারিত্ব করছে। সিএসএল (কমনওয়েলথ সিরাম ল্যাবরেটরীজ) লক্ষ লক্ষ ডোজ উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এ্যাডেলাইড বিজ্ঞানী নিকোলাই পেট্রোভোস্কি’র কোম্পানি ভ্যাক্সিন প্রোটিন বেইজড্ ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিন তৈরী করছে  যার হিউম্যান ট্রায়েল এবং এফিকেসি টেস্ট হয়েছে।

অধ্যাপিকা ম্যাকার্টনি, “আমি বলতে চাই এই প্যানডেমিকের মধ্যে মূলত আমরা প্রশিক্ষণে রয়েছি। গত দু’দশক ধরে বিজ্ঞানে যে বিপ্লব সাধিত হয়েছে তার ফলশ্রুতিই স্বল্প সময়ে স্মার্টলি ভ্যাকসিন তৈরীর ডিজাইন করতে সমর্থ হওয়া।”

ফার্মাসিউটিকাল জায়ান্ট অস্ট্রা জেনেকা ১০০ মিলিয়ন অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন ডোজ বৃটেনে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে এবং তার উৎপাদন পরিকল্পনাও প্রস্তুত। একই সময়ের মধ্যে অস্ট্রা জেনেকা ইউএসএ ৩০০ মিলিয়ন ডোজ সরবরাহ করার পরিকল্পনা রেখেছে। অস্ট্রা জেনেকার উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে ২ বিলিয়ন ডোজেস।

অক্সফোর্ড টীম ১০,০০০ বৃটেনে, ৫,০০০ ব্রাজিলে এবং ২,০০০ দক্ষিন আফ্রিকায় সাবজেক্ট রিক্রুট করেছে বর্ধিত হারে হিউম্যান ট্রায়েল প্রয়োগের জন্য। ইউএস ৩০,০০০ এর ওপর ট্রায়েল ডোজ প্রয়োগ করবে।
 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT