Main Menu

জঙ্গীনামাঃ ইসলামী বিশ্ব এবং বাংলাদেশ

জালাল উদ্দিন আহমেদ: জং অর্থ যুদ্ধ। এই জং থেকে জঙ্গী শব্দের উৎপত্তি। জং এর জঙ্গী উন্মাদনায় আজ মুসলিম স¤প্রদায় তাদের অস্তিত্বের মূলেই কুঠরাঘাত করছে। আঠার ঊনিশ শতকের ইহুদি আগ্রাসী বিনাসের পর একবিংশের বটতলায় ইসলামী অগ্রযাত্রা বন্ধের এ এক আত্ম-বিনাসী অপযাত্রা। স্নায়ু যুদ্ধ অবসানের পর এ পৃথিবীতে আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে মোড়লী করে ফায়দা লোটার রাস্তাঘাট যখন বন্ধপ্রায় তখন ইহুদি চক্রের কুটচালে মার্কিন আধিপত্যবাদীরা মুসলিম অধ্যুষিত খনিজ সমৃদ্ধ আরব বিশ্বে  আধিপত্য বিস্তারে এক নতুন নাটক ম স্থ করলো। খনিজ সমৃদ্ধ আফগানদের সোস্যালিজমের ধারণাকে পাল্টে দেয়ার জন্য পাকিস্থান সামরিক সরকারের সহয়তায় ধর্মপ্রাণ আফগানদের ইসলামী জোশে উদ্বুদ্ধ করনের মাধ্যমে তালেবানী সাম্রাজ্যের এক নীল নক্সা তৈরী করলো তারা। এরই ধারাবাহিকতায়  আফগান ও পাকিস্থান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এমনকি পাকিস্থানের অভ্যন্তরেও হাজার হাজার জঙ্গী তৈরীর মাদ্রাসা স্থাপন করা হল। অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত উপজাতীয় মুসলমানরা পশ্চিমা জৌলুশ ও ইসলামী জোশে উদ্বুদ্ধ হয়ে সশস্ত্র যুদ্ধ করে আফগান হতে সোভিয়েত মতাদর্শের সরকারকে উৎখাত করলো। ফলে কাবুলে গোড়া ইসলামপস্থী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠলো। এতে করে মার্কিন নীলনক্সা হিতে বিপরীত হয়ে ধরা দিল। পাশাপাশি পাকিস্থানী সামরিক জান্তা সরকারের বেশ অসুবিধা তৈরী হলো। সময়ের আবর্তনে এই মৌলবাদী তালেবানী সরকার পাক-মার্কিন সরকারের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়াল। একসময় এই ভূমন্ডলের একছত্র অধিপতি মার্কিন প্রশাসন তার নিজস্ব বাহিনী দিয়ে কাবুলের ঐ সরকারকে উৎখাত করলো। কিন্তু স্বাধীনচেতা আফগান ও উপজাতীয়রা তাদের স্বকীয়তা ধরে রাখার মানসে তালেবান ও মোজাহীদ সংগঠনের মাধ্যমে তাদের সংগ্রাম সক্রিয় রাখলো যা বর্তমানের প্রেক্ষিতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী ও তার দোসরদের ভাষায় ইসলামী মৌলবাদী জঙ্গী কার্যক্রম হিসাবে বিবেচিত। 
এক সময় এই মৌলবাদীদের প্রকাশ্য সমর্থন ও সহযোগিতা করে মার্কিন ও পাকিস্থানী রাষ্ট্রযন্ত্র তাদের লালন করেছে। তাদের হাতে অস্ত্র ও অর্থ তুলে দিয়েছে। ইহুদিী কুটচক্রের মার্কিন মোড়লদের খুশী করতে যে পাকিস্থানী প্রশাসন এক সময় তালেবান জঙ্গীদের সহোদর ছিল সেই জঙ্গী মৌলবাদীরা আজ পাকিস্থানের বুকে এক জলন্ত বিষফোঁড় হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। ইসলামপন্থী নামের তথাকথিত এই মৌলবাদী জঙ্গীরা প্রতিনিয়ত তাদের বর্বরোচিত জঙ্গী তৎপরতায় সমাজের সাধারণ জনপদে প্রতিনিয়ত আতংক সৃষ্টি করে চলেছে। মৌলভীদের এই সংগঠন শুধূ আফগান পাকিস্থান কেন, সারা বিশ্বে আজ তারা মুর্তিমান আতংক। তাদের অবৈধ তৎপরতা আজ ইরাক, সিরিয়া, আফগান, পাকিস্থানসহ আরব বিশ^ ও মুসলিম প্রধান আফ্রিকাতেও বিষ ছড়াচ্ছে।
 মধ্যপ্রচ্যের দেশগুলিতে যে সহিংসতা ও যুদ্ধ বিগ্রহ চলছে তার মূলে কিন্তু ইহুদীবাদী পশ্চিমা মোড়ল আমেরিকা এবং তার বশংবদ ইউরোপের দেশগুলো প্রকাশ্যে মদত দিচ্ছে। মানব সভ্যতার দুষ্টক্ষত ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইলকে তারাই একদিন শান্তির বাতাবরনে থাকা মধ্যপ্রচ্যের পুণ্য ভূমিতে পত্তন করে দিয়েছিল। সেই তাদেরকেই রক্ষা করতে আজ পশ্চিমা মোড়লরা একটার পর একটা নিরীক্ষামূলক কার্যকলাপ চালাচ্ছে মধ্যপ্রচ্যের মুসলিম দেশ সমূহে। 
আজকের মুসলিম বিশ্ব জঙ্গী সংগঠনগুলোর যে শৌর্য ও দুর্ধষ্যপনা দেখা যায় তা ওই ঈহুদীবাদী মোড়লদের অস্ত্র ও শ্রম দিয়েই সৃষ্ট। তাদের মাষ্টার প্লানের অংশ হিসাবে তারা মুসলিম বিশে^র লৌহ মানবদের হত্যা করেছে বা করিয়েছে। শক্তিধর মিশরকে বিভিন্নভাবে দুর্বল করেছে। টিম টিম করে জ¦লতে থাকা মুসলিম বিশে^র শক্তিশালী রাষ্ট্র ইরানকে তারা বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিনিয়ত নাজেহাল করছে। পাকিস্থান নামের শক্তিধর ইসলামী রাষ্ট্রকে তারা মই লাগিয়ে গাছে উঠিয়ে এখন মইটা সরিয়ে নিয়েছে। আর খ্রীষ্টান আবহে বেড়ে উঠা মুসলিম রাষ্ট্র তুরস্ককে নিজেদের তাঁবুতে ঢুকিয়ে নিয়ে মেরুদন্ডহীন করে রেখেছে। 
কথায় আছে খেঁক শিয়ালের এক রা। অর্থাৎ সন্ধ্যেবেলায় কোন খেঁক শিয়াল যদি আওয়াজ দিয়ে তার অবস্থানের জানান দেয় তখন জঙ্গলের অন্যান্য জায়গার শিয়ালেরাও ডাক দেয়া শুরু করে। এখন আমরা পড়েছি ওইসব ধূর্ত শিয়ালদের খপ্পরে। দুনিয়ার মোড়লটি যদি বলে ফেলে শ্যামকে রাম তবে সে রামই। তার আর শ্যাম হবার কোন অবকাশ নাই। লক্ষ্য করুন, শান্তির কথা বলে তারা যেভাবে  বর্বরোচিত কায়দায় মুসলিম নিধন করছে তা কি সভ্য দুনিয়ায় অনুমোদন করে? কিন্তু অনমোদন তো পাচ্ছে। নিরাপত্তা পরিষদ নামের যুযুধান আজ একচোখা দৈত্য হয়ে এসব মানবতা বিরোধী অপকর্মে মদত দিচ্ছে। তাদের একমাত্র ম্যান্ডেট হচ্ছে মুসলমানদেরকে মৌলবাদী ট্যাগ লাগিয়ে ইহুদিবাদের পদানত করে রাখা। মুসলমান তথা মুসলিম রাষ্ট্রগুলি ধংস করার ইহুদী পরিকল্পনায় বেশ জোরালোভাবেই আজ পশ্চিমা মোড়লরা কাজ করে যাচ্ছে। তবে ইহুদীবাদী এইসব মহাপরিকল্পনায় যে মুসলিম বিশ্বের সমূহ ক্ষতি হচ্ছে তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। পশ্চিমা তাঁবেদার মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানরা শুধু নিজেদের ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে গিয়ে মুসলিম জনপদের যে ক্ষতি করছেন তা কিন্তু সাধারণভাবেই দেখা যায়। মনে রাখা দরকার নিজ দেশে এইসব ইসলামী জঙ্গী সংগঠন গড়ে উঠতে এসব মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানরাই ইহুদী মাষ্টার মাইন্ডারদের প্রেসক্রিপশান মোতাবেক অর্থ ও অস্ত্রের যোগান দিয়েছেন। অর্থ, অস্ত্র ও ইসলামী জোস্ এইসব অর্ধশিক্ষিত ও অশিক্ষিত মুসলমানকে আজ ধর্মান্ধ জঙ্গী বানিয়েছে।
 ইসলামী চেতনার মূলে কুঠারাঘাত করছে অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত জঙ্গী সংগঠনের লোকেরা। ইসলামের ঝান্ডা হাতে ১৪০০ বছর আগের সেই বর্বর আরবীয় যুগের শাসনের হাতছানি তাদেরকে অন্ধ করে দিয়েছে। আজ সারা মুসলিম বিশ্ব এই তথাকথিত মৌলবাদী সশস্ত্র জঙ্গীদের তৎপরতায় অতিষ্ট। অন্ধকার যুগের অশিক্ষার মোহ আজ একবিংশের বটতলায় দাঁড়িয়ে মুসলমানদেরকে তাদের চলার পথে কণ্টকাকীর্ণ করে তুলেছে। মৌলবাদের ধ্বজাধারী এই ইসলামী জঙ্গীরা সারা দুনিয়ায় ইসলামের চেতনার মূলে কুঠরাঘাত করছে। ফলে মানব জাতির সহবস্থানের এই ভূমন্ডলে ইসলামী শৌর্য প্রতিনিয়ত ভূলুন্ঠিত হচ্ছে। 
অসা¤প্রদায়িক চেতনার পূণ্যভূমি বাংলাদেশেও এই অপতৎপরতার কিছু কিছু আলামত পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নামে মৌলবাদী গোষ্টী তাদের জঙ্গী তৎপরতা চালানোর নিমিত্তে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। একটা সময় গেছে যখন সরকারী পৃষ্টপোষকতায় এদেশের ধর্মভীরু মুসলিমদের সামনের সারিতে আনা হয়েছে। সে সময়ের ইসলামী জোসের জৌলুষ ও মধ্য প্রাচ্যীয় পেট্রোডলারের অঢেল সরবরাহ সাধারণ জনপদে একটি অস্থিরতার আবহ সৃষ্টিতে সহায়ক হয়েছে। পরবর্তীতে মূল চেতনার সহজ পাঠে মানুষ তার অস্তি¡ত্বকে চিনতে পেরেছে। ফলে ইসলামী পাঠের মূলমন্ত্রে বাংলার মানুষ এখন ইসলামী সার্বজনীনতায় নিজের উঠানকে পরিশুদ্ধ করেছে। এখনও যেসব অশিক্ষা কুশিক্ষায় বাংলার উঠানে ইসলামকে কলুষিত করার ছিটেফোঁটা বাতাবরন চলছে তা মেরামতে আমরা হাত লাগিয়েছি। এসব অশিক্ষা কুশিক্ষার আবর্জনাকে সমূলে উৎপাটনের লক্ষে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক আন্দোলন যুগপতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। সরকারের উচিত হবে তৃণমূলে নজরদারী বাড়িয়ে মেীলবাদের এই প্রোথিত শিকড়কের জড় উৎপাটনের কার্যক্রম গ্রহণ করা। সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য তথা আরব বিশ্বে কর্মী প্রেরনে যথাযথ মনিটরিং এর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্ব হতে ফেরত কর্মীদের প্রত্যেকের বিষয়ে ডাটা-বেইস খোঁজ খবর রাখার প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য। 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT