Main Menu

বিশ্বে বছরে বাড়ছে ৮ কোটি মানুষ

বিশ্বে প্রতি বছরই বাড়ছে ৮ কোটির বেশি মানুষ। বর্তমান ৭৮০ কোটি জনসংখ্যার সঙ্গে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে আরও ২০০ কোটি যোগ হবে।

অর্থাৎ আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে মোট জনসংখ্যা ৯৭০ কোটিতে উন্নীত হবে। শনিবার (১১ জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি শতকের শেষ দিকে বিশ্বের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ১১০০ কোটিতে। প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি, প্রজননের হার হ্রাস ও জনসংখ্যা হ্রাসমান দেশের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিশ্ব জনসংখ্যার গড় বয়স বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ৭০ বছরে বিশ্বের জনসংখ্যা তিনগুণ বেড়েছে।

প্রতি বছর ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘কোভিড-১৯ প্রতিরোধ করি, নারী ও শিশু স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করি।’ বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সমাধান করতে এ দিবসকে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ।

১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালনা পর্ষদ এ দিনটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৭৭ সালের ১১ জুলাই বিশ্বে সম্মিলিতভাবে ৫০০ কোটি জনসংখ্যা অতিক্রম করলে এটি চিহ্নিত হয়। ১৯৯০ সালের ১১ জুলাই ৯০টিরও বেশি দেশে এটি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হয়েছিল।

জাতিসংঘ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে বছর ঘুরলেই ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাড়ছে। নতুন অনুমান অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যার যে বৃদ্ধি হবে তার অর্ধেকের বেশি হবে ৯টি দেশে।

সেগুলো হল- ভারত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইথিওপিয়া, তাঞ্জানিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্বে জনসংখ্যার আঁতুড়ঘর এশিয়া। বিশ্বজুড়ে মোট জনসংখ্যার ৬১ শতাংশই (৪৭০ কোটি) রয়েছে এ অঞ্চলে। আফ্রিকায় ১৭ শতাংশ (১৩০ কোটি) ও ইউরোপে রয়েছে ১০ শতাংশ (৭৫ কোটি)।

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৯ শতাংশ এশিয়ার দেশ চীনে এবং ১৮ শতাংশ ভারতে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ২০২৭ সালে ভারত চীনকে ছাড়িয়ে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

২০১০ সাল থেকে ২৭ দেশ বা অঞ্চলে ১ শতাংশ বা তার বেশি জনসংখ্যা হ্রাস পেতে দেখা গেছে। ধারাবাহিকভাবে প্রজনন হার কমে যাওয়ার কারণে এ হ্রাস পাচ্ছে।

২০৫০ সালের মধ্যে চীনের জনসংখ্যা দুই দশমিক দুই শতাংশ কমে যাবে। ইউরোপের কিছু দেশে জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় এ অঞ্চলে বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমে যাবে।

অন্যদিকে আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলের জনসংখ্যা ২০৫০ সাল নাগাদ দ্বিগুণ হবে। ওই সময়ের মধ্যে বিশ্বের মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধির অর্ধেকই হবে আফ্রিকায়।

শুক্রবার জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘যদিও সামগ্রিকভাবে বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে, তবে এ বৃদ্ধি অসম।

বিশ্বের সবচেয়ে স্বল্পোন্নত দেশের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জগুলো আরও জোরদার হয়েছে। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও সামনে হাজির হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মাতৃমৃত্যু হ্রাস এবং অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের অগ্রগতি সত্ত্বেও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে আমরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবাসহ নারীর অধিকারের প্রতি ধাক্কা দেখছি।

এখনও ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ গর্ভাবস্থায় জড়িত ইস্যু। বৈশ্বিক প্রজনন হার ১৯৯০ সালে ছিল প্রতি নারীতে ৩.২, তা ২০১৯ সালে কমে ২.৫-এ দাঁড়িয়েছে।

সেটি ২০৫০ সালে কমে ২.২ হবে। জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়া রোধ এবং এক প্রজন্মকে আরেক প্রজন্ম দ্বারা প্রতিস্থাপন করতে প্রতি নারীতে প্রজনন হার থাকতে হয় ২.১।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গরিব দেশগুলোর মানুষ বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ৭ বছর কম বাঁচেন। ১৯৯০ সালের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৬৪.২ বছর থেকে বেড়ে ২০১৯ সালে ৭২.৬ বছর হয়েছে। তা ২০৫০ সালে আরও বেড়ে ৭৭.১ বছর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৯৫০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল ২৫০ কোটি। গত ৭০ বছরে তা তিনগুণ বেড়ে ৭৮০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে।

১৯৫৫ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল ২৮০ কোটি, যা এখন দুই দেশ- ভারত ও চীনেই রয়েছে। ১০০ কোটি জনসংখ্যা ছিল ১৮০৪ সালে। পরবর্তী ১২৩ বছরে ১৯২৭ সালে হয় ২০০ কোটি। ৩৩ বছরে ১৯৬০ সালে ৩০০ কোটি ছাড়ায়। এর পরের মাত্র ১৪ বছরে ১৯৭৪ সালে ৪০০ কোটি, ১৯৮৭ সালে ১৩ বছরে ৫০০ কোটি, ১৯৯৯ সালে ১২ বছরে ৬০০ কোটি ও ২০১১ সালে ১২ বছরে ৭০০ কোটি হয়।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT