Main Menu

খেলাধুলা

জালাল উদ্দিন আহমেদ: স্বপ্ন দেখা ভাল কিন্তু অবাস্তব বা অলীক স্বপ্ন না দেখাই শ্রেয়। আমরা আমাদের ক্রিকেট ফুটবল বা হকি নিয়ে এমন এমন স্বপ্ন দেখি যা বাস্তবে রূপ দেয়া শুধু অবাস্তবই নয় অসাধ্যও বটে। খেলাধুলায় কোন ভাল খবর হলে দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে যখন সবাই উচ্ছ্বসিত হন পাশাপাশি বাংলার ১৬ কোটি জনগন আনন্দে ভেসে যায়। কিন্তু তা ক্ষনিকের জন্য হবে কেন? আশির  দশকের সেই দাপুটে ফুটবলকে যদি তখন থেকে সস্নেহে লালন করা হোত তাহলে আজ কি ফুটবলের এই দশা হোত?  সে সময় লক্ষ্য করতাম পাড়ায় মহল্লায় যেন উৎসবের আমেজ। বাড়িতে বাড়িতে আবাহনী মোহামেডানের পতাকা পতপত করে উড়তো। মানুষজনের মুখে মুখে খেলোয়াড় এমনকি রেফারীদের নাম পর্যন্ত আলোচনায় থাকতো। আজকে ক্রিকেটে দেশ এগোচ্ছে। মিডিয়ার বদৌলতে শাকিব মাশরাফিরা আজকাল জাতীয় বীর। কিন্তু ক্রিকেট কার্যক্রম কতিপয় মানুষ কিংবা রাজনীতির আধিপত্যে যদি এভাবে চলতে থাকে তবে গণেশ উল্টানোর পর তা কি কক্ষপথে থাকতে পারবে? কোন কিছুর লক্ষ্য নিয়ে এগোলে তার জন্য একটা মহা পরিকল্পনা বা সুনির্দ্দিষ্ট ছক নিয়েই মাটিতে পা ফেলা উচিত। পরিকল্পনার দুটো দিক থাকে। একটি দীর্ঘমেয়াদী অপরটি স্বল্পমেয়াদী। স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনায় হয়তোবা সাময়িক চমক দেয়া যেতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা না থাকলে কাঙ্খিত চাহিদায় কখনোই সুফল আসতে পারে না। আমরা ফেসবুকে বা খবরে প্রায়শই দেখি বার্সিলোনা তাদের পাইপ লাইন তৈরীর জন্য ক্লাস ওয়ান থেকে একাডেমী স্কুল পরিচালনা করে। ক্রিকেট হকি কাবাডিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য পাশর্^বর্তী দেশের ব্যক্তি ও কর্পোরেট পর্যায়ে সেকি প্রাণান্ত। এসব ছোট ছোট উদাহারন আমাদের বোধদয়কে কবে নাড়া দেবে! আমাদের কর্তারা এসি রূমে বসে প্রেস ব্রিফিং দিয়েই তার দায়িত্বের ষোলকলা পূর্ণ করেন। মাঠের লোক কোথায়? জহুরীরা কোথায়? যারা মনি-মানিক্য খোঁজার জন্য মাঠ ঘাট চষে বেড়াবে। এবং এই জহুরীদের ক্রীড়া পরিষদ বা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সর্বতোভাবে লালন করা হবে। সেটা কি আছে আমাদের দেশে? মেধার খোঁজ করার জন্য নিয়োজিত মেধাবীদের কি কদর আছে আমাদের এখানে। নাম কা ওয়াস্তে হয়তো থাকতেও পারে কিন্তু তা ভিক্ষার চাল কাড়া আঁকাড়ার মত নয় কি? মান্যবররা একটা পদ পেলে তখন ওই চেয়ার আর বন্ধ এসি রূম ছাড়া আর কিছুই ভাবতেই পারেন না। লক্ষ কোটি টাকা খরচ করে বিদেশী কোচ এনে কি হবে! যাদেরকে দিয়ে গাছে ফল ধরাতে হবে তাদের পেটে কি ভাত আছে? আর আধুনিক ক্রীড়া ব্যবস্থায় বছরের কতটুকু সময় তাদের সম্পৃক্ত রাখা হয়। কি খাদ্যাভাস কি ব্যায়ামাভাস এমনকি দৈনন্দিন চলাফেরার নিয়মানুবর্তিতায় তারা কতটুকু পরিশুদ্ধ! সে মনিটরিং এর ব্যবস্থা এখানে কতটুকু! আমাদের একটা ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আছে। তাদের কাজ কতটুকু জবাবদিহিতায় পরিশুদ্ধ! বাজেট আর বরাদ্দ দেয়া ছাড়া আর কিছু কাজ কি দৃষ্টিগোচরে পড়ে! আর বাজেটের সিংহভাগ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হয় স্টাডি ট্যুর নয়তোবা কোন ম্যানেজেরিয়াল প্রশিক্ষণ কোর্সের জন্য খরচ করার মচ্ছ্বব দেখি। বিদেশে ক্রীড়া প্রতিনিধি পাঠানোর প্রহসনে খেলোয়াড়দের বি ক্যাটাগরিতে রেখে ম্যানেজমেন্ট গ্রুপকে এ ক্যাটাগরির ডিএসএ বা অন্যান্য বোনাস ভাতা দেয়ার সুবন্দোবস্ত করা হয়। এগুলো শোনা কথা। সেই ছোট থেকেই শুনছি এসব কথা। সুতরাং যা রটে তা তো ঘটেই। নইলে এখনও তা শুনবো কেন? 

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় খেলাগুলোকে গন্ডিভূত করতে হবে। এজন্য মফস্বল ভিত্তিক স্কুল পর্যায় হতে শৃংখলা তৈরী করতে হবে। আর একটা কথা না বললেই নয়। পৃষ্টপোষক তৈরীর জন্য বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহ দিতে হবে সর্বোচ্চ পর্যায় হতে। দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল বা অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় ফটো সেশন করে বিভিন্ন আর্র্থিক প্রতিষ্ঠান বা করপোরেট বডিগুলো চেক হস্তান্তরে বেশ স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। সেক্ষেত্রে এই নবটার কিছুটা অন্ততঃ খেলাধুলা বা সামাজিক উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার দিকে ঘুরিয়ে দিলে কেমন হয়? পার্শ্ববর্তী দেশের দিকে তাকিয়ে আমরা তো এসব শিক্ষা নিতেই পারি। তাদের ক্রিকেট কাঠামো বাদই দিলাম। কিন্তু অন্যান্য খেলাধুলার মানোন্নয়নের জন্য গত দু এক বছরে তাদের সে কি প্রাণান্ত। ফ্রানচাইজিগুলোর স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ এবং মিডিয়ার এগিয়ে আসা- এসব কি আমাদের দেশপ্রেমী সংগঠক ও বিভিন্ন পেশা ও গ্রুপের জনপদকে নাড়া দেয় না। সবকিছুতেই সরকার কেন? সরকারী সম্মতির প্রয়োজন থাকতে পারে। কিন্তু সবক্ষেত্রেই সরকারী কোষাগারের দিকে তাকিয়ে থাকলে কি আর এগিয়ে যাওয়া যাবে? যারা সংগঠক এমনকি সংস্থাগুলির পদাধিকারী অথবা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের গদিনশীন সরকারী আমলারা যদি উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট মাইন্ডসেট নিয়ে একযোগে কাজ করেন তাহলে জট বা জং লাগার প্রশ্নই আসে না।  বিভিন্ন খেলাধুলাকে জনপ্রিয় ও জনসম্পৃক্ত করার মানসে বাংলাদেশে কি একটি টিভি চ্যানেল খোলা যায় না যারা চব্বিশ ঘন্টা শুধু বাংলাদেশের খেলাধুলা নিয়েই ব্যস্ত থাকবে। এতে করে বহুল প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা খেলাধুলায় সেইসব প্রাণশক্তি নিজস্ব স্বকীয়তায় প্রস্ফুটিত হবে। সেক্ষেত্রে জাতি তখন ক্রীড়া জগতের বিভিন্ন শাখায় আস্তে ধীরে বিকশিত হতে থাকবে। দেশ জনসংখ্যার চাপ এবং বেকারত্বের ভারে আজ নুব্জ। হতাশার কালো ছায়ায় আজ দেশে তরুন-যুবারা মাদকাশক্ত কিংবা অবৈধ কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে। এসব অশুভ ছায়ার হাত থেকে তরুনদের উদ্ধারের একমাত্র পথ হচ্ছে তাদেরকে ক্রীড়ামনস্ক কিংবা সাংস্কৃতিক আবহে জড়ানো। সাম্প্রতিক সময়ের বিকেএসপি বা বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর মহতি উদ্যোগে আমারা আমাদের ক্রীড়া চর্চাকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু সরকারী প্রচেষ্টার পাশাপাশি তা যদি বেসরকারী পর্যায়ে একটি সুনির্দ্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে এগাতে চায় তাহলে এর চেয়ে সোনায় সোহাগা আর কি হতে পারে। আমাদের সৌভাগ্য-আমরা একজন ক্রীড়া মনস্ক সরকার প্রধান পেয়েছি। পেয়েছি একজন উঠতি বয়সের ক্রীড়া প্রেমিক মন্ত্রী। এমতাবস্থায় বিভিন্ন বড় বড় ফ্রনচাইজি বা কর্পোরেট হাউজগুলো কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ক্রীড়ঙ্গনে তাদের আয় বা ট্যাক্সের কিছুটা ব্যায় করলে দেশ ও জাতি দুই দিক থেকেই লাভবান হবে। আশা করি সরকার তথা রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায় থেকে  সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনার মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি কর্ম পরিকল্পনার দিকে সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন।  


 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT