Main Menu

নামীদামি স্কুল কলেজ বিক্রির তালিকায়

সাধারণ পণ্য সামগ্রীর মতোই বিক্রি হচ্ছে স্কুল কলেজ। করোনাকালের এই সঙ্কটে সারা দেশেই এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিক্রির হিরিক পড়েছে। ছোট প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিক্রির এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নামীদামি অনেক প্রতিষ্ঠানও। দীর্ঘ দিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আর্থিক দুরবস্থার কারণেই মূলত এসব প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দিচ্ছেন মালিকপক্ষ। আর এতে বিপাকে পড়ছেন ওই সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বিক্রি নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু করোনার এই ক্রান্তিকালে এই ধরনের অনেক প্রতিষ্ঠান এক সময়ে বিক্রির প্রবণতা এখন অনেকটাই বেড়ে গেছে। গত প্রায় ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দেশের যে পরিমাণ স্কুল-কলেজ বিক্রি হয়েছে গত দুই মাসেরও কম সময়ে বিক্রির সেই মাত্রা এখন ছাড়িয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুল-কলেজ বিক্রির নতুন নতুন খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রির এই তালিকায় প্রথমে রয়েছে কিন্ডারগার্টেন। এরপর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, কোচিং সেন্টার ও বিভিন্ন প্রফেসলান কোর্সের ক্লাব বা কোচিং।

বিক্রি হওয়া প্রতিটি স্কুল বা কলেজের সাথে জড়িত কয়েক শত শিক্ষার্থী এবং অনেক শিক্ষক। স্কুল পুনরায় খুললে এসব শিক্ষার্থীর ভাগ্যে কী আছে তারা জানেন না। অন্য দিকে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকারাও জানেন না প্রতিষ্ঠানের মালিকানা পরিবর্তন হলে তাদের চাকরি থাকবে কিনা? অথবা চাকরি থাকলেও বকেয়া বেতন কিংবা বেতন কাঠামো আগের মতো ঠিক থাকবে কিনা? ফলে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তনের সাথে সাথে হয়তো বদলে যাবে সেখানকার শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষকদের দিনলিপি। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের ধরনও পাল্টে যেতে পারে। অর্থাৎ স্কুল-কলেজের পরিবর্তে সেখানে নতুন মালিকের খেয়াল খুশিমতো অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানেরও সূত্রপাত হতে পারে। এসব নানা ভাবনাই বিক্রি হওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মনের মাঝে উঁকি দিচ্ছে।

এ দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন সড়কে কম্পিউটার কম্পোজ করা সাদা কাগজের একটি বিজ্ঞাপন দেয়ালে দেয়ালে সাঁটানো রয়েছে। বিজ্ঞাপনে লেখা ফার্নিচারসহ স্কুল বিক্রি হবে। সেখানে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বরও দেয়া হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিজ্ঞাপনদাতা তকবীর আহমেদ  জানান, তিনি নিজেই স্কুলটির মালিক। মোহাম্মদপুরে বেড়িবাঁধের ঢাকা উদ্যান এলাকার নবীনগর হাউজিং ৪ নম্বর সড়কে অবস্থিত ফুলকুঁড়ি কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। অনেক স্বপ্ন নিয়ে তিনি শিশুদের এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। করোনাকালে বিদ্যালয়ের টিউশন ফিসহ সব রকম আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থ সঙ্কটে পড়ে তিনি বিদ্যালয়টি এখন বিক্রি করে দিতে চান।

এই প্রতিষ্ঠানটি ছাড়াও পুরান ঢাকার আরো দু’টি স্কুল বিক্রির জন্য চেষ্টা করছেন মালিকপক্ষ। তবে তারা বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না। মিরপুরের আরো একটি প্রতিষ্ঠান বিক্রির প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। তারাও এটি করছেন গোপনে। এ ছাড়া করোনার এই সঙ্কটে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও অনেক কিন্ডারগার্টেন বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, করোনায় যে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেসরকারি স্কুল-কলেজ তথা কিন্ডারগার্টেন মালিকরা। আমাদের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই ভাড়া বাড়িতে। শিক্ষার্র্থীদের বেতনের ওপর নির্ভর করেই আমাদের সব ব্যয় চালাতে হয়। গত চার মাস ধরে একটি টাকাও ইনকাম নেই। ফলে বাসা ভাড়া ও শিক্ষকদের বেতনই দিতে পারছি না। ফলে বাধ্য হয়েই অনেকে প্রতিষ্ঠান বিক্রি করছেন।

তিনি আরো জানান, করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বন্ধ আরো দীর্ঘায়িত হলে দেশের প্রায় ৬০ ভাগ কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে যাবে। সেইসাথে বেকার হয়ে পড়বেন প্রায় ১০ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। সরকারের আর্থিক সহায়তা না পেলে এই ১০ লাখ পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়বে। অতীতে কখনো সরকারের কাছে বেতনভাতার জন্য আবেদন করিনি আমরা। বাধ্য হয়ে গত সপ্তাহে আমরা শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সাথে দেখা করে স্মারকলিপি দিয়েছি। উপমন্ত্রী বলেছেন, দাবিটি শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আলাপ করবেন এবং পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানাবেন।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT