Main Menu

করোনায় আটকে যাওয়া ছবিগুলোর ভবিষ্যৎ কী?

বিশ্বজুড়েই এখন চলছে মহামারী করোনাভাইরাসের তাণ্ডব। বাংলাদেশেও টালমাটাল অবস্থা। ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে চারদিকে। ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সব সেক্টর। দেশের শোবিজ অঙ্গনও এর বাইরে নয়। প্রভাব পড়েছে সমানভাবে। বন্ধ হয়ে আছে সব সিনেমার শুটিং।

সরকার সীমিত আকারে কাজ শুরু করলে সিনেমা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোও ঘোষণা দেয় শুটিংয়ে আর বাধা নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করতে পারবেন সবাই। অনেকেই প্রস্তুতি নিয়েছেন শুটিংয়ে যাবেন বলে। আবার অনেকেই চুপসে আছেন পরিবর্তনের অপেক্ষায়। এমনিতেই ঢাকাই ছবির অবস্থা বেহাল। সিনেমার সোনালি দিন অতীত; এখন কেবলই ইতিহাস। বছরে একশটিরও বেশি দেশি ছবি মুক্তি পাওয়ার রেকর্ড থাকলেও ক্রমান্বয়ে সেটা গত বছর এসে ঠেকেছে ৪৫-এ।

এর মধ্যে ব্যবসা সফল ছবির সংখ্যা ছিল মাত্র একটি! ২০২০ সালটি হতে পারত সিনেমার বছর। কারণ ঢাকাই ছবির বাজার চাঙা করার জন্য এ বছরটিতে ছিল সব বিগ বাজেটের ছবি। কিন্তু সে আশায় এখন গুড়েবালি। করোনাভাইরাস গ্রাস করে নিল সব কিছু। শুটিং করার অনুমতি পেলেও যেতে পারছেন না অনেক নির্মাতা প্রযোজক শিল্পী ও কলাকুশলী। অপেক্ষা করছেন সুসময়ের এবং অবস্থা পরিবর্তনের। তবে এ বছর বিগ বাজেটের অধিকাংশ ছবির শুটিং ছিল শেষের পথে। হয়তো দু-চার দিন কাজ করলেই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু এখন তাও বন্ধ।

২০২০ সালের আলোচিত বিগ বাজেটের ছবির মধ্যে ছিল চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল ও বর্ষা অভিনীত ছবি ‘দিন : দ্য ডে’। এ ছবির কাজ প্রায় ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এ ছবিটি পরিচালনা করছেন ইরানি পরিচালক মুর্তজা অতাশ জমজম। এ পর্যন্ত শুটিং হয়েছে ইরান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশে। চলতি বছরের শুরুর দিকে বেশ কিছু দৃশ্যসহ গানের শুটিং করার কথা ছিল তুরস্ক ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে।

কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সেটা আর সম্ভব হয়নি। ফলে ঘোষণা অনুযায়ী ছবিটিও মুক্তি পাচ্ছে না। কবে নাগাদ শুটিংয়ে যাবেন সেটাও নিশ্চিত নন ছবির নায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছবিটির অল্প কিছু অংশের শুটিং বাকি। ইচ্ছা ছিল বাকি অংশটুকু বিদেশে শুটিং করার। গল্প অনুযায়ী সেটাই ডিমান্ড। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শুটিং করছি না। করোনার প্রভাব কমলে তখন চিন্তা করব কী করা যায়।’

পূর্ণাঙ্গ পুলিশি অ্যাকশন ছবি ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর দ্বিতীয় কিস্তি ‘মিশন এক্সট্রিম’। এটিও চলতি বছরের বিগ বাজেটের ছবি। এ ছবির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। রোজার ঈদে মুক্তির কথা ছিল। কিন্তু কোরবানি ঈদেও সেটা আসবে না। কারণ করোনাভাইরাস। কবে নাগাদ আবার মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে সেটা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না ছবির দুই পরিচালকের একজন ফয়সাল আহেমদ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শুটিং শেষ হয়েছে অনেক আগেই। বেশিরভাগ ডাবিংও শেষ। বাকি আছে অল্প কিছু। ফাইনাল কিছু কারেকশন, ভিএফক্সের এডিটিং বাকি আছে। শিগগিরই এগুলো শেষ করে দেয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু ভাইরাসের প্রভাবের কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। কাজ শেষ হলে মুক্তির সময় জানাতে পারব।’

চলতি বছর ‘ঢাকা-২০৪০’ ও ‘অপারেশন সুন্দরবন’ নামে আরও আলোচিত দুটি ছবি নির্মাণ করছেন দীপঙ্কর দীপন। এর মধ্যে অপারেশন সুন্দরবন র‌্যাবের অপারেশন বেইজ ছবি। এটিও বিগ বাজেটের। এ ছবির শুটিংও পরিচালক প্রায় শেষ করে এনেছিলেন। কিন্তু শেষ হাসি হাসতে পারেননি করোনাভাইরাসের কারণে। এ প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, ‘অপারেশন সুন্দরবন ছবির তিন দিনের শুটিং বাকি আছে ঢাকার অংশের।

চলতি মাস পুরো দেখব অবস্থা কী হয়। এরপর সিদ্ধান্ত নেব শুটিংয়ে যাব কিনা।’ একই পরিচালকের আরেক ছবি ‘ঢাকা-২০৪০’ও শেষ করার কথা ছিল চলতি বছরের মাঝামাঝি। কিন্তু সেটাও হয়নি। এ ছবি প্রসঙ্গে দীপঙ্কর দীপন বলেন, ‘করোনার আগেই এ ছবির শুটিং বন্ধ ছিল। তবে সিডিউল ছিল এপ্রিলের দিকে। এ ছবির আউটডোরের দৃশ্য বেশি। তাই এখনই বলতে পারছি না কী করব। এ ছবির ক্ষেত্রেও অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেব।’ ছবিগুলোর অভিনয়শিল্পী রিয়াজ, নুসরাত ফারিয়া, সিয়ামরাও এখনই শুটিংয়ে ফিরতে নারাজ। পরিস্থিতি বুঝে তবেই তারা কাজ করতে আগ্রহী।

তিন ছবি নিয়ে তরুণ নির্মাতা রায়হান রাফিও এ বছরটি মাতিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। তার আশায়ও জল ঢেলেছে করোনাভাইরাস। এর মধ্যে ‘পরান’ নামে একটি ছবির সব কাজ শেষ। ছিল শুধু মুক্তির অপেক্ষা। অন্যদিকে ‘ইত্তেফাক’ ছবির শুটিং বন্ধ হয়ে গেছে করোনার কারণে। আর ‘স্বপ্নবাজি’র তো সিডিউল নিয়ে শুটিংই শুরু করতে পারেননি। তাই বছরটি অনেকটা হতাশার এ পরিচালকের জন্য।

তিনি বলেন, ‘আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি শুটিং করার জন্য। তবে এখনই যাব না, কারণ আমি আরও একটু সময় নিয়ে দেখতে চাই পরিস্থিতি কোথায় যায়।’ নির্মাতার সুরে একই কথা বলেন ‘স্বপ্নবাজি’ ছবির নায়িকা মাহিয়া মাহি। তিনি বলেন, ‘আসলেও তো এখন অবস্থা খুব খারাপ। এ মুহূর্তে শুটিং করা তো খুব রিস্কি। তাই আর কিছুদিন যাক। পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেই সবাই চেষ্টা করব কাজ করার।’

বাজেট যাই হোক, এ বছর আলোচনায় ছিল আরও একটি ছবি। সেটি হচ্ছে নাদের চৌধুরী পরিচালিত ‘জিন’। আলোচনায় থাকার মূল কারণ, এ ছবিতে জুটিবদ্ধ হয়েছেন নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা আব্দুন নূর সজল ও চিত্রনায়িকা পূজা চেরি। এ ছবির মুক্তির তারিখও নির্ধারণ করা ছিল। কিন্তু সেখানে বাদ সাধে করোনাভাইরাস। এটি প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, ‘আমরা তো পহেলা বৈশাখে ছবিটি মুক্তি দিতাম। পোস্ট প্রোডাকশন শেষের পথেই ছিল। অল্প কিছু কাজ বাকি ছিল। করোনাভাইরাস সেটা আটকে দিয়েছে। সমস্যা কেটে গেলেই হলে মুক্তি দেয়ার চেষ্টা করব। নতুবা বিকল্প পদ্ধতি ইন্টারনেটে মুক্তি দেয়ার কথাও মাথায় আছে। সব কিছুই পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।’

অপরদিকে ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’ নামে দুটি ছবি নিয়ে বেশ খাটছিলেন নির্মাতা নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল। ছবি দুটির মাধ্যমে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাও দীর্ঘদিন পর পর্দায় ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সেটা আর সময়মতো হল না। কবে নাগাদ আবার শুটিং শুরু হবে সেটাও নিশ্চিত নয়। ছবি দুটি প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, ‘এখন শুটিং করতে গেলে বেশ কিছু ঝামেলা আছে। যদি পূর্ণিমা আপু, ফেরদৌস ভাই, মিলন ভাই, তারিক আনাম ভাই কাজ করতে চান তাহলে আমি পরিকল্পনা করব শুটিংয়ের। আমি তো কাউকে চাপ দিতে পারব না। কাজ যেহেতু শুরু হয়েছে তাই এর মধ্যে এডিটিংগুলো করে রাখব।’ দুই ছবির অভিনেতা ফেরদৌস আহেমদ বলেন, ‘এ মুহূর্তে শুটিং করার ইচ্ছা নেই আমার। আরও কিছুদিন দেখে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এলে তারপর সিদ্ধান্ত নেব।’

শাকিব খানের বাইরে চিত্রনায়িকা শবনব বুবলীকে দেখা যাবে না- প্রচলিত এ ধারণা ভেঙে চিত্রনায়ক নিরবকে সঙ্গে নিয়ে সৈকত নাসির শুটিং শুরু করেছিলেন ‘ক্যাসিনো’ নামে একটি ছবির। বুবলীর সব দৃশ্যের শুটিংও শেষ করেছেন বলে জানিয়েছেন পরিচালক। কিন্তু ছবির কাজ শেষ করতে পারেননি। তাই এ বছর মুক্তির বিষয়টিও অনিশ্চিত।

ছবিটি প্রসঙ্গে নায়ক নিরব বলেন, ‘এখন দেশের যে অবস্থা তাতে করে তো ঘরের বাইরে যাওয়া মুশকিল। কিছুটা দিন আরও দেখে এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কাজ করব।’ একই পরিচালক ইমনকে নিয়ে ‘আকবর’ নামে একটি ছবির কয়েকটি দৃশ্য ও একটি গান করেই আটকে গিয়েছেন। এ ছবিগুলোও সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বেশ আলোচনায় ছিল।

অনেকে বলছেন, উপরোক্ত ছবিগুলো মুক্তি পেলে ঢাকাই ছবির বাজার গত কয়েক বছরের তুলনায় কিছুটা হলেও চাঙা হতো। সেই আশায় কাজও চালিয়ে যাচ্ছিলেন সবাই। কিন্তু করোনাভাইরাস শুধু এসব ছবির ভবিষ্যতই নয়, পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে দুমড়েমুচড়ে দিয়েছে। সেখান থেকে হয়তো জোড়াতালি দিয়ে আবারও পথ চলতে হবে, কিন্তু সেই চলাটা আগের মতো তো বটেই, গত বছরের মতোও হবে না বলেই অনেকের ধারণা।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT