Main Menu

হানিফের দেশ ত্যাগ, আ.লীগে তোলপাড়

আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করার জন্য কানাডা গেছেন, এটা পুরনো খবর। হানিফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাঁর দুই সন্তান এবং স্ত্রী কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে। তাঁদের সঙ্গে দেখা করতেই তিনি কানাডা গেছেন।

কানাডার ই’মিগ্রেশন আইন অনুযায়ী করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণে শুধুমাত্র কানাডার নাগরিকদের নিকটতম আ’ত্মীয় এবং অভিভাবক ছাড়া অন্য কারো কানাডায় প্রবেশ এখন নিষিদ্ধ। এই সময়ে হানিফ কিভাবে কানাডায় গেলেন এই নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে।

তবে এইসব প্রশ্ন ছাপিয়ে সবথেকে বড় যে বিষয়টি আওয়ামী লীগের মধ্যে তোলপাড় তুলেছে তা হলো যখন করোনা মোকাবেলার জন্য আওয়ামী লীগ রীতিমত যুদ্ধ করছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সকাল-সন্ধ্যা পরিশ্রম করছেন, নির্দেশনা দিচ্ছেন, যখন আওয়ামী লীগের অন্তত ১৫ জন এমপিসহ শতাধিক নেতাকর্মী করোনায়

আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন, একাধিক মন্ত্রী করোনায় শয্যাশায়ী, আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী এবং এমপি মা’রা গেছেন, সেই সময়ে মাহবুব উল আলম হানিফের কানাডা যাওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আওয়ামী লীগে মাহবুব উল আলম হানিফের উত্থান নাটকীয়ভাবে।

তিনি তৃ’ণমূল থেকে বেড়ে ওঠা নেতৃত্ব নন বলে অনেকে অভিযোগ করে। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বদন্যতা এবং কৃ’পায় তিনি নেতৃত্ব পেয়েছেন- এমন কথা আওয়ামী লীগের মধ্যে কান পাতলেই শোনা যায়। বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের পর হাসানুল হক ইনুকে কৌশলগত কারণে মনোনয়ন দেওয়া হলে হানিফকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এইসময় তিনি কুষ্টিয়া অঞ্চলে হাসানুল হক ইনুর প্রভাব বলয় নষ্ট করার জন্য কাজ করেন এবং আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান। এই সময়ে আওয়ামী লীগের একটি বৈঠকে মাহবুব উল আলম হানিফ কুষ্টিয়ার একটি আসন থেকে মনোনয়ন চান।

প্রধানমন্ত্রী তখন তাঁকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দায়িত্ব ছেঁড়ে দিয়ে নির্বাচন করতে বলেন। এরকম টা’নাপো’ড়েনের মধ্যেও মাহাবুব উল আলম হানিফ নির্বাচন করেন এবং বিজয়ী হন। আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। দুই দফা যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর এবার তাঁর সঙ্গে থাকা যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে অন্তত দুজন দলের প্রে’সিডিয়ামে চলে গেলে মাহবুব উল আলম হানিফের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়।

এর পর থেকেই তিনি এক প্রকার নিষ্ক্রিয় ছিলেন। করোনা সঙ্কটের সময় দু-একদিন তাঁর বক্তব্য বিবৃতি ছাড়া সেরকম কিছু চোখে পড়েনি। মাহবুব উল আলম হানিফের পরিবারের সদস্যরা কানাডার স্থায়ী বাসিন্দা কিনা সে বিতর্ক পরের বিষয়।

কিন্তু আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই সময়ে তাঁর কানাডা যাওয়া কি সঠিক হয়েছে? যখন আওয়ামী লীগ করোনা মোকাবেলায় রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে এবং বিভিন্ন আমলারা রাজনীতির গলা টিপে ধরার নানান চেষ্টা করছে, সেসময় মাহবুব উল হানিফ কেন মাঠ ছেঁড়ে চলে গেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশে অ’নিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি যাদেরকেই কাছে নিয়েছেন, তারাই শেখ হাসিনার বিশ্বাসের প্রতিদান দিতে পারেননি, বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পারেননি। এই প্রসঙ্গে উদাহরণ দিয়ে ঐ নেতা বলেন যে, সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে শেখ হাসিনা ডাকসুর ভিপি পদে মনোনয়ন দিয়েছিলেন এবং সেজন্যেই তিনি ডা’কসুর ভিপি হতে পেরেছিলেন।

অথচ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর শেখ হাসিনার সঙ্গে বিশ্বাসঘা’তকতা করেন। মুকুল বোসকে শেখ হাসিনা রীতিমত টেনে তুলে এনেছিলেন রাজনীতিতে। আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক করেছিলেন। কিন্তু মুকুল বোসও

শেখ হাসিনার প্রতি সুবিচার করেননি। ওয়ান ইলেভেনের সময় তিনি বিশ্বাসঘা’তকতা করেছিলেন। যদিও শেখ হাসিনার অসীম কৃ’পায় তিনি এখন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য। আ খ ম জাহাঙ্গীর থেকে শুরু করে আরো অনেক নেতাই আছেন যারা নিজেদের যোগ্যতায় নয়,

বরং শুধুমাত্র শেখ হাসিনার কৃ’পায় রাজনীতিতে এসেছিলেন, তাঁরাই পরবর্তীতে শেখ হাসিনার বিশ্বাসের মূল্য দিতে পারেননি। প্রশ্ন উঠেছে মাহবুব উল আলম হানিফ-ও কি সেই পথেই যাচ্ছেন? কিছুদিন আগে মাহবুব উল আলম হানিফের সঙ্গে দলের টানাপোড়েনের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। বিশেষ করে যখন মন্ত্রিত্ব পাননি এবং প্রেসিডিয়াম সদস্যের সদস্য হতে পারেননি তখন তা নিয়ে তাঁর মাঝে হ’তাশা ছিল।

তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছেন যে, এই দূর্যোগের সময়ে অনেকেই নিজের পরিবারের সঙ্গে থাকতে চান এবং তিনি পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে গেছেন। শীঘ্রই দেশে ফিরে আসবেন। কিন্তু তিনি ফিরে আসলেও আওয়ামী লীগের মধ্যে তাঁকে নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, সেই প্রশ্নগুলোর মী’মাংসা হতে সময় লাগবে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT