Main Menu

ট্রাম্প কি চায়নার সি জিনপিং এর সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন? 

মোঃ শফিকুল আলমঃ আমেরিকার আসন্ন প্রেসিডেনশিয়াল ইলেকশনে ট্রাম্প দ্বিতীয় বার নির্বাচিত হতে চান। নির্বাচনে জয়লাভে তিনি চায়নার প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং এর সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন। এবিষয়ে ট্রাম্পের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন তাঁর মেমোরী গ্রন্থে কি বলেছেন দেখা যাক্।

ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইনিজ প্রেসিডেন্টের সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে। ট্রাম্প চীনের ইতিহাসে সি জিনপিংকে সবচাইতে মহান নেতা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রশংসা করেছেন। ট্রাম্পের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের সদ্য লেখা বই থেকেই ওয়ালস্ট্রীট জার্নাল এই উদ্ধৃতি প্রকাশ করেছেন। বোল্টনের ভাষায় সি জিনপিং এর কাছে সাহায্য প্রার্থনা আমেরিকার রীতিনীতির বাইরে, এমনকি এই আবেদন অলিখিত এবং ট্রাম্প পূন: নির্বাচিত হওয়ার অনুপ্রেরনা থেকেই একেবারেই ব্যক্তিগতভাবে এই সাহায্যের আবেদন করেছিলেন।

বোল্টন আরও লিখেছেন ট্রাম্প এবং সি জিনপিং এর কথপোকথন কেবলমাত্র তাঁর ট্রেড পলিসির সাথেই অসংগতিপূর্ণ নয় বরং ট্রাম্পের নিজের স্বার্থ এবং আমেরিকার জনগনের স্বার্থের সাথেও সংযোগ স্থাপন করেনা। ট্রাম্প যে শুধু ট্রেড পলিসির ক্ষেত্রেই নিজের স্বার্থ এবং জাতীয় স্বার্থকে মিশ্রিত করেছেন তা’ নয়। সাবেক এই নিরাপত্তা উপদেষ্টার মতে ট্রাম্প বরং পুরো জাতীয় নিরাপত্তাকেই তাঁর নিজস্ব স্বার্থের সাথে একাকার করেছেন। বোল্টন তাঁর হোয়াইট হাউজের মেয়াদকালে নিষ্পিষ্ট ছিলেন এবং তাঁর বিবেচনায় ট্রাম্প প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পূন: নির্বাচনকে বিবেচনায় রাখতেন এবং ক্যালকুলেশন করে নিতেন।

বোল্টন সুনির্দিষ্ট করে লিখেছেন প্রায় সকল ফরেন পলিসি এবং সিকিউরিটি পলিসি ট্রাম্প একইভাবে গ্রহন করেছেন। তাঁর মতে ডেমোক্র্যাটরা যদি গভীরভাবে তলিয়ে দেখতে সক্ষম হতো তা’হলে তারা সফলতার সাথে ইমপিচমেন্ট কার্যকর করে ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজ থেকে রিমুভ করতে সমর্থ্য হতো।
বোল্টন লিখেছেন এধরনের অসংখ্য কথপোকথন বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্প করেছেন যা মৌলিকভাবেই আমেরিকার প্রেসিডেন্সির সাথে আইনগতভাবেই সাংঘর্ষিক।

বোল্টনের মতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনীত ইউক্রেন স্ক্যান্ডেল এবং ইমপিচমেন্ট আনায়নেও ডেমোক্র্যাটরা সময় নিয়ে এবং পদ্ধতিগত এ্যাপরোচ করেনি। বরং ট্রাম্পের ফরেন এবং সিকিউরিটি পলিসি নিয়ে পদ্ধতিগতভাবে এগোলে বেটার আউটকাম নিশ্চিত করতে পারতো।

বোল্টন বলেন বেশ কিছু ক্ষেত্রে চায়নায় এবং টার্কিতে আমেরিকান কিছু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল ওফেন্স থাকা সত্বেও সরাসরি ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি তদন্ত থেমে গেছে। আমেরিকায় তদন্তে হস্তক্ষেপ সরাসরি বিচারকার্যে হস্তক্ষেপের সামিল। প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে কোনো পর্যায়ে আমেরিকার আইন কাউকে বিচারকার্যে হস্তক্ষেপের অধিকার দেয়না। অবশ্য পৃথিবীর সর্বত্রই হয়তো এই আইন রয়েছে। কিন্তু অনুন্নত দেশের সরকার প্রধানগন অহরহ একাজটি করে থাকেন।

বোল্টন হোয়াইট হাউজ থেকে বের হয়ে বইটি লিখেছেন। কিন্তু ওয়ালস্ট্রীট জার্নাল এই প্রথম তাঁর বই থেকে শিরোনামটি উদ্ধৃত করেছে। ট্রাম্প বলেছেন বইটিতে বোল্টন ক্লাসিফাইড ইনফরমেশন লিক্ করেছেন এবং বোল্টনের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার হুমকি দিয়েছেন।

বোল্টন বলেন এমনকি ট্রাম্প জানতেননা যে বৃটেন এক সময় নিউক্লিয়ার পাওয়ার কান্ট্রি ছিলো। তিনি (ট্রাম্প) এমনকি জানতেন ফিনল্যান্ড এক সময়ে রাশিয়ার অংশ ছিলো। সি জিনপিং এর সাথে ২০১৯ এ জুনের বৈঠকে ট্রাম্প বলেন যে জনগনের একটি অংশ দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর অংশগ্রহন রদ করার ব্যাপারে কথা বলছেন। এবং তখনই প্রঙ্গক্রমে আসন্ন নির্বাচনে পূন:নির্বাচিত হতে সি জিনপিং এর সাহায্য প্রার্থনা করেন। তিনি কৌশলে আমেরিকার সয়া বিন এবং কৃষি পন্যের ওপর চায়নার নির্ভর্শীলতার কথাও উল্লেখ করেন।

বোল্টন বলেন তখন ট্রাম্প চাইনিজ নেতাকে চায়নার ৩০০ বছরের ইতিহাসে মহান নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ট্রাম্প  এই মেমোরী গ্রন্থের প্রকাশনা বন্ধে দ্বিতীয়বারের মতো বৃহস্পতিবার আদালতে তাঁর পক্ষে আবেদন উত্থাপন করা হয়। ফক্স নিউজের সাথে ট্রাম্প বলেন এই মেমোরী গ্রন্থ প্রকাশ করা আইনবিরোধী হবে কারন এখানে হাইলি ক্লাসিফাইড ইনফরমেশন রয়েছে। ট্রাম্প বলেন বোল্টন আইন লংঘন করেছেন।

অপরদিকে ডেমোক্র্যাট রিপ্রেজ্নটেটিভ এ্যাডাম স্কিফ বলেন বোল্টন ইমপিচমেন্টের সময় আদালতে সাক্ষ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি গ্রন্থ রচনা করার জন্যই সেদিন আদালতে এসব তথ্য ফাঁস করতে চাননি। বই এর কাটতির জন্য তিনি একজন দেশপ্রেমিক হতে পারেননি। তিনি হয়তো একজন ভালো মেমোরী লেখক হবেন।

বোল্টন বলেন ডিসেম্বর ২০১৮ তে বুয়েনস এয়ার্সে জি২০ সম্মেলনে ডিনারে জিনপিং মনে করছিলেন হয় ট্রাম্প ইউএস ট্যারিফ তুলে নিবেন বা নতুন করে অন্তত প্রয়োগ করবেননা। কিন্তু ট্রাম্প বললেন ২৫% বৃদ্ধি না করে ১০% ট্যারিফ প্রয়োগ করা হবে। কারন জি২০ সম্মেলনে বসার পূর্বে ২৫% প্রয়োগের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে কৃষিপ্রধান স্টেটগুলোর ভোট পেতে ট্রাম্প কৃষিপন্যের ওপর ট্যারিফ আরোপ করেননি। ট্রাম্পের এই ঘোষনা অবশ্য তখন চাইনিজ নেতার মাঝে কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস এনে দিয়েছিলো।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT