Main Menu

যুবলীগের সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে রাজধানীতে আরেক রিফাতকাণ্ড

গত বছরের ২৬ জুন সকালে বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে রিফাত শরীফকে তার স্ত্রী মিন্নির সামনেই কুপিয়ে জখম করে একদল লোক। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বর্বরোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় খুব দ্রুত; চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় দেশজুড়ে; বিবেকবান প্রতিটি মানুষ স্তম্ভিত হয়ে পড়েন খুনিদের উন্মত্ততা দেখে। সে ঘটনার ভয়াবহতা মানুষের মন থেকে এখনো মুছে যায়নি। এরই মধ্যে ঘটেছে আরেক রিফাতকাণ্ড। এবার খোদ রাজধানীতে, সেই একই রকম পৈশাচিকতায়। ঈদুল ফিতরের আগের দিন বিকালে ঘটে যাওয়া এবারের কাণ্ডের শিকার হতভাগ্য যুবকের নাম মামুন (২৬)। তিনি এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের ২৮ নম্বর বেডে বাঁচার জন্য লড়াই করছেন।

স্রেফ বিরিয়ানি কেনাকে কেন্দ্র করে বাদানুবাদের জেরে স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতিতে জড়িত মাদককারবারি কসাই সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা মামুনের ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। অথচ মামুন কিছুই জানতেন না। তর্ক হয়েছিল তার এক বন্ধুর সঙ্গে। সেই বন্ধুকে না পেয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মামুনেরর ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার পুরো দৃশ্য ধরা পড়েছে ঘটনাস্থলের পাশেই অবস্থিত একটি ভবনের বাসিন্দার মোবাইল ফোনে। সেই ক্লিপ এসেছে এ প্রতিবেদকের হাতেও। রাজধানীর পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনের ৪ নম্বর সড়কে ঘটেছে ন্যক্কারজনক এ হামলা।

এ ঘটনায় মামুনের বড় ভাই নাসিরউদ্দিন মিলন বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার পল্লবী থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন। আসামি করেছেন স্থানীয় সন্ত্রাসী মো. সালাউদ্দিন ওরফে কসাই সালাউদ্দিন, হানিফ, ফয়সাল হোসেন ও রাজুসহ অচেনা ৭ থেকে ৮ জনকে। প্রাপ্ত ভিডিওতে রাস্তায় ফেলে মামুনকে গরু কাটা ছুরি দিয়ে নির্মমভাবে কোপানোর দৃশ্য ভেসে উঠেছে। সেখানে এজাহারভুক্ত ৪ আসামি ছাড়াও অচেনা ১২ থেকে ১৩ যুবকের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর পেরিয়ে গেছে ৬ দিন। কিন্তু গতকাল শনিবার বিকাল পর্যন্ত হামলাকারীদের টিকিটিও ছুঁতে পারেনি পুলিশ। অথচ বাদী বলছে  আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাসায় ঘুমাচ্ছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের ধরছে না।এদিকে নিরপরাধ মামুনের ওপর হামলাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে স্থানীয়রা।
কসাই সালাউদ্দিনসহ অন্য হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও তাদের শাস্তির দাবিতে গত শুক্রবার বিকালে মিছিল নিয়ে পল্লবী থানার সামনে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। পুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলে সেøাগান দিতে দেখা গেছে তাদের।

অন্যদিকে বাদীর অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই মো. আসাদুজ্জামান আসাদ গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, আসামিরা পালিয়ে থাকায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, পাঁচ বছর আগেও পল্লবীর মুসলিম বাজার এলাকায় ফুটপাতে বসে বিরিয়ানি ও মাংস বিক্রি করতেন কসাই সালাইউদ্দিন। ধীরে ধীরে জড়িয়ে পরেন স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতিতে। দোকানের আড়ালে মাদকের কারবার চালিয়ে অল্প সময়েই টাকার কুমির বনে যান তিনি। এখন মিরপুরেই সালাউদ্দিনের ৩টি বাড়ি; একাধিক ফ্লাট, ২টি দামি প্রাইভেটকার; রাইস এজেন্সি, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, বিরিয়ানির দোকানসহ ১০টিরও বেশি দোকান। ক্যাডার বাহিনীর সদস্যদের কিনে দিয়েছেন দামি মোটরসাইকেলও। থানা পুলিশের সঙ্গেও সালাউদ্দিনের রয়েছে গভীর সখ্য। তাই আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ।

 

গতকাল মামলার বাদী নাসিরউদ্দিন মিলন জানান, আহত মামুন পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশন, ত-ব্লকের একটি বাসায় সপরিবারে থাকতেন। গার্মেন্টে প্রিন্টিং মাস্টার পদে কাজ করতেন তিনি। গত ২১ মে বিরিয়ানি খেতে পল্লবীর মুসলিম বাজারে কসাই সালাউদ্দিনের ‘বিসমিল্লাহ বিরিয়ানী হাউজ’-এ যান মামুনের বন্ধু রানা ও হৃদয়। দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখার পরও বিরিয়ানি সরবরাহ না করায় দোকান কর্মচারীদের সঙ্গে রানা ও হৃদয়ের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে ঈদের আগের দিন বেলা ৩টার দিকে ফিল্মি স্টাইলে সদলবলে প্রকাশ্যে গরু কাটার অস্ত্রহাতে মহড়া দিয়ে দুই বন্ধুকে এলাকায় খুঁজতে থাকে সালাউদ্দিন। ১২ নম্বর সেকশনের ৪ নম্বর সড়কে আশিকের বাসার সামনে হৃদয়কে পেয়ে যায় তারা। মারধরের একপর্যায়ে কোনো রকমে দৌড়ে পালিয়ে বাঁচেন তিনি। বিধি বাম; নামাজ শেষ করে এ সময় ওই পথ দিয়েই যাচ্ছিলেন মামুন। তাকে পেয়ে হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে আসামিরা। মারধরের একপর্যায়ে গরু কাটার ছুরি দিয়ে মাথায় এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে কসাই সালাউদ্দিন। হানিফের লাগাতার ছুরিকাঘাতে বের হয়ে যায় মামুনের নারী-ভুঁড়ি এমনকি পাকস্থলীও। দুই পায়ের পেছনে এবং কোমরে একের পর এক কোপাতে থাকে ফরহাদ হোসেন। এ সময় মা-মা বলে চিৎকার করলেও মন গলেনি পাষ-দের। অন্য হামলাকারীদের অব্যাহত লাথি-ঘুষিতে একপর্যায়ে লুটিয়ে পড়েন মামুন। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে বীরদর্পে হেটে যায় হামলাকারীরা। আহত মামুনকে প্রথমে নেওয়া হয় স্থানীয় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাকে স্থানান্তর করা হয় ঢামেকের আইসিইউতে।

নাসিরউদ্দিন মিলন বলেন, মামুন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার পাকস্থলী এখনো দেহের বাইরে। যে কোনো সময় খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সেই কা-ের এত দিন পরও পুলিশ একটা আসামিও ধরতে পারল না! অথচ কসাই সালাউদ্দিনসহ অন্য আসামিরা প্রকাশ্যেই ঘুরছে এলাকায়। অনেকেই তাদের দেখেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বলার পরও গ্রেপ্তার হচ্ছে না তারা।

ছোট ভাইয়ের প্রাণ নিয়ে শঙ্কিত মিলন বলেন, মামুন এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেই হামলাকারীদের সাঙ্গোপাঙ্গোদের হুমকি-ধমকিতে মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি আমরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন মামলার বাদী মিলন।ভিডিও click here

উৎসঃ   আমাদের সময়


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT