Main Menu

দেশরত্ন - দেশনেত্রী - গণতন্ত্র

জালাল উদ্দিন আহমেদ: এত এত গৌরবের ইতিহাস আমাদের। আর তা নিয়েই তো আমরা গর্বিত জাতি হিসাবে পৃথিবীতে মাথা উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের এমন একজন মহান নেতা আছেন যিনি শুধু দেশেরই নয়, তাবত দুনিয়ার স্বাধীনতাকামী মানুয়ের কাছে তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং বজ্রকণ্ঠের নিনাদ আহ্বান মুক্তিকামী জনপদে মুক্তির আলো জ্বালিয়েছে। তাইতো তিনি বাঙালী জাতির পিতা হয়ে আজ চিরভাস্মর। তারই যোগ্য উত্তরসুরী আজ দেশ মার্তৃকার সেবাই সদা উ”চকণ্ঠ। জনগনের ভালবাসায় তিনি আজ জননেত্রী ও দেশরত্ন খেতাবে অলংকৃত। ওদিকে স্বাধীনতা ঘোষণা পাঠের মহান সেনানীর জায়া নেতৃত্ব শূণ্য জনপদে দেশনেত্রী তক্মা নিয়ে দেশ ও জনগণের ভালবাসায় সিক্ত। ইতিহাস পরম্পরায় স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দীর হিংসভাগ সময়ে এই দুই পরিবারের বলয়ে দেশের ক্ষমতার চক্রযানটি ঘূর্ণায়মান। দেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্র বলতে যা বুঝাই তা শুধুমাত্র রাজনীতির এই দুই পরম সৌভাগ্যবান উত্তরাধিকারীর বলয়েই পরিচালিত হয়। ফলে বিকশিত হওযার মুখে বার বার এদেশের গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়ছে। কেননা দেশ ও রাজনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা যখন দেখছেন তারা নিজেরাই নিজেদের বিকল্প, তখন মনুষ্য প্রবৃত্তির নিয়মেই তারা একনায়ক মনোভাব নিয়ে নিজেদেরকে ভাবতে পছন্দ করছেন। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই ক্ষমতা নেওয়া ও তার ব্যবহার সম্পর্কে তারা প্রবল পরাক্রমশালী হয়ে উঠছেন। এবং এভাবেই দেশের রাজনীতি এবং ক্ষমতা নামের সোনার হরিণটি তাদের হাতের মধ্যেই মুঠোবন্দী হয়ে বার বার হোচট খাচ্ছে।    
ইতিহাসের খেরোখাতা বড়ই নিষ্ঠুর। তিক্ত বাঙালী প্রতিনিয়ত এক অজানা আশংকায় থাকে।  জানি না সে পথেই হাঁটা হচ্ছে কিনা। তবে ইতিহাস থেকে যারা বা যে জাতি শিক্ষা নেয় তারাই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থেকে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটা বাসযোগ্য সমাজ ও রাষ্ট্র রেখে যেতে সক্ষম হয়। কে জননেত্রী কিংবা কে দেশনেত্রী এটা প্রশ্ন নয়। প্রশ্নটা হচ্ছে কে কতটা পারঙ্গমতার সঙ্গে তার রাজনীতি ও দেশনীতি পরিচালনা ক’রে জন-সম্পৃক্ততার নিরিখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সেটাই মুখ্য। এই মূহূর্তে দেশে গণতন্ত্রের নামে যা কিছু হচ্ছে তা অবশ্যই সমর্থনযোগ্য নয়। ক্ষমতার র্কুসি দখলের মানসে দেশের দুটি বৃহত্তম দল জনসম্পৃক্ততাহীন হেন কর্ম নেই যা তারা করছে না। ফলশ্রুতিতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির চরমতম পর্যায়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। দেশনেত্রী ও দেশরত্নের গণতান্ত্রিক চর্চার এই ভুখন্ডে এখন জনতার কর্মচারীরাও প্রকাশ্য হয়ে মাঠে-ঘাটে সাধারনের ত্রাস হয়ে বিচরন করতে দেখা যায়। কেউ সাংবাদিক পেটায়, কেউবা প্রকাশ্যে কৃষককে কান ধরে উঠবস করায়। এহেন ত্রিধারা অপকর্মের যাঁতাকলে পিষ্ট আজ বাংলার জনপদ। গণতান্ত্রিক চর্চার মূল আকর্ষণ হচ্ছে জনসংযোগ, জনসভা, মিটিং, মিছিল ইত্যাদির মত মুক্ত চর্চাগুলি মুক্তভাবে সবার জন্য অব্যাহত রাখা। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা এসব মৌলিক অধিকারের বিষয়গুলি তাদের নিজের মত করে লীজ নিয়ে ফেলেছে। যেদিন থেকে ক্ষমতার হালখাতায় তাদের নামটি তারা লিপিবদ্ধ করিয়েছে তখন থেকেই এইসব মিটিং মিছিল জনসভা তারা তাদের মত করে সাজিয়ে নিয়েছে। আজ দুর্ভাগা এদেশে মিটিং মিছিল করার জন্য জনতার কর্মচারীর কাছে অনুমোদনের জন্য ধর্না দিতে হয়। অথচ এটা নিতান্তই রাজনৈতিক বিবেচনার বিষয়, যেখানে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হুকুম তালিমের উপলক্ষ মাত্র। অথচ জনসভা অনুষ্ঠানের অনুমোদনের নামে এক উদ্ভট অথচ লজ্জাস্কর নাটক এই রাষ্ট্রাচারে পরিলক্ষিত হচ্ছে। লক্ষ্য করা যায় ক্ষমতার বাইরে থাকা সম্মানিত রাজনীতিবিদকে হাতে দরখাস্ত নিয়ে একজন ঊর্দিপরা কর্মচারীর অফিস বারান্দায় ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষমান থাকতে হয় তাদের জনসম্পৃক্ততার কাঙ্খিত জনসভার অনুমোদন নেয়ার জন্য। অথচ ওই কর্মচারীর মাথার উপর বসে থাকা বস্ যিনি নিজেও একজন জনসেবক এবং রাজনীতিবিদ যিনি আইন শৃংখলা জনিত ব্যাপার বলে বিষয়টি ওই কর্মচারীটির ঘাড়ে ফেলে দিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন। ফলে প্রজাতন্ত্রের বেতনভূক ওই কর্মচারিটিও রাজনৈতিক নেতার মতই আস্ফালন করে জানান দেয় আমিও আছি তোমাদের এই গণতন্ত্রের (!) শরিকানায়। আজ দেশে হচ্ছেটা কি? শিষ্টাচারের কোন নিক্তিতে এই কর্মধারাগুলিকে ফেলা যায়?
 মহান নেতার যোগ্য উত্তরসূরী আজ জননেত্রী। দেশরত্নও বলা হয় তাকে। ওদিকে মহান সেনাপতি ও রাষ্ট্রনায়কের জায়া দেশনেত্রী হিসাবে বহুল পরিচিত। এতো আমাদের গর্বের বিষয়। অথচ ক্ষমতার দাপটে এই দুই ভাগ্যবান উত্তরসূরী আমাদের জন্য কি উপহার দিচ্ছেন! প্রধানমন্ত্রীর তখ্তে বসে কিংবা হাউজে অথবা জনসভায় এই দুই ভাগ্যবান জননেত্রী বা দেশনেত্রী যেসব বাক্য ব্যায় করেছেন বা করে যাচ্ছেন তা কি সমর্থনযোগ্য? মহান নেতার যোগ্য উত্তরসূরীর একনিষ্ঠ বশংবদরা যেভাবে জনপদে ঘৃণার অঙ্গার ছড়াচ্ছেন তাও কি সমর্থনযোগ্য? ক্ষমতার চেয়ারে বসেই রাজনীতির উভয় পক্ষ দেশকে একমুখী রাষ্ট্রাচারের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করানোর অপচেষ্টায় মত্ত হয় যা গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাায় মোটেও সুখকর নয়। ওদিকে মহান সেনাপতির ইমেজে প্রাপ্ত সাধারণ মানুষের সহানুভূতি ও ভালবাসার জায়গাটিকে অন্যজন যেভাবে অপচয় করে সাধারনে ঘৃণার আসর ছড়াচ্ছেন তাও কিন্তু সমর্থনযোগ্য নয়। বরং রাষ্ট্রাচারের সাধারণ নিয়মে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে। উত্তরাধিকারের এই রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে একজন তার মতো করে গণতন্ত্র রক্ষায় ব্যতিব্যস্ত আছেন। আর অন্যজন গণতন্ত্র উদ্ধারের নামে মাসের পর মাস দেশ ও জনপদকে জিম্মি করে রেখে রাজনীতির নেগেটিভ ধারনাকে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রাণপাত করে যাচ্ছেন। একজন ক্ষমতার দাপটে রাষট্রাচারের সমস্ত মেকানিজমকে দলীয় অবয়বে বোতলবন্দী করতে অন্তঃপ্রায়। অন্যজন ক্ষমতায় যাওয়ার মানসে জন সম্পৃক্ততাহীন প্রেস রিলিজ কিংবা টেলিপ্যথিক ম্যাসেজে মাসের পর মাস দেশকে অবরোধ ও হরতালের বিষাক্ত থাবায় জর্জরিত করেছেন। ক্ষমতার দাপটে রাষ্ট্রযন্ত্রের সমস্ত মেকানিজমকে কুক্ষিগত করে ক্ষমতাসীনরা যেভাবে গণহারে বিরোধী বিনাসে উন্মত্ত হয়েছে তাতে করে অচিরেই দেশ বিরোধী মুক্ত হবে বলে তাদের আশা। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাায় এ এক অশনি সংকেত বৈ আর কি হতে পারে?
 রাজনীতি, প্রশাসন, আইন ও শৃংখলার প্রতিটি স্তরে যখন দেশের এই গণতন্ত্র (এবি) সংস্করণ চালু রেখে দেশের উন্নয়নের ডঙ্কা বাজানো হয় তখন এরই ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠা আমাদের এই প্রিয় উপাধিগুলি কতটুকু জৌলুষতা ছড়াচ্ছে তা সময়ই বলে দেয়। উত্তরাধিকারের জৌলুষতায় পুষ্ট গণতন্ত্রের এই দুই মানস কন্যা কোন্ নিক্তিতে চড়ে এত প্রবল পরাক্রমশালী শাসক হয়ে দেশে গণতন্ত্রের বুনিয়াদ বিনির্মান করতে চাচ্ছেন তা ভাবলেই গা শিউরে উঠে। 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT