Main Menu

দেশে জঙ্গী উত্থানের ইঙ্গিত

জালাল উদ্দিন আহমেদ: বর্তমান বিশ্বে জঙ্গীবাদ একটি মূর্তমান আতংক। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের সৃষ্ট ইসলামী জঙ্গীবাদ এখন তার নিজস্ব স্বকীয়তায় প্রকট আকার ধারন করেছে। বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ শব্দটি এসেছে এক দশক আগে। তবে এর বীজ বপন কিন্তু বহু আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। সত্তর আশির দশক থেকেই ভাগ্যান্বেষনের জোয়ারে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমা দেশ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে অবাধে মানব সম্পদ রপ্তানী শুরু হয়। ঐ সময় থেকে কিছু কিছু জায়গায় শুভংকরের ফাঁকির মত এদেশের কিছু বেকার ও মাদ্রাসা পড়–য়া লোককে ইসলামী জোশে উজ্জিবিত করা হয়। আর এ কাজটি খুব সুচারুরূপে করা হয়েছিল। বাংলাদেশ বিরোধী পাকিস্থানী প্রেতাত্মারা পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে তাদের চলাফেরা ও রাজনীতি করার অবাধ সুবিধা পাওয়াতে মাষ্টার প্লান অনুযায়ী এদেশে আবার তাদের বিষাক্ত থাবা বসানোর কাজে হাত দেয়। পেট্রোডলারের মোহময় লোভে বেকার যুবক ও কৃষকের সন্তানেরা কাজের প্রকৃত ধরন না জেনে অনেকেই বাধ্য হয়ে প্যালেস্টাইন ও কাশ্মীর যোদ্ধা হতে বাধ্য হয় সেসময়। আর এ কাজটি করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের কিছু গোঁড়া মুসলিম দেশ সরাসরি অর্থ সাহায্য প্রদান করে। শোনা যায় মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক ইসলামী প্রতিষ্ঠান ও শীর্ষ পর্যায়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত এই ফান্ড কিছুটা পাকিস্থানে প্রশিক্ষণ খরচ হিসাবে চলে যেত। পাকিস্থানী শাসকেরা সেখানে ট্রেনিংপ্রাপ্ত কিছু যোদ্ধাকে কাশ্মীরে নাশকতার কাজে প্রেরন করতো। এভাবেই জীবিকা অšে¦ষনে মধ্যপ্রচ্যে যাওয়া বাঙালীদের একটি অংশকে পরিকল্পিতভাবে প্যালেস্টাইন ও কাশ্মীর জেহাদের যোদ্ধা বানানো হয়। তাদের অধিকাংশই হয় মৃত্যুবরন করে নতুবা জেল জুলুম খেটে দেশে ফিরে আসতে শুরু করে নব্বইএর শেষের দিকে। আর একটি প্রক্রিয়া এদেশে নিয়তই ঘটে চলেছে তা হলো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি প্রতিবছর বাছাইকৃত তরুন যুবাদের উচ্চশিক্ষার নামে বিদেশে প্রেরন করছে একটি সুনির্দ্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে। ওরাও দেশে ফিরে আসছে উচ্চশিক্ষা নিয়ে। নির্দিষ্ট একটি মতাদর্শের অর্থায়নে স্কলারশীপ নিয়ে উচ্চ শিক্ষাপ্রাপ্ত ওইসব তরুন যুবারা দেশে ফিরে কে কোথায় আছেন বা কি ধরনের কাজে দেশে ব্যপৃত আছেন তার একটি চালচিত্র থাকা প্রয়োজন। কেননা তাদের মুরুব্বীরা তো এখনো এদেশে বহাল তবিয়তে নিজস্ব আইডোলজি নিয়েই রাজনীতির মে  সরব। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্য থেকে সারাজীবন চাকরী ব্যবসা ইত্যাদি করে অনেকেই এখন দেশে ফিরে আসছেন। প্রচুর ধন সম্পত্তির মালিক হয়ে অনেকেই এখন দেশ গ্রামে বিশাল দানবীর বা মুরুব্বী হয়ে তার প্রতিপত্তি এবং প্রভাব বিস্তার করছেন। সুতরাং এই তিনটি গ্রæপ অর্থাৎ কপালের ফেরে প্যালেস্টাইন বা কাশ্মীর যোদ্ধা যারা যুদ্ধবাজ অথচ নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরেছেন। দ্বিতীয়টা হলো পেট্রোডলার উপার্জন করে দেশ গ্রামে ফিরে যারা মুরুব্বী হয়ে তার প্রভাব প্রতিপত্তি নিয়ে খবরদারি করছেন। সর্বশেষ, সুনির্দিষ্ট মতাদর্শের একটি গ্রæপের অর্থায়নে স্কলারশীপ নিয়ে উচ্চশিক্ষিত বিদেশ ফেরত তরুন যুবক। তাদের মধ্যে শতকরা দশ ভাগও যদি সন্দেহের বিন্দুতে জড়িত হয় তাহলেও তা কিন্তু আশংকাজনক। অর্থাৎ এই ত্রয়ী সমন্বয়ে দেশে তাদের মাষ্টার প্লানের কাজ বাস্তবায়নে ওইসকল দেশবিরোধী পক্ষ কাজ করছেন কিনা তা অবশ্যই ভেবে দেখা দরকার। মনে পড়ে, এরকম ঘটনা ঘটেছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সোভিয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতির নামে। কমিউনিজম বিস্তারের পাতা ফাঁদে সে সময় হাজার হাজার বাঙালী তরুন যুবাকে মৈত্রী সমিতির ব্যানারে সোভিয়েত রাশিয়ায় স্কলারশীপ দিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেয়া হয়। অবশ্য সোভিয়েত রাশিয়া চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর কমিনিষ্টদের সেই পাতা চাদর আজ ছিন্ন বিছিন্ন হয়ে গেছে। কিন্তু তাদের গড়ে দেয়া সেই কারিগররা কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশ প্রেক্ষিতে একটি শক্ত পরিমন্ডলেই অবস্থান করছেন।


কিছুদিন আগে ত্রিশালে যেভাবে পুলিশের গাড়ি থেকে জঙ্গী আসামীদের ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটলো তা কিন্তু বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। আগষ্টে যে সিরিজ বোমা সরাদেশে ফাটানো হয়েছিল তাকে কি আলাদাভাবে চিহ্নিত করার অবকাশ আছে! মোটেই না। তাছাড়া মুক্তমনা বøগারদের হত্যা কিংবা সুনির্দিষ্ট নাশকতার ঘটনাগুলিকে আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া ঠিক হবে না। আতংক ছড়ানো এবং এর গভীরতা গোচরে আনার জন্য ইদানীং বিদেশী হত্যা থেকে শুরু করে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানেও তারা পরিকল্পিতভাবে আঘাত হানছে। ট্রেনিংপ্রাপ্ত কাশ্মীর ও প্যালেস্টাইন যুদ্ধ ফেরত জেহাদীরা এবং ইসলামী অনুদানে শত শত ডিগ্রীধারী চিন্তকরা সমন্বিতভাবে নিজেদেরকে সংগঠিত করছে বা করতে পারে বলে সন্দেহ করাই যায়।। আর পেট্রো ডলার উপার্জন করা গ্রামের ওইসব মরুব্বীরা সামজিক নিরাপত্তাহীনতার কাজে জড়িত কিনা তাও ভেবে দেখা দরকার। মনে রাখতে হবে দেশ বিরোধী ও একাত্তরের মানবতা বিরোধীরা এদেশে জঙ্গীবাদের বীজ রোপনে প্রতি নিয়ত তাদের নীল নক্সা প্রণয়নে ব্যস্ত রয়েছে। অবশ্য কলকাঠি নাড়াচ্ছে সেই সকল অদৃশ্য নেতৃত্ব ও চক্র, যাদের শতকোটি ডলারের মাষ্টার প্ল্যানে আজ গোটা মুসলিম বিশ্ব ছিন্নভিন্ন। সুতরাং হালকা ভাবে দেখলে চলবে না। এসব কাজ কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।  


আমরা বাঙালী অতি শান্তিপ্রিয় ও অল্পে সন্তুষ্ট জাতি। এসব ঘটনা প্রবাহ ও প্রচলিত ঘটনাগুলি সবই জানি কিন্তু এত সহনশীল ও উদার নৈতিকতা নিয়ে কি আর দেশ চলে?  সুতরাং গোড়ায় আঘাত করতে হবে। নইলে এরকম ত্রিশাল ঘটনা সামনে আরো অপেক্ষা করছে বলেই মনে হয়। রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও সামাজিক যুথবদ্ধতায় ছোটখাট ক্রাইম রোখা যাবে কিন্তু পেট্রো ডলারের হাতছানি এবং মাষ্টার মাইন্ডের কালো হাতগুলি ভাংতে না পারলে জঙ্গীবাদ নির্মুল করা হনুস্ত দূর।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT