Main Menu

পতাকা

তারিকুল খান

একবার প্রশ্ন করি:

আমাদের পতাকার মাঝখানে গোলাকার লাল আর চারপাশ সবুজ, তোমাদের কাছে তা লাগছে কেমন?

পাঁচ বছরের শিশু বলল,
আমার পুতুলের জামা, সবুজের বুকে লাল গোলাপের বো-টা দেখতে যেমন।

পাঁচ ক্লাস পড়ুয়া বলল,
লালটা যেন শাপলা শালুক, বাকীটা তার পাতার মতন।

দশ ক্লাস পড়ুয়া বলল,
মধ্যখানে শিমুল পলাশ হ্রদয় জুড়ে, সবুজ আছে তাকে ঘিরে।
পৌষ মাচানে লাউয়ের পাতা
শীত হাওয়াতে যেমনি দোলে।

যুবক বলল,
মাঝ বরারবর লাল সূর্য্য আমার প্রিয়ার মন, শিল্পীর হ্রদয় হরন।
বাকীটা বৈশাখের কচিপাতা ধানক্ষেত বাতাস দোলায় যেমন।

যুবতি বলল,
পতাকার লাল রং হল আমার মনের ছায়া,
সকাল সন্ধ্যা লালিমায় মোড়া হরিন চেখের মায়া।
বাকীটা দিগন্তজোড়া পাট ক্ষেত বিস্তর,
কৃষকের স্বপ্নে বোনা বাংলার প্রান্তর।

প্রৌঢ় বললেন,
আমাদের পতাকা স্বাধীন মানচিত্র লাল সবুজে গড়া,
জীবনবোধের ভরসা আমার, এই ভূমিতে বেঁচে থাকা, এই ভূমিতে মরা।

বৃদ্ধ বললেন,
লাল সূর্য্য আমার বার মাস
খুঁজি তারে রোদ পোহানে শীতের সকাল; শ্রাবণ মাসে থাকে মেঘের আড়ে,
জৈষ্ঠে আসে আম কাঁঠাল পাকার কালে।
সবুজে তার বিশ্ব মায়া দূর্বা ঘাসের চার চাতালে।

মুক্তিযোদ্ধা বললেন,
জীবন যৌবন সব দিয়েছি লাল সবুজের তরে;
ঘর পুড়েছে, দেশ জ্বলেছে, সজন গেছে মরে।
হাত গিয়েছে, দাঁত পরেছে, সোনার বাংলা আনতে।
লাল রংটা হ্রদয় ক্ষরণ, সবুজ আমার মায়ের আঁচল।ধন্য হব লাল সবুজে জড়িয়ে কফিন শেষ যাত্রায় চলতে।

রিলিফ চোর বললো,
কি এমন আদিখ্যেতা চিত্তি যায় জ্বলে। চোখের মাপে আড় দৈর্ঘ্য বলতে পারি লাল সবুজের কাপড়খানা যদি দাও এনে।
ত্রানের সময় কাপড়খানা থাকলে;
ক’কেজি চাল বেশী পেতাম
ভাবতে কেমন লাগছে!

ব্যাংক ডাকাত বলল,
বলতো ক’টাকা লাগে তোমাদের ঐ দু’রংয়ের কাপড় খানা কিনতে?
আগে যদি পেয়ে যেতাম,
ঠিকই পারতাম, গোটা বিশেক বাড়তি বান্ডেল পুটলি করে বাঁনতে।
 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT