Main Menu

যুদ্ধঃ করোনা বনাম জীবিকা

জালাল আহমেদ: সরকারী হিসাবে দেখা যায় বাংলাদেশের দারিদ্রের হার ২৫-৩০%। এই দরিদ্রের মধ্যেই রয়েছে দরিদ্র,হত দরিদ্র এবং খেটে খাওয়া কর্মজীবি মানুষ। এসব হিসাব সরকারের খাতায় অবশ্যই রয়েছে।  অবশ্য স্থানীয় প্রশাসন এসব হাঁড়ির খবর ভালই রাখে। ব্যুরো অব স্ট্যাটিক্সের সেই  " টেবিল হিসাবের" দিন এখন আর নাই। আগের দিনে দেখতাম শুমারীর জন্য গ্রামে লোক আসতেন ওই চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছে। এবং তাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের সেই কাজটি সেরে ফেলতেন ওইসব চেয়ারম্যান মেম্বারদের বৈঠকখানায় বসে। এখন দিন বদলেছে। ডিজিট্যালের যুগে এখন বৈঠক খানার হিসাবের দিন শেষ। 
বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ থেকে ১৮ কোটি। সুতরাং জনসংখ্যা ১৮ কোটি ধরেই যদি এগোনো যায় তবে এখনকার সময়ে বাংলাদেশের গরীবের সংখ্যা ৫ কোটি ৪০ লক্ষ। প্রতি পরিবারে যদি ৫ জন  করে মানুষ হিসাব করি তাহলে বাংলাদেশে দরিদ্র পরিবারের সংখ্যা হবে ১ কোটি ৮ লক্ষ। এবং নিম্ন মধ্যবিত্তের একটি সংখ্যা যোগ করে বাংলাদেশে সাহায্য বা রিলিফ পাওয়া পরিবারের সংখ্যা ১ কোটি ৫০ লক্ষ ধরলে দোষের কিছু না। অর্থাৎ আজকের এই মহামারীর দিনে বাংলাদেশে ১.৫ কোটি পরিবার সরকারী রিলিফ বা অনুদান পাওয়ার যোগ্য।
এখন রিলিফ,অনুদান,খাদ্যদ্রব্য বিতরন ইত্যাদির কথায় আসা যাক। প্রতিদিন লক্ষ্য করা যায় গ্রাম,ইউনিয়ন,উপজেলা, জেলা শহর ইত্যাদি এলাকায় মাত্ববর বা নেতা গোছের লোকেরা শত-হাজার মানুষকে মাঠে বা রাস্তায় লাইনে দাঁড় করিয়ে ওইসব চাল-ডাল বা খাদ্যদ্রব্য বিতরন করছেন। পাশাপাশি সেল্ফি নামের ভেল্কিবাজিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাস্যস্পদ হচ্ছেন। এমনকি সরকার প্রদত্ত রিলিফ বা দান-খয়রাত নিয়ে ওইসব মাত্ববর নেতারা নয়ছয় করছেন তাও আমরা ইলেক্ট্রনিক বা প্রিন্ট মিডিয়ায় হর-হামেশা দেখতে পাচ্ছি। একদিকে সরকার আইসোলেশন ও লকডাউনের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বসে আছেন অন্যদিকে সরকারী হোমড়া-চোমড়ারা গ্রামে গঞ্জের মানুষকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনে প্যাকেট বা বস্তা বিতরন করছেন যার স্বপ্রচার এবং মিডিয়ার প্রচার প্রচারনায় আমরা প্রতিদিন অবলোকন করছি। অর্থাৎ লকডাউন ও আইসোলেশনের স্ববিরোধিতা বা দ্বিচারিতা সরকারী সিদ্ধান্তেই সংঘটিত হচ্ছে।
সেক্ষেত্রে করনীয়ঃ 
দেশের অর্থনীতি ও সমাজ জীবনকে সচল রাখার নিমিত্তে সরকার  বিভিন্ন ধরনের অনুদান,প্যাকেজ ও প্রনোদনা ঘোষনা করেছেন। কিন্তু অংকের সরল হিসাবটা বোধ হয় কেউ ধর্তব্যেই আনছেন না। মাস কাবাড়ি হিসাবে ধরলে  বাংলাদেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক এই দেড় কোটি পরিবারকে যদি মাসে ১০,০০০ টাকা করে দেয়া হয় তবে এতে বাংলাদেশ সরকারের খরচ হবে মাসিক ১৫,০০০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে যদি ৬ মাসও সরকার এই ব্যবস্থা চালু রাখে তবে সরকারের খরচ( বিনা পরিশ্রম ও খরচে) এক লাখ কোটির নীচে। সেক্ষেত্রে ওই পরিবারগুলো সরকারী অনুদান হিসাবে প্রাপ্য মাসিক দশ হাজার টাকা দিয়ে তাদের মাসিক জীবন নির্বাহের কাজটি সুচারুরূপেই সম্পন্ন করতে মনোযোগী হবে। এতে করে স্থানীয়ভাবে হাট বাজার ও অন্যান্য অর্থনীতির চাকাও সচল থাকবে। রিলিফ আনা নেয়া ভাগ বন্টন নিয়ে এত এত তেলেস্মাতি নিয়ে আমাদের বিব্রতও হতে হবে না। 
কিন্তু আজকের দিনে যে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে এই লকডাউন ও আইসোলেশন ভাঙ্গার মচ্ছ্বব চলছে এবং তার জন্য সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার অপচয় বা অবচয় হচ্ছে তা দেশকে সচল না রেখে অচল করারই লক্ষ্মন বলে মনে হচ্ছে। কারন যেভাবে বিভিন্ন প্লাটফরম থেকে আনাজ সমৃদ্ধ রিলিফ সেই ষাটের দশকীয় কায়দায় বিলি বন্টন চলছে তাতে করে এক শ্রেনীর গরীব(?) জনগোষ্টী বিশেষ করে গ্রামে গঞ্জে যারা টাউট বাটপার হিসাবে পরিচিত তারা রিলিফের ওইসব মালামাল নিজেদের দখলে নিবে এবং মজুতদার ও মুনাফাখোরীদের কাছে বিক্রি করবে। ফলশ্রুতিতে অচিরেই দেশে খাদ্য দ্রব্যের আকাল পড়বে। এবং দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে বাংলার জনপদ আক্রান্ত হবে। 
সুতরাং করোনা আক্রান্তে ভীত মানুষকে ঘরে রাখতে হলে সৎ চিন্তায় পরিবার পিছু নগদ বরাদ্দ দিয়ে তাদের বাঁচার পথকে সুগম করাটাই শ্রেয় বলে আমি মনে করি। 

মনে রাখা দরকার - বাংলার মানুষ বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। আর বাংলাদেশ বাঁচলে সরকার বাঁচবে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT