Main Menu

ট্রাম্প কি ব্যর্থ হয়েছেন?

মোঃ শফিকুল আলম: ক্রাইসিস মোকাবেলায় নেতৃত্বের পরীক্ষায় ট্রাম্প কি ব্যর্থ হয়েছেন? স্কাই নিউজের ওয়াশিংটন করেসপন্ডেন্ট ক্যামেরুন স্টুয়ার্ডের মূল্যায়ন দেখা যাক্।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রেসিডেন্সির সবচাইতে অন্ধকার সময় পার করছেন। চলোমান বৈশ্বিক মহামারি রাজনীতিতে দৃশ্যত: হেরে যাচ্ছেন। যদি তা’ হয় তবে কি আসন্ন প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে তাঁর হেরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরী হচ্ছে?

তিনি কি তাঁর নিজের কোনো ভুলের জন্য হেরেছেন বা হারছেন? আমেরিকার স্ট্রং অর্থনীতিই তাঁর দ্বিতীয় বার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত করেছিলো। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ব্যর্থ ট্রাম্প ধীরে ধীরে আমেরিকানদের আস্থা হারাচ্ছে। কারন করেনাভাইরাস মোকাবেলার নৌকার হালটি তিনি পরিচালনা করতে পারেননি। আক্রান্তের সংখ্যা এখন মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।

রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি ১৭ টি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি ব্যাটেল গ্রাউন্ডে জরিপে দেখতে পেয়েছে যদি নভেম্বরের পূর্বে অর্থনীতি ঘুরে না দাঁড়ায় তবে ট্রাম্প এই স্টেটগুলোতে হেরে যাবেন।

জরিপে আরও দেখা যায় আমেরিকার দুই তৃতীয়াংশ মানুষ করোনার ভয়ে ভীত যখন ভাইরাস ইতোমধ্যে ৫৫,০০০ জীবন কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু তারা তার থেকেও অধিকতর ভয় পাচ্ছে করোনার কারনে অনভিপ্রেত অর্থনৈতিক পরিনতির কথা ভেবে। 

ট্রাম্প এক কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন। আমেরিকান ভোটারগন যেমন অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন চাইছেন আবার একই সাথে মনে করছেন করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা না করে অতি দ্রুত অর্থনীতি খুলে দেয়া হচ্ছে। কারন এই ভোটারদের অধিকাংশ আবার করোনার ভয়েও ভীত। তারা এও মনে করেন দ্রুত রেসট্রিকশন তুলে নেয়ায় দ্বিতীয়বারের জন্য তারা ভয়াবহ সংক্রমনের শিকার হতে পারেন।

শুধু ট্রাম্পই নন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানগনই উভয় সংকটে পতিত হয়েছেন। এটা অনেকটা ‘Sofie’s Choice’ (দু’টি সমান গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প থেকে যখন একটিকে পছন্দ করতে হয়) এর মতো- পাবলিক হেলথ এবং জীবনধারন। কোনটি বেছে নিবেন সরকার প্রধানগন?

বৈশ্বিক মহামারী মোকাবেলায় ট্রাম্পের নেতৃত্বের অস্থিরতা পূন:নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনার রেখাটিকে অধোপতিত করেছে। আমেরিকানরা তাদের এই ছায়াচ্ছন্ন সময়ে স্নায়ুবিকভাবে দূর্বল রয়েছেন এবং প্রয়োজন ছিলো একজন দৃঢ়চেতা নেতার নেতৃত্ব। কিন্তু যখন প্রেসিডেন্ট মনে করেন ঘরে ঘরে ডিজইনফেকটান্ট দিয়ে করোনাভাইরাস চিকিৎসা করা যাবে তখন তারা সংগত কারনেই গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে।
AP-NORK এর জরিপে দেখা যায় করোনা মোকাবেলায় ট্রাম্পের নেতৃত্বকে মাত্র ৪১% অনুমোদন করেন যখন তাঁর লীডারশীপকে ৫৮% ডিজএ্যাপরুভ করেন। এমনকি করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যা’কিছু তাদের নিজেদের প্রেসিডেন্ট বলছেন তার ওপর মাত্র ২৩% মানুষের বিশ্বাস রয়েছে।

ট্রাম্প এবং তাঁর সাপোর্টারগন অবশ্য এটাকে বামপন্থী মূলধারার মিডিয়াগুলোর মিথ্যা সমালোচনা এবং অপপ্রচার বলে অবিহিত করছেন।
অথচ অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের এ্যাপরুভাল রেট অনেকটা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ক্রাইসিস্ মুহূর্তে সঠিক এবং যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা পায়। সে কারনেই আমেরিকানরা মনে করেন তাদের এই মুহূর্তে সঠিক নেতৃত্ব নেই।

শুরুতেই বিশেষ করে প্রথম তিন সপ্তাহ ফেব্রুয়ারীর শেষ সপ্তাহ থেকে মধ্য মার্চ পর্যন্ত ট্রাম্প করোনা মহামারীর গুরুত্ব এবং এর বিপদ অত্যন্ত খাটো করে দেখেছেন। তার অর্থ তাঁর পদক্ষেপ ছিলো অত্যন্ত ধীর এবং সংক্রমন রোধে বিলম্বিত।

এর পর থেকে ট্রাম্প ন্যাশনাল ফেডারেল রেসপন্স টু ক্রাইসিস এর সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনে জোড়ালোভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। যেহেতু সকল স্টেট সমানভাবে করোনাক্রান্তের শিকার হয়নি তাই তিনি স্টেট গভর্নরদের ওপর স্ব স্ব স্টেটের ইকোনোমি খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন ছেড়ে দেন।

কিন্ত অন্যান্য ইস্যুতেও তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহনে ইতোমধ্যে ইতস্ততা দেখিয়েছেন। তিনি আমেরিকার জাতীয় নেতৃত্বে নির্দেশনা দিতে পারেননি। উল্লেখ্য যে তিনি যুদ্ধচলাকালীন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যবহার করে দেশব্যাপী ব্যাপক সংখ্যক মানুষকে টেস্টের আওতায় আনায়ন করে করোনা মোকাবেলায় কোনো পদক্ষেপ নিতেও অস্বীকৃতি জানান। তিনি বরং দায়িত্ব স্টেট লেভেলে ছেড়ে দেন যেখানে অনেক স্টেটে টেস্টিং কিটের অপর্যাপ্ততা এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে দ্রুত ভাইরাসের সংক্রমন ছড়ায়। ট্রাম্প বরং আমেরিকাব্যাপী টেস্টিং এর সফলতা নিয়ে মিথ্যাচার করছিলেন যখন অন্যান্য বহু দেশ থেকে আমেরিকা অনেক পিছিয়ে ছিলো।

একই সময়ে বরং ট্রাম্প স্টেট গভর্নরদের ওপর ইকোনোমি ওপেন করে দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এক দিকে আমেরিকানদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান করছেন; অপর দিকে ব্যাপক ভিত্তিক টেস্টের ব্যবস্থা করা হয়নি যাতে মানুষ আশ্বস্ত হতে পারে যে স্বাভাবিক জীবনে তারা করোনা দ্বারা সংক্রমিত হবেনা। অস্ট্রেলিয়ায় এই ধরনের আচরন সরকার প্রধানের কাছে পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।

করোনাভাইরাস নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন সময়ের প্রেস কনফারেন্স অনেকটা বিক্ষিপ্ত ছিলো। যে ড্রাগের মানবদেহে ব্যবহার হয়নি এমন ড্রাগের কথা উল্লেখ করে একবার বললেন ইস্টারের পরে ইকোনোমি ওপেন করে দেয়া হবে। আবার ব্যর্থতার দায় চাপালেন স্টেট গভর্নরদের ওপর, চায়না এবং মিডিয়ার ওপর। প্রেসিডেন্টের সর্বোচ্চ একক ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ গ্রহন করে জাতিকে একত্রিত করতে এবং অসংখ্য মৃতের জন্য এমনকি দু:খ প্রকাশ করতেও ট্রাম্প ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে স্কোর করা যায়না।

উইকএন্ডে ট্রাম্পের ডিজইনফেকটেন্ট কমেন্টের পর তাঁর উপদেষ্টারা মনে করছেন প্রেসের সামনে ট্রাম্পের উপস্থিতি কম থাকা বান্চনীয়। অন্যথায় ট্রাম্প নিজেই পূন: নির্বাচিত হওয়ার পথ ক্ষতিগ্রস্ত করবেন। তত্বগতভাবে এই সময়টায় ট্রাম্পের জ্বলে ওঠার সুযোগ ছিলো। আমেরিকানদের ইতিহাস হচ্ছে ক্রাইসিস পিরিয়ডে প্রেসিডেন্টের পিছনে এক কাতারে দাঁড়ানো। ওয়ারটাইম-স্টাইল প্রসিডেন্ট হতে ট্রাম্প ব্যর্থ হয়েছেন।

অপরদিকে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন তাঁর ডেলাওয়ার হোমের বেইজমেন্টে বন্দী হয়ে আছেন। ভোটারগন কদাচিৎ তাঁকে দেখতে পান। তথাপি ট্রাম্পের ব্যর্থতা তাঁকে লীড দিচ্ছে। ০৩ নভেম্বরের পূর্বে এখনও ছয় মাস নির্বাচনের বাকী রয়েছে। জনগনের কাছে ট্রাম্প কি নতুন কোনো ন্যারেটিভ রেখে জনপ্রিয়তা ফিরে পাবেন? বৈশ্বিক মহামারী রোধে তাঁর ব্যর্থ নেতৃত্ব যদিও আমেরিকানদের জীবন অনিরাপদ করে তুলেছে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT