Main Menu

করোনা সাহিত্য নিয়ে কথা

রাশেদুল ইসলাম:আজ লিখতে ইচ্ছে হয়নি । আমার স্ত্রী বলেন,  যিনি  নিজে লেখেন, তিনি  অন্যের লেখা পড়েন না ।  বিশেষ করে আমার স্ত্রীর নিজের কোন  লেখায় আমার  লাইক বা কমেন্ট দিতে দেরী হোলেই,   তিনি এই অভিযোগ করেন । তবে,  তাঁর এই  অভিযোগ সত্য নয় । আমি পারিবারিক শান্তিরক্ষার জন্য আমার স্ত্রীর লেখা তো অবশ্যই পড়ি; এছাড়া  ফেসবুকে যারা  লেখেন, বা  যাদের লেখা আমার নজরে আসে,  প্রায় সবার লেখাই  আমি পড়ি ।  আমি অর্থনীতির ছাত্র । সাহিত্যের ব্যাকারণ আমি  বুঝিনে  । তবে আমার মনে হয়েছে,  এখন যে ধরণের লেখা হচ্ছে – এ লেখাকে  করোনা সাহিত্য বলা যেতে পারে ।  এই  করোনা মৌসুমে  সব লেখাগুলোই সুন্দর । আমি এসবের মধ্যে  কয়েকটা লেখা নিয়েই কথা বলব আজ  ।  
 প্রথমে একটা কবিতা । কবিতার নাম, ‘তিনি তো তোমাদের একার ঈশ্বর নন’।

এই কবিতায় কবি মিনার বসুনিয়া খুব চমৎকার ভাবে করোনার  সর্বগ্রাসী  রুপের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন । কবিতায় কবি  বলতে চেয়েছেন,  ঈশ্বরতো  মানুষের একার ঈশ্বর নয় । এতদিন মানুষের রাজত্ব ছিল । মানুষ সাগর দুষিত করেছে, ডলফিনের মত নিরীহ  মাছও  নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তারা ।  তারা বন উজাড় করেছে;  পাহাড় কেটে ধ্বংস করেছে । আকাশ কালো ধোঁয়ায় বিষাক্ত করেছে তারা ।  নিরীহ পশুপাখী হত্যা করেছে । হয়ত ঈশ্বর এতদিনে তাদের সকলের প্রার্থনা শুনেছেন  । তাইত করোনার এমন মানব বিদ্বেষী রুদ্র মূর্তি । এর কারণ কবিতার শেষের   দুটি লাইনে  কবি বলেছেনঃ   

‘তিনি তো মানুষের একার ঈশ্বর নন, 

 আর পৃথিবীও নয় তোমাদের একার’ ।  

 এ কবিতার   উপর  আমার বোধহয় আর কিছু বলার নেই । 

দ্বিতীয় কবিতাটি ব্রত রায়ের । তাঁর কবিতার নাম, ‘আমার ফ্যামিলি যেন থাকে দুধেভাতে’

এই কবিতায় কবি আমাদের চিরাচরিত বাঙ্গালি সমাজে নিজের এবং নিজের পরিবারের প্রতি যে মায়া এবং উদ্বেগ, তা অতি চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন । সমাজে আমরা নিজেরা যে কত আত্মকেন্দ্রিক, অন্যের ভালোমন্দ নিয়ে যে আমাদের কোন মাথাব্যাথা নেই;  সে বিষয়টি  তিনি কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন । বর্তমানের এই  সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অবস্থায় কবির  পরিবার 

যেন খাওয়া দাওয়ার  কষ্ট না পায়; এজন্যে তিনি যা করেছেন তার বর্ণনা দিয়েছেন এই কবিতায় । কবি বলেছেন - 

           ’দুই দিনে কিনিয়াছি চার মন চাল,

আশি কেজি আটা,  আর কুড়ি কেজি ডাল !

আরও কিছু ডাল কিনে করিব মজুদ, 

ষাট কেজি কিনিয়াছি প্যাকেটের দুধ ।

এরপর তিনি মাছ, মাংস, লবন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার  ঔষধসহ অন্যান্য কি কি জিনিষ,   কি পরিমাণ কিনেছেন,  তার বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন । কবির  শেষের প্রার্থনা নিম্নরুপঃ 

    ‘করোনায় মরি,  আর যাহাতেই মরি, 
 
ভাতের অভাবে আমি মরিব না, স্যরি ! 

আমার ফ্যামিলি যেন থাকে দুধেভাতে, 

বাকিরা মরিয়া যাক করোনার ঘাতে ! 

তিন নম্বরটাও একটা কবিতা । তবে কবির নাম বলা হয়নি । করোনার এই মহাদুর্যোগে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত  সরকারি  কোন কর্মকর্তা হবেন হয়তবা । দায়িত্ব পালনরত কবি  নিজের দায়িত্ব পালন কালে  সকলকে নিজেদের  বাড়ির মধ্যে থাকতে অনুরোধ করছেন । কিন্তু কেউ তাঁর কথা শুনছেন না । দায়িত্ব পালনে কঠোর হলেও বিপদ; আবার দায়িত্ব পালন না করলেও বিপদ ।  হলুদ সাংবাদিকতাকে  ভয় পান তিনি  ।  সব মিলিয়ে উভয় সঙ্কটে আছেন কবি  । এর সাথে যোগ হয়েছে বিবেকের কষাঘাত । শিরোনামহীন এই কবিতার শেষের ৪ টি চরণ নিম্নরুপঃ

‘ঘরে বসে শোকে, জল আসে চোখে,

      আনচান করে চিত্ত,

মোর হাতে নাই, এদের দাওয়ায়ই

আমি যে কেবলই ভৃত্য ! 

শেষের কবিতাটা  পড়ে সত্যিই খারাপ লাগল । যারা নিজেদের ঘরে থাকতে চান না,  তাঁরা নিজেদের পরিবারসহ অন্যের  ক্ষতির  অনেক বড় কারণ হতে পারেন ।  দয়া করে সকলে  ঘরে থাকুন এবং সঠিক  নাগরিক দায়িত্ব পালন করুন । নিজেকে,  নিজের পরিবার এবং দেশকে রক্ষা করুন  । 

আসলে করোনা সাহিত্যের ভাষা খুবই সহজ  ও সরল । এভাবে  শুধু যে কবিতা লেখা হয়েছে,  তা নয় । সম্মানিত পাঠকের ভালো লাগলে অন্য লেখাগুলোও আলোচনা করা যেতে  পারে ।  


ঢাকা,৫ এপ্রিল, ২০২০ । 

 
 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT