Main Menu

কাগজের ঢাল এবং খেলনা বন্দুক নিয়ে কি কোনো সৈনিক যুদ্ধে যাবে?

মোঃ শফিকুল আলম:ইটালী এবং স্পেনের ১০ জন মানুষকে টেস্ট করা হলে ১ জন করোনাভারাস আক্রান্ত পাওয়া যায়। হ্যাঁ, তারা হচ্ছেন ডাক্তার এবং নার্স। সরকারের পক্ষ থেকে ওয়ার্নিং হচ্ছে পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্টের স্বল্পতা রয়েছে। পিপিই ছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনাযুদ্ধে অবতীর্ন হওয়া আর কাগজের ঢাল এবং খেলনা বন্দুক নিয়ে যুদ্ধে যাওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

স্পেনে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা হচ্ছে ৩৯,৬৭৩। এর মধ্যে ৫,৪০০ জন বা ১৪% শতাংশ মেডিকেল প্রফেশনাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এই প্রথম এতোটা জরুরী অবস্থা তৈরী হয়েছে।

ইটালীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ্ এর রিপোর্ট অনুযায়ী মোট আক্রান্তের ৯% শতাংশ অর্থাৎ ৫,৭৬০  জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছে।

ইউরোপের উপরোক্ত দু’টি দেশের চিত্রটি চীনের সবচাইতে খারাপ সময়ের চিত্র থেকে তিন গুন বেশী। চীনে সেই সময়টিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাস্ক টানা দীর্ঘ সময় কাজ করাতে মুখের সাথে ঘষাঘষিতে ছিঁড়ে যেতো।

ভীতিকর হারে স্বাস্থ্যকর্মীদের ইনফেক্টেড হওয়া মানে তাদেরকে আইসোলেশনে যেতে হবে। তা’হলে সাধারন আক্রান্তদের চিকিৎসা কে দেবে? ইটালীতে অবশ্য স্বাস্থ্যকর্মীসহ অন্যান্য বিভাগের কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ২০% শতাংশ আক্রান্ত।

ইটালীর নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ওয়াল্টার ডি কারো বলেন যে ইটালীকে সরাসরি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয়েছে যেখানে অস্ট্রেলিয়া বা বাংলাদেশ তাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছে।

এতো সময় পাওয়ার পরও বাংলাদেশের মানুষ মনে করছে সরকারের যথেষ্ট প্রস্তুতি না থাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের এখন করোনা যুদ্ধে কাগজের ঢাল এবং খেলনা বন্দুক নিয়ে যুদ্ধ করতে হবে। এই যুদ্ধে তাদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা যাবে?

ইটালীর উত্তরাংশে প্রথম দিকে অধিকাংশ হাসপাতালে পিপিই’র স্বল্পতা ছিলো; কিন্তু এখন নেই। কিন্তু দক্ষিনান্চলের হাসপাতাগুলোতে এখনও পিপিই’র স্বল্পতা রয়েছে। তবে ফ্যাশন হাউজগুলো যেমন গুসি, প্রাডা, গিভেনসি, লুইস ভিউটন ইত্যাদি চীনের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়ে লক্ষ লক্ষ মাস্ক তৈরী করিয়ে বিনে পয়সায় ইউরোপের আক্রান্ত দেশগুলোকে সরবরাহ করছে।

বিশ্বস্বাস্থ্যসংস্থার মহাপরিচালক টেডরোজ ঘেবরেসাস বলেন যে স্বাস্থ্যকর্মীরা তখনই কার্যকরভাবে তাদের করনীয় করতে সমর্থ্য হবে যখন তারা নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করবে। এমতাবস্থায় যদি সব পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়; কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা গেলে আক্রান্তরা অধিকহারে মৃত্যুবরন করবে যাদেরকে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাঁচাতে পারতেন।

ইউরোপসহ বিশ্বে এখন করোনা মহামারী ধারন করার পর মাস্কের দাম ৬ গুন এবং গাউনের দাম দ্বিগুন হয়ে গেছে। মাস্কের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে মাসাধিক সময় লাগতে পারে।

প্রতি মাসে বিশ্বব্যাপী ৯০ মিলিয়ন মেডিকেল মাস্ক, ৭৬ মিলিয়ন গ্লোবস এবং ১.৬ মিলিয়ন গগলসের প্রয়োজন হবে।

ইটালীর স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্টো মঙ্গলবার বলেছেন নাটকীয়ভাবে মাস্ক সরবরাহ বেড়ে গেছে। এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডাক্তার, নার্সেস এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী যারা করোনাযুদ্ধে লিপ্ত তাদের মাঝে বিতরন করা হয়।

ইটালীর নার্সরা কখনোই ভাবতেও পারেনি যে তাদেরকে এরকম একটি পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে যে এমন একটি প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরিধান করবে যে নিকটজনও তাদের চিনতে পারবেনা। নার্সদের একজন বললেন যে পোশাকটি পরিধান করলে তাদের হৃদয়ের গভীরে অন্যরকম সেবাদানের, মানুষকে জীবিত রাখার অনুভূতি জন্মায়।

ইটালীতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রয়েছে ২২,০০০, ইনটেনসিভ কেয়ারে রয়েছে আরও ৩,৪০০ এবং মৃত্যুবরন করেছে ৬,৮২০। স্পেনে মৃতবরন করেছে ২,৭০০। ব্রিটেন একটি কনভেনশন সেন্টারকে ৪,০০০ বেডের হাসপাতালে পরিনত করেছে।

ফ্রান্স বিশ্বে ৫ম বেশিসংখ্যক আক্রান্তের দেশ। গতকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১,০০০।


 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT