Main Menu

লকডাউন কি করোনা ভাইরাস সংক্রমন রুখতে পারে?

মোঃ শফিকুল আলম: Whether lockdown helps slow down spread. What does lockdown mean within the specific situation? A lockdown is a precautionary measure in response to a threat directly to the surrounding community. In a lockdown: All activities are moved indoors. Depending on the type of lockdown, if it is suburban lockdown that means the people’s movement of a particular suburb or city will be limited within the particular suburb. In that case with some restrictions people might have limited movement and supermarkets might have limited hours’ transactions. In that case no one is allowed to enter or exit the particular suburb. 


হ্যাঁ, চীনের করেনাক্রান্ত উহান প্রদেশে ভাইরাস সংক্রমন নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ রাখতে লকডাউন প্রমানিতভাবে সাহায্য করেছিলো।ই কিং চীনের উহান এবং হুবাই প্রদেশসমূহে প্রায় ৪০ বছর বাস করছেন। তার বর্ননায় দেখা যায় ২৩ জানুয়ারী পর্যন্ত শুরুতে কিভাবে করোনাভাইরাস অস্বাভাবিক হারে ছড়িয়ে পড়ছিলো।


মি: ই কিং তার ডায়েরীতে লিখেছেন, “এটি কোনো হাস্যকর ব্যাপার ছিলোনা। ২৩ জানুয়ারী সকাল ২টায় যখন হুবাই প্রদেশ সরকারের ঘোষনা আলো যে হুবাই প্রদেশ সীলড্ অফ বা লকডডাউন। সকাল ১০টায় হুবাই এয়ারপোর্ট, রেলওয়ে স্টেশন, লংডিসট্যান্ট বাস সার্ভিসেস স্টেশন এবং হুবাই প্রদেশে ঢোকার এবং বের হওয়ার সকল হাইওয়গুলো বন্ধ করে দেয়া হলো। তখনও পর্যন্ত হুবাই প্রদেশের এক কোটি চল্লিশ লাখ বসাসকারীদের মধ্যে নব্বই লাখ মানুষকে আবদ্ধ করা সম্ভব হয়েছিলো।


জং নানশান একজন সংক্রমন রোগ বিশেষজ্ঞ প্রথম ২০ জানুয়ারী বলেছিলেন যে করোনাভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমন হচ্ছে। যাহোক, মি: ই কিং বলেন যে অকস্মাত লকডাউন স্থানীয় জনগন প্রথমে সহজভাবে নেয়নি, কারন তারা তখনো করোনাভাইরাসকে এতোটা সিরিয়াসলি নেয়নি।


১১ মার্চ মধ্যরাত অবধি চীনে নোভেল করোনাভাইরাস সংক্রমনের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৮০,৭৯৩। এর মধ্যে শুধু উহান প্রদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ৪৯,৯৮৬ যার মধ্যে ৩,১৬৯ জন মৃত্যুবরন করলো। উহান নগরীতে মৃতের সংখ্যা ছিলো ২,৪৩০।


প্রথম দিকে ডাক্তারদের সন্দেহ ছিলো এনিমালের (zoonotic sources)  দিকে এবং সে তালিকায় বাদুর (bats) ছিলো এক নম্বরে।মনে করা হয়েছিলো রোগটির সংক্রমন এনিমাল থেকে মানুষে ছড়ায়। বাস্তবে করোনাভাইরাস সংক্রমন মানুষ থেকে মানুষে ঘটে থাকে।


চীনের কেন্দ্রীয় সরকার পরিষ্কার করলেন যে সংক্রমন রোধ করতে এবং পরাস্ত করতে মহামারিত্ব উহান প্রদেশ এবং হুবাই প্রদেশে সীল করে দিতে হবে। অন্যথায় এই মহামারী পরাস্ত করা যাবেনা।


উহানের অধিকাংশ মানুষ এখন বলছে এই লকডাউনের সিদ্ধান্ত আরও আগে নেয়া উচিত ছিলো। কারন এই লকডাউন সিদ্ধান্ত ১৯৪৯ সালে পিপলস রিপাবলিক অব চায়না প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই প্রথম কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে। উহান প্রদেশটির সাথে অন্যান্য প্রদেশের যেমন সড়ক যোগাযোগ রয়েছে তেমনি জলপথেও সংযোগ রয়েছে। এবং প্রায় পঁন্চাশ লক্ষ মানুষ ২৫ জানুয়ারীর মধ্যে উহান ত্যাগ করে স্প্রিং হলিডে পালন করছিলো।


এই স্প্রিং সিজনে চায়নায় নানান ধরনের ফেস্টিভাল উজ্জাপন করা হয়ে থাকে। বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্থা এবং চায়না সরকারের যৌথ মিশন ১৬ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারী যে প্রতিবেদন তৈরী করেন তাতে দেখা যায় যেহেতু এই সময়ের মধ্যে দেশব্যাপী ব্যাপক সংখ্যক মানুষের এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে মুভমেন্ট হয়েছে সেহেতু এই সময়ের মধ্যে দ্রুত করোনাভাইরাস ছড়িয়ে যায়। যেসমস্ত নগরীতে উহান প্রদেশ থেকে মানুষ ভীড় করেছে সেসমস্ত নগরীতে অধিকতর সংক্রমন হয়েছে। সুতরাং তারা একই সাথে নিশ্চিত হোন যে এই ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়েছে।.


করোনা সংক্রমন রোধে তাই কর্তৃপক্ষ আক্রমনাত্মক সিদ্ধান্ত লকডাউন করে এযাবতকালে সফলভাবে ভাইরাস সংক্রমন নির্দিষ্ট যায়গায় সীমাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্থা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করে যে চীন কর্তৃপক্ষের এই সাহসী পদক্ষেপ এই মারাত্মক প্রাণঘাতী ভাইরাস মহামারী অনেকটা স্থবির করে দেয়।
উহান প্রদেশের ডেপুটি সেক্রেটারী জেনারেল ডিং জিয়াংইয়াং ২০ ফেব্রুয়ারী বলেন উহান প্রদেশে লকডাউন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অত্যন্ত কঠিন কাজ ছিলো।মি: ডিং উহানে সফল হওয়ার কারনে কেন্দ্রীয় সরকার হুবাই প্রদেশে লকডাউন বাস্তবায়নের দায়িত্বও তার ওপর অর্পণ করেন।


মি: ডিং বলেন প্রাথমিক পর্যায়ে ভুল বুঝাবুঝি এবং বিতর্ক থাকা সত্বেও লকডাউন আক্রান্ত প্রদেশগুলোর মহামারি উপকেন্দ্রের বাইরেও ন্যাশন ওয়াইড সফলতা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত পুরো চীন তথা বিশ্বকে সাহায্য করেছে।
মি: ই কিং তার ডায়েরীতে ২৬ জানুয়ারী লিখেছেন, “অবশ্যম্ভাবীরূপে লকডাউন সিদ্ধান্ত উহানে মানুষের জীবনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। উহানের রাস্তায় বাস, প্রাইভেট কার চলাচল বন্ধ থাকায় মানুষ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কোলাহপূর্ণ নগরীরকোলাহল বন্ধ যেমন হয় তেমনই  বন্ধ হতে থাকে সংক্রমন।”
উহান ইউনিভার্সিটির জংশান হসপিটালের সিনিয়র সাইকোলোজিস্ট  এবং হুবাই সাইকোলোজিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জাও জিনসাং বলেন সাধারন মানুষ তাদের সামনে কি আছে তা’ না জেনে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন এবং অসহায় ছিলো।


লকডাউনের প্রথম দিন থেকেই বিনে পয়সায় সাইকেলোজিস্ট এ্যাসোসিয়েশন হটলাইনের মাধ্যমে কনসালটেশন দিতে শুরু করে।
সংক্রমনের সংখ্যা বাড়তে থাকলে হাসপাতালে সজ্জার সংকুলান হচ্ছিলোনা। মানুষ যদি সংক্রমিত হয় তবে কাদের চিকিৎসা হবে সে নিশ্চয়তা ছিলোনা।
যদিও উহান সমগ্র দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলো কিন্তু চীনের সাধারন মানুষ, বিভিন্ন সংগঠন উহান নগরীতে প্রয়োজনীয় সবকিছুর সরবরাহ পাঠাতে থাকে। মংগোলিয়া রিজিয়ন থেকে মাংস, শাংসি প্রদেশ থেকে আপেল, সিচুয়ান প্রদেশ থেকে ভাপে সিদ্ধ সবুজ সব্জি এবং সিদ্ধ মাংসের সরবরাহে উহান প্রদেশে অবরুদ্ধ মানুষেরই আর নিজেদেরকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবতে পারছেনা।


নির্মানকর্মীরা (স্বেচ্ছাসেবী) দিনরাত খেটে  ১৫টি অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মান করে সজ্জা সমস্যার সমাধান করে ফেললো। এই অস্থায়ী হাসপাতালগুলোতে উহানের বাইরে থেকে যেসমস্ত ভলান্টিয়ার, বিভিন্ন ডাক্তার এবং নার্স কাজ করছে তাদের মধ্যে যাদের মাইল্ড সিম্পটম দেখা যাচ্ছিলো তাদেরও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ এখন দৃঢ়ভাবে মনে করে যে কাজের মধ্য দিয়ে তারা শিক্ষা পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে এধরনের মহামারী মোকাবেলায় তারা আর সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে সময় ক্ষেপণ করবেনা।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT