Main Menu

চাই নতুন অভ্যাস

রাশেদুল ইসলাম: আমরা নিয়ম মানতে চাইনে । আমাদের কাছে  নিয়ম মানাটা অসম্মানের । বিশেষ করে যিনি কোন না কোনভাবে ক্ষমতায় থাকেন,  তিনি মনে করেন, ‘নিয়মই যদি মানব, তাহলে ক্ষমতা কিসের’ ? এজন্য লম্বা একটা লাইনের  সামনের দিকে হটাৎ একজনের আগমনে সবাই তটস্থ হন । কিসের ইঙ্গিতে ভিতর থেকে কেউ বেরিয়ে আসেন ।  নিজে থেকে কাজটা সেরে সেই ক্ষমতাবান লোককে আগে বিদায় করেন । লাইনে দাঁড়ানো কেউ প্রতিবাদ করেন না । তারাও জানেন কেউকেটা গোছের কারো নিয়ম মানা জরুরি নয় । আবার ভিন্ন  চিত্রও আছে । পাঁচতারকা বিশিষ্ট সোনারগাঁ হোটেলে ঢুকতে আপনি দারোয়ানের কাছে অনুমতি চান । তিনি সরাসরি আপনাকে না বলে দিবেন । আপনি তর্ক করবেন । তাতে ভিড় জমবে । শেষ পর্যন্ত হয়ত  ঢুকতে পারবেন না । কিন্তু, আপনি দারোয়ানকে জিজ্ঞেস না করে, গটগট করে হোটেলের ভিতরে ঢুকে যান; দারোয়ান আপনাকে সালাম দিবেন । কোন বাঁধা দিবেন না । সেই দারোয়ানের কাছেই আপনি তাঁর দ্বৈত আচরণের  কারণ জানতে চান । তিনি নির্লিপ্তভাবে যা বলবেন তার অর্থ এইযে, আপনি কেন তাঁর অনুমতি চেয়েছিলেন ? আপনি অনুমতি যখন চেয়েছেন, তখন অনুমতি না দেয়ার ক্ষমতা তিনি পেয়ে গেছেন । সেই ক্ষমতা তিনি আপনাকে দেখিয়েছেন ।  আসল কথা আমরা বাঙালিরা কোন না কোনভাবে ক্ষমতা পেলে, তা আমাদের হজম হয়না । বদহজম হয় । এজন্য ক্ষমতার সদ্ব্যবহার না করে, আমরা ক্ষমতার অপব্যবহার করি । আর ক্ষমতার এই অপব্যবহারকে আমরা ক্ষমতা বলি । অবশ্য এর ব্যতিক্রম যে নেই তা নয় । ব্যতিক্রম যেহেতু সাধারণ ঘটনা নয়;  এটা উল্লেখ না করলেও চলে । 

আমার সামনে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন । পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল  পর্যন্ত করোনারাজ্যের সীমানা ১৭৬ টি দেশে বিস্তৃত হয়েছে । থমকে গেছে গোটা বিশ্ব ।  মোট আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯১২ । মৃত্যু ৯ হাজার ৮৪৪ । গড় মৃত্যুহার  যদিও বেশী নয়; কিন্তু এই রোগের সংক্রমণ ক্ষমতা এবং দ্রুত বিস্তার লাভ পৃথিবী ব্যাপী একটা আতংকের সৃষ্টি করেছে । বলা যায় গোটা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ এখন করোনার হাতে ।  অতিসম্প্রতি বাংলাদেশে করোনার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে । করোনায় আক্রান্ত প্রথম দেশের নাম চীন । দি ইকোনোমিষ্ট ম্যাগাজিনের রিপোর্ট অনুযায়ী করোনা প্রতিরোধে চীনের গৃহীত   পদ্ধতি নিষ্ঠুর ও অমানবিক হলেও এই রোগ প্রতিরোধে সফল একটি দেশের নাম চীন । সফল আর দুটি দেশের নাম দক্ষিন কোরিয়া এবং সিঙ্গাপুর । এই সফলতার মুলে কাজ করেছে গণ করোনা  পরীক্ষা করা এবং সন্দেহভাজনদের অন্যদের থেকে আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া । করোনা প্রতিরোধে অসফল দেশের নাম ইতালী । মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা বিবেচনা করার কারণে সে দেশের সরকার  করোনা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেনি । তাই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ইতালী । বাংলাদেশে করোনা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এসব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া খুবই জরুরি ।




 

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ এবং এ রোগের বিস্তার ঠেকাতে হোলে প্রথমত ইতোমধ্যে এ রোগে যারা আক্রান্ত হয়েছেন,  তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে । পারিবারের কারো মধ্যে এই রোগের প্রাথমিক লক্ষন ধরা পড়লে, তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে । যেকোন ধরণের গণসমাবেশ আপাতত বন্ধ রাখতে হবে । এসব ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম মানতে হবে । কিন্তু,  আগেই বলা হয়েছে এখানে মূল বাঁধা আমাদের অগোছালো ভাব এবং কোন নিয়ম না মানার প্রবণতা । আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করে যদি আমরা নতুন অভ্যাস গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে এই করোনাভাইরাসে আমাদের অনেক মুল্য দিতে হবে । এ সমস্যা সরকারের একার পক্ষে নিরসন করা সম্ভব নয় । আমার আপনার সকলকে এ বিষয়ে সতর্ক  ও সক্রিয় হতে হবে ।  

আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩১ মার্চ, ২০২০ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে । আমরা আশা করেছি এ সময়ের মধ্যে করোনা সমস্যার একটা সমাধান হবে । কিন্তু, যদি তা না হয় ? যদি করোনার ভয়াবহতা বাড়ে; আরও দীর্ঘস্থায়ী হয় ? করোনা সমস্যা লোকাল কোন বিষয় নয় । এটা  বৈশ্বিক সমস্যা । বর্তমান পৃথিবীতে স্বনির্ভর কোন দেশ নেই । প্রতিটি দেশই অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল । করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী মহামন্দা দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক । তখন কি হবে আমাদের দেশের ? কি হবে আমাদের সাধারণ জনগণের ? এ বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের একটি অনলাইনে প্রেস কনফারেন্স আমার ভালো লাগলো । করোনা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হোলে কিভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা, চিকিৎসা, অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী সরবরাহসহ  জনগনের চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে বিষয়ে একটা মত বিনিময়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । এধরণের সময় উপযোগী অন্যদের জন্য অনুসরনীয় একটা মতবিনিময়ের শুভ সূচনা করার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপিকে ধন্যবাদ । 

C:\\Users\\DELL\\Desktop\\90242667_2821965181172068_9184770137813680128_o.jpg

 

করোনা আতংকের এই সময়কালে চিকিৎসক, নার্স এবং এবিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তগণ ছাড়া আমাদের প্রায় সকলেই বেশ কিছুটা অবসরে আছেন । আমাদের দৈনন্দিন কাজের মধ্যে অন্যের সমালোচনা করা একটা বড় কাজ থাকে । নিজের দিকে তাকানো বা নিজের সমালোচনা করার  সময় ও সুযোগ আমাদের হয়না । এই অবসর কালে আমরা বোধহয় নিজেদের দিকটা ভালো করে দেখতে পারি । আমার নিজের কি দোষ- ত্রুটি আছে, নিজেকে নিরাপদ রেখে কিভাবে করোনার মত মহাসংকটে অন্যের কাজে লাগতে পারি- সে বিষয়টি ভেবে বের করা এবং সে অনুযায়ী কাজ করার একটা সুযোগ আমরা নিতে পারি ।

ঢাকা, ২০ মার্চ, ২০২০ ।

 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT