Main Menu

করোনা ভাইরাস এবং অনিয়ন্ত্রিত আবেগ, অত্যুক্তি, আতংক প্রবনতা

অনিয়ন্ত্রিত আবেগ, অত্যুক্তি, আতংকপ্রবনতা ইত্যাদি করোনাভাইরাস বিতর্ককে যে পরিচালিত করছে তা’ অস্বীকার করার কোনো কারন নেই।বাস্তবতা হচ্ছে যখন লিখছি তখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৬ জন মৃত্যুবরন করেছে। তাদের বয়স ৭৭ বছর থেকে ৯৫ পর্যন্ত। অন্য আরও কিছু পরিসংখ্যান আমাদের হয়তো শান্ত রাখতে পারে।যেমন, প্রতি বছর অস্ট্রেলিয়াতে হৃদরোগে ৪৩,০০০ মানুষ মৃত্যুবরন করে থাকে। এর অর্থ হচ্ছে, প্রতি ১২ মিনিটে একজন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়।প্রায় ৫০,০০০ অস্ট্রেলিয়ান প্রতি বছর ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করে থাকে।


যেকোনো মৃত্যু মানেই শেষ। কিন্তু করেনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যে ৬ জনের মৃত্যু ঘটলো তা’ যতোটা আতংক তৈরী করলো; প্রতি ১২ মিনিটে একজন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরন করা কি ততোটা আতংক তৈরী করে? না, কারন করোনাভাইরাস সবাইকে সংক্রমিত করতে পারে এটিই আতংক তৈরী করেছে। ক’জন সংক্রমিত হবে, আবার সংক্রমিতদের ক’জন মারা যাবে সেটিও নিশ্চিত নয় সেটিও আতংকের কারন। নিশ্চিত মৃত্যু আতংক তৈরী করেনা। অনিশ্চয়তা সব সময়ই আতংকের কারন হয়ে থাকে। অনিশ্চয়তা এমনকি গুজবও তৈরী করে।


করোনাভাইরাস এখন পৃথিবীর সবার কাছে যেনো অন্য গ্রহ থেকে আসা উল্কাপিন্ড এবং যেকোনো সময় পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষে হয়তো কিয়ামত সৃষ্টি করতে সমর্থ্য হবে।


ড: ফস্ট যথার্থই বলেছেন যে ‘আমরা অনিয়ন্ত্রিত আবেগ এবং অতিরঞ্জন ব্যতীত আর কিছুরই মুখোমুখি নই।’ আমরা যতোটা না করোনাভাইরাস মোকাবেলা করছি তার চেয়ে ঢের বেশী আতংক মোকাবেলা করছি।অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমরা আতংকগ্রস্ত হতে এবং করতে ভালোবাসি।গত বছর অস্ট্রেলিয়াতে ৯০০ মানুষ ফ্লু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করেছে। এবং ৩৭,০০০ মানুষ গত বছর আমেরিকাতে ফ্লু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করেছে।


আমি যখন লিখছি তখন পর্যন্ত পুরে পৃথিবীতে ১৫৬টি দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৬,১০০ জন মৃত্যুবরন করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাকী ১৫১টি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করেছে ৩৫৬ জন।
এবং পুরো পৃথিবী অত্যন্ত মূল্যবান বা অর্থ খরচপূর্ণ আতংকে রয়েছে।ড: ফস্টের মতে, করোনাভাইরাসকে যতোটা মরনব্যাধি মনে করা হচ্ছে ততোটা মারনাত্মক নয় এবং তার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে বলেও বলেন।
তথাপি, আতংকগ্রস্ততার কারনে সুপার মার্কেটগুলোতে কোনো ফেইস মাস্ক বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাওয়া যাচ্ছেনা। মানুষ আতংকিত হয়ে সব মজুদ করছে। যে ফেইস মাস্ক মানুষ মজুদ করছে ড: ফস্টের মতে সেই ফেইস মাস্ক মূলত: করোনা সংক্রমন ঠেকাতে কোনো কাজ করেনা।


মানুষের মধ্যে এমনই আতংক কাজ করছে এ যেনো ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লু যার ফলে এক কোটি মানুষ মৃত্যুবরন করেছিলো।ড: ফস্ট আরও বলেন যে বর্তমানে সিএফআর (CFR- Case Fatality Rate) যতোটা বলা হচ্ছে বাস্তবে তার চেয়ে অনেক কম। এমনকি ফস্টের মতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেল্থ এ্যান্ড সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এ্যান্ড প্রিভেনশন যে ১% মৃতের পরিসংখ্যান দিয়েছে প্রকৃত পক্ষে মৃতের সংখ্যা তার থেকেও কম।


প্রথম দিকে চায়নার উহান প্রদেশে মৃতের হার ছিলো ৪%। যখন হুবাই এর অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে তখন মৃতের হার ২% এ নেমে আসে। যখন পুরো চায়নায় ছড়িয়ে পড়ে তখন মৃতের হার ০.২% এ নেমে আসে। যখন থেকে রক্ত পরীক্ষা শুরু হয় তখন থেকে প্রকৃত চিত্র উপস্থাপিত হতে শুরু করে।


ফস্টের মতে শুরুতে চায়নার পরিসংখ্যান ছিলো অত্যন্ত ভয়াবহ যতোক্ষণ পর্যন্ত না পরীক্ষা করে জানা যায় কতোজন করোনাক্রান্ত হয়ে এবং কতোজন অন্য কারনে মৃত্যুবরন করেছে।চায়নায় প্রতিদিন ২০,০০০-২৫,০০০ মানুষ মারা যায়। কে জানে কতোজন রোগী অন্য কোন্ মরনব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসার পর করোনাক্রান্ত হয়েছিলো?
চায়নাতে স্বাভাবিকভাবে প্রতি বছর ৯০ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরন করে থাকে। অবশ্য গত দু’মাসে মৃত্যুবরন করেছে ১৫ লক্ষ।
ফস্টের মতে গত দু’মাসের মৃতের উল্লেখযোগ্য অংশের মৃতের কারন এম্ফিসমা, লোয়ার রেসপাইরেটরি ইনফেকশন, লাং ক্যানসার এবং স্বাসনালীর ক্যানসার। উপরোক্ত রোগগুলো এবং সকলের কাছে অপরিচিত করোনাক্রান্ত রোগীর সিম্পটম একই।


এটা বিশ্ময়ের ব্যাপার নয় যে চায়নাতে কথিত করোনাভাইরাসে মৃতের অধিকাংশই উপরোক্ত রোগে আক্রান্ত ছিলো।
ড: ফস্ট আরও উল্লেখ করেন যে হুবাই প্রদেশে লাং ক্যানসারের গড় সংখ্যা চায়নার জাতীয় গড়ের অনেক ওপরে থাকে। কারন এই প্রদেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি (অর্ধেকের বেশি) ধুমপায়ী।ওপরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে চায়নায় প্রতিদিন ২৫,০০০ মৃতের মধ্যে কতোজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করেছে তা’কি কোনো ডাক্তারের পক্ষে পৃথকীকরণ সম্ভব হয়েছে? 
বরং অন্য পরিসংখ্যানে ডায়মন্ড প্রিন্সেস ক্রুস শিপে ৩,৭১১ জনের মধ্যে ৭০৫ জনের পরীক্ষান্তে করোনাভাইরাস পজিটিভ নির্নীত হয় যেখানে সবাই একসংগে অবরুদ্ধ থেকে জাহাজের অবস্থার কারনে বেশী মাত্রায় সংক্রমিত হওয়ার পরও মৃতের সংখ্যা ৬ জন (০.৮৫%)। এবং যে ৬ জন মৃত্যুবরন করেছে তাদের সকলের বয়স ৭০ বছরের ওপরে। ৭০ বছরের নীচে কারও মৃত্যু ঘটেনি। চিকিৎসা দিতে দেরী করায় এই ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারনা করা হয়।
ওপরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে করোনাভাইরাস রোগটি অপেক্ষাকৃত কমবয়সীদের জন্য অত্যন্ত সদাশয় রোগ। ফস্টের মতে ১০ বছর পর্যন্ত শিশুদের মৃত্যুর হার শূন্য, ৭০ বছরের নীচে সুস্থ এবং স্বাস্থবান মানুষদের মৃত্যুর ঝুঁকি ০.২%-০.৪%।
সুতরাং, ফস্টের মতে শিশু, সুস্থ এবং স্বাস্থবান মানুষদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমনের দিকে নজর দিয়ে সময় এবং অর্থ ব্যয় না করে বৃদ্ধদের দিকে বিশেষ নজর দেয়া, আইসোলেশনে রাখা এবং রিসোর্সেস ব্যবহারের করার পরামর্শ রয়েছে।


তাঁর মতে,যথার্থ মানুষদের দিকে এবং যথার্থ (এইজডকেয়ার সেন্টার) জায়গায় দৃষ্টি নিবিষ্টকরন,
হসপিটালের দিকে ফোকাস করতে হবে; স্কুল, কলেজ বন্ধের প্রয়োজন নেই, ৭০ বছরের নীচের মানুষদের অযথা খাদ্য মজুদকরন, মাস্ক পরিহিতকরন, হ্যান্ড স্যানুটাইজার ব্যবহার সচেতনতার জন্য ভালো; তবে মিসডাইরেকটেড আতংকগ্রস্ত হওয়ার জন্য নয়। যা’হোক অপেক্ষাকৃত বয়স্ক লোকজন যারা নার্সিংহোমে অবস্থান করছেন তাদের ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে।এবং সকলকে অতিরিক্ত আবেগ, অতিরঞ্জন এবং আতংকগ্রস্ততা পরিহার করা উচিত। কারন আতংকগ্রস্ততা আমাদেরকে সবচাইতে বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন করবে।
 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT