Main Menu

মাত্র ঘণ্টা চারেকের দূরত্বে ছিল মায়ের মুখ

যুক্তরাষ্ট্রে বসে গত মঙ্গলবার রুহুল আমিন মায়ের কাছে ফোন করেন। বলেন, ‘মা, কেমন আছ? খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো করো তো, নাকি? আমি তো আগামীকাল দেশে আসছি।’ একই দিন জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বিমানে ওঠার আগে বিদায় জানাতে আসা বন্ধুদের সঙ্গে সেলফিও তোলেন। সেই সেলফি ফেসবুকে দিয়ে রুহুল লেখেন, ‘গোয়িং টু বাংলাদেশ আফটার টোয়েন্টি ফোর ইয়ার্স।’

প্রায় ১৩ হাজার ২২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পরের দিন সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখেন রুহুল। সেখানে তাঁকে মাইক্রোবাস ভাড়া করে নিতে এসেছিলেন স্বজনরা। এর পর সবাই মিলে রওনা হন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের বৈরাগীবাজার খশির নামনগর গ্রামের উদ্দেশে। কিন্তু ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিজয়নগর এলাকায় রুহুলের ২৪ বছরের অপেক্ষা রূপ নেয় ‘অনন্তকালের অপেক্ষা’ হিসেবে। ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলে প্রাণ যায় তাঁর। আহত হন রুহুলের বাবা আলিম উদ্দিন (৬২), ছোট দুই ভাই নুরুল আমিন ও ফখরুল আমিন, মামাতো ভাই এমরান আহমদ ও মাইক্রোবাসচালক বাদশাহ মিয়া। তাঁরা সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্বজনরা জানান, নাগরিকত্বের (গ্রিনকার্ড) আশায় রুহুল আমিনের ২৪টি বছর কেটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। সম্প্রতি নাগরিকত্ব পাওয়ায় দেশের পথে যাত্রা করেন তিনি।

ছেলের মৃত্যু সংবাদে বারবার মাটিতে পড়ে মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা আনোয়ারা বেগম। আর বিলাপ করে বলছিলেন, ‘অনেক ইচ্ছা ছিল এবার ছেলেকে বিয়ে করাব। মেয়েও ঠিক করে রেখেছিলাম। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না; কোনো দিন হবেও না।’

গতকাল দুপুরে বৈরাগীবাজার সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা মাঠে রুহুলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁর লাশ দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে। এর আগে সকালে লাশ বাড়িতে আনা হলে এক হূদয়বিদারক দৃশ্য তৈরি হয়। শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT