Main Menu

ব্রহ্মপুত্র নিয়ে রাজনীতি, বিপন্ন কোটি মানুষের জীবন

আঘাতের প্রতিশোধ প্রকৃতিও নেয়। ব্রহ্মপুত্র থেকে মেকং নদীর বিধ্বংসী বন্যা তাদের তীরবর্তী এশিয়ার সবচেয়ে বৃহৎ জনবসতির জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে, টিকে থাকার জন্য লড়ছে তারা। জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অপরিকল্পিত উন্নয়নকে নদীকেন্দ্রিক পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতি এ অঞ্চলের দুর্ভোগের কারণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

তিব্বত মালভূমি থেকে ব্রহ্মপুত্রসহ এ উপমহাদেশের বড় ১০টি নদীর উৎপত্তি। চীন এ মালভূমি নিয়ন্ত্রণ করায় গোটা এশিয়ার দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে না এলে ব্রহ্মপুত্রকেন্দ্রিক সংকটের সমাধান হবে না।

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, ভারত তার নদী নিয়ে সবদিকে সংকটে পড়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণতার ধারায় চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন বাসিন্দারা এবং পরিবেশগত দুর্বল পরিকল্পনার কারণে লাখো মানুষ ঝুঁকিতে পড়ছে। পানি ও মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক প্রদীপ পুরন্দর বলেন, ‘২০৫০ সালের মধ্যে ভারতের জনসংখ্যা ১৬০ কোটি হবে। তখন পানি সংকট আরও ভয়াবহ হবে।’

ব্রহ্মপুত্র থেকে সৃষ্ট বন্যা ক্রমেই বিধ্বংসী হচ্ছে। এতে বাস্তুচ্যুত ছাড়াও অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। কিন্তু তীরের বাসিন্দা বিশেষ করে ভারতীয়দের কাছে অত্যধিক পানি থাকার সময় সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। আবার যখন স্বল্প পরিমাণে পানি থাকে, তার উত্তম ব্যবহারের ব্যবস্থাপনাও নেই। ফলে ওয়াটারএইড’র তথ্যে, আগামী ৮ বছরের মধ্যে ভারতের এ অঞ্চলের ১৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ, যাদের স্বচ্ছ পানি ছাড়ায় জীবন কাটাতে হবে।

শুধু ব্রহ্মপুত্র নয়, প্রতিবেশী পাকিস্তানের সিন্ধুও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ঝুঁকিতে। জাতিসংঘের তথ্যে, দেশটির ৯০ শতাংশ খাদ্যের জোগান আসে নদীবাহিত অঞ্চল থেকে। কৃষকরা চাষাবাদে হিমালয় উপত্যকার পানির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, উষ্ণতায় যেভাবে হিমালয়ের হিমবাহ গলছে, তাতে ২০২৫ সালের মধ্যেই পাকিস্তান জনসংখ্যা বৃদ্ধির অনুপাতে চরম পানি সংকটে পড়বে।

মেকং নদী ঘিরে আছে চীন, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের অধিবাসী। দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন ব্রহ্মপুত্রের মতো মেকং অববাহিকার কোটি মানুষের জীবন বিপন্ন করে তুলেছে। ‘শেয়ারড রিভার, শেয়ারড ফিউচার’ স্লোগানে চীন নদী অববাহিকায় টেকসই উন্নয়ন শুরু করে। এতে বাণিজ্য ও জ্বালানির আশ্বাস মিললেও জীবন-জীবিকা লুট হয়। চীন ব্রহ্মপুত্রে তার অংশে বাঁধ দিয়েছে। এতে গতিপথ বদলে নিচু থেকে নিচু হচ্ছে। ইতিমধ্যে মেকং নদীতেও পরিবর্তন দৃশ্যমান। থাইল্যান্ডের জেলেরা বলছেন, নদীতে মাছের মজুদ ধ্বংস হয়ে গেছে। বিশেষ করে মেকং ক্যাটফিস ও ডলফিন প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।

নদীশাসনের ফলে অভ্যন্তরীণভাবে চীনও বিরূপ পরিস্থিতির শিকার। দশকের উন্নয়নে বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ নদী (দৈর্ঘ্য) ইয়াংজি হারিয়ে যেতে বসেছে। এর উপনদীতে বিষাক্ত রাসায়নিক, প্লাস্টিক ও বর্জ্য ফেলায় প্রায় ৪০ কোটি মানুষের প্রধান পানির উৎস হুমকির মুখে। কর্র্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে ২৫০টিকে ‘ক্যানসার গ্রাম’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে, যার বেশিরভাগই ইয়াংজি নদীর অববাহিকায়। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সেন্টারের তথ্যে, এসব গ্রাম থেকে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। তা ব্যবহারে মানুষ রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির ৪৫ শতাংশ ইয়াংজি নদীকেন্দ্রিক। ফলে গুরুত্ব বিবেচনায় নদীটি রক্ষায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ‘ধ্বংসাত্মক’ উন্নয়ন বন্ধে নির্দেশনা দিয়েছেন।

উৎসঃ   দেশ রুপান্তর


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT