Main Menu

২০১৯ - মানসিক বৈকল্য যেনো স্বাভাবিকতায় পরিনত হয়েছিলো?

মোঃ শফিকুল আলম: ২০১৯ এর শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরে বা পৃথিবীর অন্যত্র রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র দ্বিধাবিভক্তি ছিলো। সর্বত্র বিশেষ করে চিন্তার ক্ষেত্রে এক ধরনের মানসিক বৈকল্য যেনো স্বাভাবিকতায় নতুন মাত্রা আনায়ন করেছিলো।

আমারা ভেবেছিলাম ২০১৬ ছিলো বিশ্বে একটি উন্মাদনার বছর। কারন, ট্রাম্প্রের মতো একজন উন্মাদ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৭, ১৮ বা ১৯ কি একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখেনি? মানসিক বৈকল্য এবং উন্মাদের পরিমান বরং বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১৯ এ রাজনীতিকরা পরিবেশ বিজ্ঞানীদের সকল সতর্কতার বানী উপেক্ষা করে কার্যকর কোনো পলিসি গ্রহন না করায় মানুষের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার প্রাণীকুল আগুনের তাপে সমুদ্রে ঝাপিয়ে পরে রক্ষা পাচ্ছেনা। জীব বৈচিত্রে ভরা অস্ট্রেলিয়ায় বছর জুড়ে পুড়লো কোয়ালা (মায়াজড়ানো মুখ)।

২০১৯ অস্ট্রেলিয়া এবং বিশ্বকে একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছে। যে প্রকৃতিতে আমরা বাস করছি এবং প্রতিদিন সেই প্রকৃতিকে আমরা বাসের অযোগ্য করছি। আমরা প্রকৃতির যতোটুকুন ক্ষতি করছি তা’ যদি মেরামত না করি তবে প্রকৃতি তার উন্মাদ আচরন করতে বাধ্য হবে। আমাদের যদি তা’ বোঝার ক্ষমতা না থাকে তবে আমাদের অবশ্যই মানসিক বৈকল্য তৈরী হয়েছে।

পরিবেশকে মেরামতের যথাযথ কোনো পলিসি রাজনীতির কেনো পক্ষেরই ছিলোনা। লেবার পার্টির পলিসি থাকলেও তার ব্যয় নির্বাহের সুনির্দিষ্ট হিসাব বা সোর্স উল্লেখিত হয়নি। ফলে শেষ সময়ে এসে জনগন লেবার পার্টির ওপর পূর্ণ আস্থা স্থাপন করতে পারেনি। আর সে কারনেই অপ্রত্যাশিতভাবে লিবারেল-ন্যাশনাল কেয়ালিশনের স্কট মরিসন পূন:নির্বাচিত হলেন। তারাতো পরিবেশ এখন এখনই মেরামত করতে হবে বিজ্ঞানীদের এই ধারনাকেই বিশ্বাসে নিতে পারেন নাই। রাজনীতির দু’পক্ষকেই এই ধরনের জাতীয় এবং বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান এখনই এবং এক টেবিলে করতে হবে।

২০১৯ এ অস্ট্রেলিয়া কেমন ছিলো ঘরের জানালা খুললেই টের পাওয়া যায়। নি:স্বাস নিলেই টের পাওয়া যায় এটি প্রশান্ত মহাসাগরস্নাত সেই নির্মল বায়ু নয়। ধোঁয়ায় নি:স্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ট্রেইন, বাসসহ পাবলিক ট্রান্সপোর্টে আগে কখনো এতো লোককে কফিং করতে দেখা যায়নি। ধুম্রজাল আমাদেরকে যেনো অন্ধ করে দিয়েছে। সমুদ্র সৈকত থেকে সৈকত অবধি পাশ ঘেষে সবুজ আর সবুজ থেকে এখন অগ্নিস্ফুলিংগ নির্গত হচ্ছে সর্বক্ষণ।

২০১৯ শেষে সর্বত্র একটি প্রশ্ন সরকার প্রধান স্কট মরিসন কেমন ছিলেন? পরিবেশ রক্ষায় কি কি পদক্ষেপ নিলেন? পরিবেশ রক্ষা না করতে পারলে কিভাবে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারবেন?

অস্ট্রেলিয়ান জনগন হলিডে সিজনে বারবিকিউ করতে পারেনি। বিভিন্ন স্থানীয় পর্যায়ে ফায়ার ওয়ার্কস বন্ধ করে অর্থ বুশফায়ার ভিকটীম পরিবারগুলো দেয়া হয়েছে। মরিসনকেই সবাই এর জন্য দায়ী করছেন। অপর দিকে মরিসন কট্টর ধর্মবিশ্বাসী বলছেন গড তাঁকে ভোট দিয়েছেন কিন্তু বৃষ্টি দিচ্ছেননা। ধর্ম এবং গডের ওপর চাপিয়ে দিয়ে রেহাই পেতে চাচ্ছেন। What a bad man he is!

মরিসন সরকারের প্রথম পুরো বছরটি প্রাকৃতিক এবং মনুষ্য তৈরী দূর্যোগে পরিপূর্ণ ছিলো। ইতিহাস হয়তো তাঁর প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রথম অধ্যায় এই ভাবে নির্মিত করবে, “চমৎকার নির্বাচনী বিজয়! অতপর নীরবে হাওয়াই ভ্রমন যখন দেশ আগুনে পুড়ছিলো।” তাঁর হলিডে পালনের সময় নিউইয়র্কের ধর্মপ্রচারক গির্জায় ধনকুবের গির্জা পরিচালকের সাথে সাক্ষাত এবং সেখানে থাকা পুরনো পুত্তলিকা স্পর্শ করা নিয়ে গুজব তৈরী হয়েছে। ঐ পুত্তলিকা স্পর্শ করায় নাকি তাঁর ওপর অভিশাপ বর্ষিত হয়েছে। তাই তিনি এতো প্রকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা করছেন।

স্কট মরিসনকেই বুঝতে হবে অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রী’র জন্য এসব গুজব কতোটা খারাপ হতে পারে। গত ১২ বছরে আমাদেরকে মাত্র ৬ জন প্রধানমন্ত্রী দেখতে হয়েছে। ৩ বছর মেয়াদী সরকারে আমাদের দেখার কথা ছিলো মাত্র ৪ জন। অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীর দায় দলের অন্য সংসদ সদস্যগন মেনে নিতে চাননা বা নিজেদের ক্যারিয়ার ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চাননা। তাই পার্টিরুমেই প্রধানমন্ত্রীর কুপোকাত ঘটে।

সব মিলিয়ে ২০১৯ আমাদের জন্য ভালো ছিলোনা। পুরো বছর খরার কারনে দুগ্ধ খামারীদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের ভর্তুকি দিতে হয়েছে বা হচ্ছে। তারপরও তারা এই ওয়েদারে কতদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারবে তা’ বলা যাচ্ছেনা।

অপর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উন্মাদ ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর রাজত্বের চতুর্থ বছরে রয়েছেন। বিশ্ব একটি পাগল পাগল সময় অতিবাহিত করছে। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প হচ্ছেন তার ব্রাণ্ড। কংগ্রেসে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট ছিলো তাঁর খ্রিস্টমাস গিফট। ইউক্রেনিয়ান প্রেসিডেন্টের সাথে শঠতাপূর্ণ টেলিফোন কলের জন্য ট্রাম্পকে ক্ষমতার অপব্যবহারের অপরাধে ইমপিচড্ হতে হতে হলো। All these were madness! ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্য দেয়ার বিনিময়ে ট্রাম্প পলিটিকাল ফেবার চাইলেন। যা’ অবশ্যই ঘুষ দেয়ার সামিল। অথচ উন্মাদ ট্রাম্প এটাকে তাঁর স্বাভাবিক দায়িত্বের অংশ বলছেন!

আমেরিকার জনগনের ভাষা উদ্ধার করা এই মুহূর্তে কঠিন। ট্রাম্পের ঘুষ প্রদানের অফার নির্বাচনি রেসে তাঁকে কতোটা ক্ষতিগ্রস্ত করবে তা’ পরিমাপ্য নয়। তবে বিষয়টি ইতিহাসবিদরা মূল্যায়ন করবেন। কারন, সিনেট ট্রাইলে ট্রাম্প পার পেয়ে যাবেন। এবং সেক্ষেত্রে তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে পূণর্নিবাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নভেম্বর ২০২০ তাঁকে ভোটারদের ফেইস করতে হবে।

ইমপিচমেন্ট দিয়ে কি ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে টলাকে পারবে? তা’হলে হয়তো ট্রাম্পকে পপুলার ভোটে হারানো যেতে পারে। কোনো ডেমোক্র্যাট বেট করতে রাজি হবেননা আমি নিশ্চিত। ২০১৯ যে খারাপ যাবে তা’ ২০১৮’র শেষে অনুমান করা হয়েছিলো। ২০১৬ তে যেমন বিশ্বে দু’টি সংকট তৈরী হয়েছিলো- ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া এবং ব্রেক্সিট; ২০২০ এ সেই দু’টি সমস্যা পূনরায় আসছে। ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন এবং ব্রেক্সিট সমস্যা।

২০১৯ এ অস্ট্রেলিয়ায় সবচাইতে খুশির খবর ছিলো এ্যাশ বার্টির গ্রান্ড স্লাম ইভেন্ট বিজয় যা’ অস্ট্রেলিয়ার হৃত গৌরব ফিরিয়ে দিয়েছে। Ash Barty, just was the best in the world. অ্যাশেজ এ অবস্থান দৃঢ় ছিলো। স্টিভ স্মিথ বল টেম্পারিং করার লজ্জা থেকেও মুক্তি পেতে যাচ্ছে যা’ টীমের জন্য সুখবর।

ওয়ান ন্যাশন পার্টির পলিন হ্যানসন এখনও রেসিস্ট হিসেবে চিহ্নিত। সিনেটে অনেকটাই নির্জীব ছিলেন। তবে ২০১৯ এ রাজনীতিই ছিলো আনন্দ পাওয়ার বিষয়বস্তু বা আনন্দের বিষয়বস্তু ছিলো রাজনীতি।

অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য ফেডারেল ইলেকশনের মাত্র ২ দিন পূর্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বব হকের অন্তর্ধান ছিলো কষ্টদায়ক। লেবার প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি সর্বজন শ্রদ্ধেয় ছিলেন। জাতীয় বীর হিসেবেই রাজনীতির সকল পক্ষ তাঁকে স্মরণ করে।

২০১৯ শেষে বিশ্ব নেতৃত্বের সবচাইতে বড় রেজোলিউশন হওয়া উচিত পরিবেশ এবং প্রকৃতিকে বাসযোগ্য রেখে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করা।
 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT