Main Menu

শাহজাহান স্যারের কাছে কোচিং না করলে ভর্তি পরীক্ষায় ফেল!

হাটহাজারী উপজেলা সদরের সরকারি পার্বতী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক শাহজাহানসহ বিদ্যালয়ের একটি সিন্ডিকেটের কাছে কোচিং করা অলিখিতভাবে বাধ্যতামূলক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন। আগামী ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চক্রটি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, শত শত পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলেও এ সিন্ডিকেটের কাছে যেসব শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়ে, তাদের ভর্তি প্রায় নিশ্চিত, অন্যথায় ফেল। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই কোটিংয়ে বাচ্চাদের ভর্তি করাতে বাধ্য হচ্ছেন।

অভিভাবকরা এ অবৈধ ভর্তি কোচিং বাণিজ্যের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছে। এডিসি (শিক্ষা) ও হাাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

সূত্রে জানা গেছে, হাটহাজারী সরকারি মডেল পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত খণ্ডকালীন শিক্ষক মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে চলে ভর্তি কোচিং বাণিজ্য। প্রধান শিক্ষকের কাছের লোক হিসেবে পরিচিতি থাকায় প্রভাব খাটিয়ে তিনি কোচিং করতে বাধ্য করেন শিক্ষার্থীদের। এ ভর্তি কোচিং থেকে অবৈধভাবে অর্জিত লাখ লাখ টাকা প্রধান শিক্ষক ও শাহজাহান ভাগ করে নেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

প্রচলিত আছে শাহজাহান স্যারের কোচিংয়ে পড়লে ভর্তি হওয়া যাবে। গত ২/৩ বছর ধরে শাহজাহান ভর্তি কোচিংয়ের প্যাকেজ ফি নির্ধারণ করেছেন ৮০০ হতে ১ হাজার টাকা। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার পর থেকে ভর্তি পরীক্ষার পূর্ব দিন পর্যন্ত ১২/১৫ দিন কিংবা যতদিনই পড়ানো হোক না কেন ১ হাজার টাকা অগ্রিম দিতে  হবে।

এবার শিক্ষক শাহজাহানের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি কোচিংয়ে ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা ফি দিয়ে ভর্তি হয়েছে প্রায় ৩০০ ছাত্রছাত্রী। এতে তিনি অবৈধভাবে মাত্র ১৫ দিনে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় তিন লাখ টাকা। বাধ্যতামূলক এ অবৈধ ভর্তি কোচিং নিয়ে এলাকায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থী মহলে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও উত্তেজনা। ফেসবুকসহ অনলাইনে চলছে এ নিয়ে নানা মন্তব্য।

পার্বতী স্কুলের মাঠের পশ্চিম পার্শ্বে স্কুলের নিজস্ব জায়গায় সরকারি কয়েকটি শিক্ষক আবাসনের ঘর দখল করে শাহজাহান কোচিং চালিয়ে যাচ্ছেন। বছরব্যাপী এখানে দিনরাত চলে কোচিং বাণিজ্য। এই অবৈধ বাণিজ্যের মাধ্যমে শাহজাহান প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা রোজগার করলেও স্কুলকক্ষের ভাড়া হিসেবে নামমাত্র ৩০০ টাকা দেন। অথচ এ ঘরগুলো প্রতিযোগিতামূলকভাবে ভাড়া দিলে মাসে বিদ্যালয়ের আয় হবে ২০ হাজার টাকার বেশি।  

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এক বেঞ্চে ৩-৪ জন শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে বসিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন শাহজাহান। সকাল ৭টা থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচে প্রতিদিন তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর ক্লাস নেওয়া হয়। এখানে বিশেষ কিছু শিখতে না পারলেও অভিভাবকরা শুধু নিশ্চিত ভর্তির টোপে পড়েই মাত্র ১৫ দিনের জন্য সন্তানকে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা ফি দিয়ে ভর্তি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাছাড়া এলাকার পরিচিত লোকজনের মাধ্যমেও কোচিংয়ের জন্য শিক্ষার্থী সংগ্রহ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, ভর্তির ফরম নেওয়ার সময় পিয়ন-চাপরাশিরা পরামর্শ দেন শাহজাহান স্যারের ভর্তি কোচিংয়ে ভর্তির জন্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন, আমি জানি ১৫ দিনে ছেলে তেমন কিছু শিখতে পারবে না। জানতে পেরেছি শাহজাহান স্যারের কোচিংয়ে ভর্তি না হলে ভর্তি পরীক্ষায় টেকা যায় না। তাই ইচ্ছা না হলেও বাধ্য হয়ে ভর্তি করেছি আমার সন্তানকে। সূত্র জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব লোক হওয়াতে শাহজাহানের এ ভর্তি কোচিং নিয়ে বিভিন্ন কথা প্রচার আছে। এ অবৈধ প্রক্রিয়ায় ভর্তি কোচিং করানোর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বেআইনিভাবে সুষ্ঠু প্রতোযোগিতা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, সরকার কোচিং, প্রাইভেট কিংবা, ভর্তি কোচিং আইন করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও বিদ্যালয়ের একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক কিভাবে প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনে-দুপুরে এ অবৈধ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন? সরকারি বিধি অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষায় কোচিং কিংবা প্রাইভেট নিষিদ্ধ হলেও বিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে  প্রকাশ্যে অবৈধ ভর্তি কোচিং চালাচ্ছেন শাহজাহান। এমন নীপিড়নমূলক  কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করে বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান একাধিক শিক্ষক।

পাশাপাশি এ অবৈধ ভর্তি কোচিংয়ের সঙ্গে জড়িত শিক্ষক শাহজাহানকে ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম থেকে বিরত রাখাসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক-অভিভাবক ও সচেতন এলাকাবাসী।

বিদ্যালয়ের মূল্যবান ঘর নামমাত্র ৩০০ টাকায় ভাড়া দেওয়া এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহজাহানের ভর্তি কোচিং বাণিজ্য বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দীনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি প্রথমে ফোন ধরেননি। তবে পরে ফোনে তাকে পাওয়া গেলে তিনি জানান, ভর্তি কোচিং বাণিজ্যকে যে অবৈধ করা হয়েছে তা তিনি জানেন না। আর বিদ্যালয়ের কক্ষগুলো মাসে ৩০০ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে কোচিং সেন্টারকে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে তিনবার। তিন দফা ভর্তি পরীক্ষার মধ্যে প্রথমবার ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় পৌনে ৩০০ শিক্ষার্থী ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। এবার ২৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে উল্লেখ করে গত বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী ভর্তি ফরম সংগ্রহ করেছে।

জানতে চাইলে এডিসি (শিক্ষা) আবু হাসান সিদ্দিক গতরাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক ভর্তি কোচিং পরিচালনা করতে পারেন কিনা তা আমি এ মুহূর্তে নিশ্চিত নই। তবে পরিপত্র অনুযায়ী যদি বেআইনি হয় তাহলে আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

একইভাবে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন এ বিষয়ে এডিসির (শিক্ষা) দেওয়া বক্তব্যই তার বক্তব্য বলে গতরাতে  জানিয়েছেন।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT