Main Menu

দুই দিনে ফিরেছে ৪২ মরদেহ

১৯৭৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সরকারি হিসাবে বাংলাদেশ থেকে এক কোটি ২৮ লাখ তিন হাজার ১৮৪ জন চাকরি নিয়ে বিদেশে গেছেন। তবে বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর মধ্যে প্রতি মাসেই ফিরে আসছেন বহু শ্রমিক। বিদেশে যাওয়া শ্রমিকদের তথ্য-উপাত্ত বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ডাটাবেইসে উল্লেখ থাকলেও ফেরত আসা শ্রমিকদের কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। একই সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই দেশে আসছে প্রবাসে মারা যাওয়া কর্মীদের লাশ। বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ও শনিবার এই দুই দিনেই ৪২ প্রবাসী শ্রমিকের লাশ দেশে এসেছে। গত ১১ বছরে  সবচেয়ে বেশি লাশ এসেছে চলতি বছরে। ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিন হাজার ৮৩৮ প্রবাসী কর্মীর মরদেহ দেশে আসে। এর মধ্যে রয়েছে ১২৯ নারী কর্মীর লাশ।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারগুলোতে চলা অস্থিরতা এবং বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণার কারণেই দেশে ফিরতে বাধ্য হওয়া প্রবাসীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, মানসিক চাপ, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাসহ নানা কারণে লাশ হয়ে দেশে ফিরছেন প্রবাসীরা। জানা গেছে, অনেক টাকা খরচ করে বিদেশে যাওয়ার পর ঋণের টাকা পরিশোধের চাপ, প্রতিদিন ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা বিরামহীন পরিশ্রম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস, দীর্ঘদিন স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকাসহ নানা কারণে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। চূড়ান্ত অবস্থায় মৃত্যুর কারণ হিসেবে জানা যায়, বেশির ভাগ প্রবাসী মারা যান হার্ট অ্যাটাকে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্ক সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে ২৩১৫ জন, ২০১০ সালে ২২৯৯ জন, ২০১১ সালে ২২৩৫ জন, ২০১২ সালে ২৩৮৩ জন, ২০১৩ সালে দুই হাজার ৫৪২ জন, ২০১৪ সালে দুই হাজার ৮৭২ জন, ২০১৫ সালে দুই হাজার ৮৩১ জন, ২০১৬ সালে দুই হাজার ৯৮৫ জন, ২০১৭ সালে দুই হাজার ৯১৯ জন এবং ২০১৮ সালে তিন হাজার ৫৭ জনের মরদেহ দেশে আসে। অর্থাৎ গত ১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসীর লাশ দেশে এসেছে এ বছর। ২০১৮ সালের চেয়ে এ বছরের ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত আট শতাধিক প্রবাসীর লাশ বেশি এসেছে দেশে।

ভিটামাটি বিক্রি এবং ঋণ করে বিদেশে গেলেও এখন খালি হাতে ‘জীবন্ত লাশ’ হয়ে দেশে ফেরত আসছেন হাজার হাজার শ্রমিক। চলতি বছরের ১১ মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে আউট পাস (ট্রাভেল পাস) নিয়ে দেশে ফিরেছেন ৫৫ হাজার ৩৩৫ বাংলাদেশি। শুধু সৌদি আরব থেকে খালি হাতে ফিরেছেন ২৪ হাজার ২৮১ জন। এই সব শ্রমিকের বেশির ভাগেরই আকামা কিংবা কাজের মেয়াদ থাকার পরও পুলিশ গ্রেপ্তার করে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক মন্দাসহ নানা কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভুগতে হচ্ছে। সম্প্রতি যেসব কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে গেছেন, তাঁরা কাজ না থাকা, ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা, আকামা না দেওয়া, প্রতারণাসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায়ই পাঁচ লাখের বেশি শ্রমিক অবৈধ হয়ে অমানবিক জীবন যাপন করছেন। ধীরে ধীরে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির বাজারে যেন অন্ধকার নেমে আসছে।

নতুন শ্রমবাজার খোলা তো দূরের কথা, পুরনো শ্রমবাজারই একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আরব আমিরাত, কুয়েত, ইরাক, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, লেবাননসহ কয়েকটি দেশে জনশক্তির বাজার এখন প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। এ অবস্থায় কর্মী যাওয়ার পুরো চাপ সৌদি আরব, ওমান ও কাতারে। লাখ লাখ টাকা খরচ করে সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়াসহ নানা কারণে অনেকেই খালি হাতে দেশে ফিরছেন।

শ্রম অভিবাসন বিশ্লেষক হাসান আহমেদ কিরণ বলেন, ‘সৌদি থেকে প্রতিদিনই খালি হাতে শ্রমিকরা দেশে ফেরত আসছেন। ওই সব শ্রমিকের অনেকেরই বৈধ আকামা থাকার পরও দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আমিরাতের মতো বড় একটি শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা এখনো করতে পারিনি। আমরা মনে করি, এ জন্য শুধু কূটনৈতিক তৎপরতা দিয়েই হবে না, রাজনৈতিক তৎপরতাও লাগবে।’

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘প্রচলিত শ্রমবাজারের ওপরই এখনো নির্ভরশীল আমরা। নতুন বাজার খুঁজতে তৎপরতা চালিয়ে গেলেও আশার আলো নেই সেভাবে। উল্টো পুরনো মার্কেটগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে গেছে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে। আরব আমিরাতের বাজার বন্ধ, মালয়েশিয়ার বাজারটিও বন্ধ।’


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT