Main Menu

সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দারা আন্দোলনের পথে

ফ্ল্যাট নয়, নিজ নামে জমি এবং আলাদা আলাদা বাড়ি, এমন একাধিক দাবিতে কোচবিহারের হলদিবাড়ি মেখলিগঞ্জ এবং দিনহাটায় অবস্থিত তিনটি এনক্লেভস সেটেলমেন্ট ক্যাম্পের প্রায় শতাধিক বাসিন্দা আজ স্মারকলিপি দিলেন জেলাশাসকের দপ্তরে। জেলাশাসকের দপ্তরে সামনে তারা দেখান বিক্ষোভও।

হলদিবাড়ি সেটেলমেন্ট ক্যাম্পের বাসিন্দা অন্য প্রসাদ রায় দিনহাটার কৃষি মেলায় অবস্থিত এনক্লেভ সেটেলমেন্ট ক্যাম্পের বাসিন্দা ওসমান গনিরা বলেন, আমাদের নিজ নামে জমি এবং আলাদা আলাদা বাড়ি চাই। কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষিত যে প্যাকেজ আছে, তা আমাদেরকে জানাতে হবে। এই সরকারকে আমাদের বাংলাদেশে ছেড়ে আসা জমি তাড়াতাড়ি বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ অর্জিত যে সমস্ত সার্টিফিকেট রয়েছে সেই সমস্ত সার্টিফিকেটগুলো এখানে চাকরির ক্ষেত্রে এবং স্কুল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে পূর্ণ অধিকার দিতে হবে! মূলত এই দাবিতে আমরা জেলা শাসকের কাছে ডেপুটেশন দিলাম দাবি জানালাম।

অন্যপ্রসাদ রায় বলেন, আজকে ডেপুটেশন দেওয়া হলো। পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি আমরা দুয়েকদিনের মধ্যেই বসে ঠিক করব। আমরা এখন যেটা করছি, তিনটি সেটেলমেন্ট ক্যাম্পের বাসিন্দারাই একত্রিতভাবে আন্দোলন করছি।

২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ল্যান্ড বাউন্ডারি চুক্তি অনুযায়ী দু'দেশের মধ্যে থাকা ছিটমহল বিনিময় হয়ে যায়।

ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা মেখলিগঞ্জ মহকুমার মধ্যে থাকা বাংলাদেশি ছিটমহলগুলোর সমস্ত জমি ভারতীয় গ্রামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। সেই সঙ্গে সমস্ত বাংলাদেশি ছিটমহলের বাসিন্দারা ভারতীয় নাগরিক হয়ে যান। অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে সমস্ত ভারতীয় ছিল সেই জমির বাসিন্দাদের অধিকাংশ বাংলাদেশে থেকে যায়। পরবর্তীতে সেখান থেকে ৯২১ জন ভারতীয় ছিটমহলের বাসিন্দা ভারতীয় ভূখণ্ডে চলে আসেন ভিটেমাটি ছেড়ে।

৯২১ বাসিন্দাকে দিনহাটা মেখলিগঞ্জ এবং হলদিবাড়ি তে এনক্লেভ সেটেলমেন্ট ক্যাম্প করে রাখা হয়। ৯৬ টি পরিবার হলদিবাড়ির সেটেলমেন্ট ক্যাম্পে থাকে। এই ৯৬ টি পরিবারের জন্য হলদিবাড়িতে ১০৪ টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। দিনহাটা এবং মেখলিগঞ্জে ও ফ্ল্যাট তৈরির কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে।

ফ্লাট নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত অনেকদিন আগেই ঘটেছে। শুরু থেকেই এনক্লেভ সেটেলমেন্ট ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানিয়ে আসছিলেন, তারা ফ্ল্যাট কালচারে অভ্যস্ত নয়, তারা ফ্ল্যাট চান না। কিন্তু তা সত্ত্বেও এদের পুনর্বাসনের জন্য তৈরি হয়েছে ফ্ল্যাট।

আর ছিটমহলের এই বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রশাসনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়ে যায় গত ১৮ তারিখ কোচবিহার রাসমেলা ময়দান এর সাংস্কৃতিক মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মেখলিগঞ্জ এর ২০টি পরিবারের হাতে ফ্লাটের চাবি তুলে দেওয়ার পর থেকে।

২০টি পরিবার মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে ফ্লাটের চাবি নিলেও তারপরের দিনই হলদিবাড়িতে বাকিদের হাতে ফ্ল্যাটের চাবি তুলে দেওয়ার আয়োজন করেছিল ব্লক প্রশাসন। কিন্তু ফ্লাটের চাবি নেওয়ার অনুষ্ঠান বয়কট করে হলদিবাড়ি এনক্লেভ সেটেলমেন্ট ক্যাম্পের বাসিন্দারা।

হলদিবাড়ি এনক্লেভ সেটেলমেন্ট ক্যাম্পের বাসিন্দা অন্য প্রসাদ রায় বলেন, যে ২০টি পরিবার মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে ফ্লাটের চাবি নিয়েছিল, তারাও এখন ফ্লাটে যায়নি এবং ফ্লাটে যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT