Main Menu

গুজব, ডেঙ্গু, গুজব, অতঃপর…

রাশেদুল ইসলাম: আমি সংবেদনশীল মানুষ । সাধারণ মানুষের দুঃখ বেদনা আমাকে স্পর্শ করে । হয়ত  এ কারণেই ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওায়া ঘটনায় আমি মর্মাহত । খবরে প্রকাশ-  এক হিন্দু যুবক ফেসবুকে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এবং মা ফাতিমার প্রতি অশালীন মন্তব্য করেছেন   বলে অভিযোগ উঠে । এটাকে কেন্দ্র করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি, সংঘর্ষ, কয়েকজনের মৃত্যু  এবং তারই ধারাবাহিকতায় থানায় মামলা; অতঃপর পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে হাজারও মানুষের পলাতক থাকা- এসব ঘটনা ঘটে যায়  একের পর এক । এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কয়েকজনের প্রতিক্রিয়া জানার সুযোগ হয় আমার । নূরানি চেহারার এক তরুণ হুজুর  উত্তেজিত ভাষায় জানান, নবী (সঃ) ‘র নামে কোন খারাপ মন্তব্য শুনলে তাঁর রক্ত টগবগ করে; শহীদ হতে ইচ্ছে করে । আর এক যুবক জানান,  নবী সম্বন্ধে কেউ কটূক্তি করলে, তাঁর জেহাদ করতে ইচ্ছে হয়; জীবন দিতে ইচ্ছে করে । আমাদের দেশের ধর্মভীরু এই সাধারণ মানুষকে আমি শ্রদ্ধা করি । নবী করিম (সঃ) এঁর জন্ম যে দেশে-  সেই সৌদি আরবের মানুষও আমাদের দেশের মানুষের মত এমন ধর্মভীরু নয় । এ দেশের মানুষ নবী করিম (সঃ) কে কটাক্ষ করা হয়েছে বা পবিত্র কোরআন অবমাননা করা হয়েছে- এ ধরণের খবর শোনা মাত্রই কোন কার্যকারণ চিন্তা না করেই  উত্তেজিত হয় এবং জীবন দিতে প্রস্তুত হয়ে যায় । কিন্তু, দুঃখের বিষয় হবে সেটাই, যদি এ ধরণের জীবন দেওয়া ধর্মসম্মত না হয়; বা যে ধর্মের কারণে নিজের জীবন উৎসর্গ করা হচ্ছে; সেই ইসলাম ধর্ম যদি এভাবে জীবন দেওয়া সমর্থন না করে । এরুপ ক্ষেত্রে  যিনি ধর্মের নামে জীবন দিলেন, তাঁর নিজের ইহকাল- পরকাল দুটো তো গেলই; তাঁর পরিবার পরিজনদের জীবনও অনিশ্চিত হয়ে গেল । তাই, আমার মনে হয় এসব বিষয়ে পবিত্র কোরআন এবং হাদিসের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা আমাদের সকলের জানা দরকার ।  

পবিত্র কোরআনে মানুষকে  ‘সহজাত বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণী’  হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ( সুরা মায়েদা,  আয়াত ১০০) । বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ্‌র কাছে নিকৃষ্টতম জীব সেই মূক ও বধিররা, যারা তাদেরকে প্রদত্ত বিচারবুদ্ধি ব্যবহার করে না’ (সূরা আনফাল, আয়াত ২২) । এ দুটি আয়াতের সারকথা এই যে, সাধারণ বুদ্ধিজ্ঞানসম্পন্ন এই  মানুষ কোন সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে যদি তার নিজের সাধারণ জ্ঞানবুদ্ধি ব্যবহার না করে- তাহলে সে মানুষ নয়; মানুষের চেয়ে অধম অন্য কোন প্রাণী ।

গত জুন-জুলাই মাসে   পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে এবং  ছেলেধরাদের মাধ্যমে সেই মাথা সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে  একটা গুজব ছড়িয়ে পড়ে । অনেকেই জানেন, তাসলিমা রেনুর মত অসম্ভব সুন্দর মনের সুশিক্ষিত  নিরপরাধ এক ভদ্রমহিলাও সেই গুজবের শিকার হন । খোদ ঢাকা শহরেই ছেলেধরা সন্দেহে তাঁকে গণপিটুনিতে  নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় । পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যখন কেউ কোন নিরাপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করল, সে যেন  সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল’ (সূরা মায়েদা, আয়াত ৩২ ) । ফলে, যে বা যারা সেই গণপিটুনিতে অংশ নিয়েছেন, দুনিয়ার বিচারে কি হোল বড় কথা নয়, পবিত্র কোরআনের বিচারে তারা মহাপাপের ভাগিদার হয়ে রইলেন । অথচ, নিজের সাধারণ জ্ঞান  ব্যবহার করলে মানুষ এ ধরণের গুজব থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে । সেতু নির্মাণে কি মানুষের মাথার প্রয়োজন হয় ? যদি না হয়, তাহলে পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথার প্রয়োজন হবে কেন ? পদ্মা সেতুর কোন অংশে এবং কোথায়, কিভাবে মানুষের মাথা ব্যবহার করা হবে ? এ সব প্রশ্ন অন্য কাউকে করার দরকার নেই । নিজেকেই   করুন- নিজেই এসব প্রশ্নের জবাব পেয়ে যাবেন । যিনি এভাবে নিজের সাধারণ জ্ঞান ব্যবহার করতে পারেন, তিনি কখনও কোন গুজবে কান দেবার কথা নয় । আর, একজন মুসলমান হিসেবে এ ধরণের গুজবে কান দেওয়া ধর্মসম্মত নয় । 

গুজবে তাসলিমা রেনুর করুণ মৃত্যু জনমনে এক ধরণের  আতঙ্ক সৃষ্টি করে । সেই আতঙ্ক শেষ না হতেই ডেঙ্গু আতংক  শুরু হয় । ঘরে ঘরে আতংক । হাসপাতালে ‘ঠাই নাই , ঠাই নাই’ অবস্থা ।  ডেঙ্গু অবশ্য কোন গুজবের কারণে নয় । তবে, ধর্মের বিধান যথাযথ অনুসরণ না করা ডেঙ্গু  রোগের মূল কারণ । ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে সরকার এবং দেশের সর্বস্তরের জনগণ সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়  । দেশের সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব অফিসআদালত থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে;  এখনও হচ্ছে । অথচ, ধর্মের সাধারণ অনুশাসন মেনে চললে – ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব হত না । এত ধরণের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনও  পড়ত না । একটু ব্যাখ্যা দিলেই বিষয়টি পরিস্কার হতে পারে ।   

আমরা জানি ইসলাম ধর্ম ৫ (পাঁচ) টি ( কলেমা, নামাজ, রোজা, হজ্ব ও যাকাত) স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত । প্রথম  স্তম্ভের নাম কলেমা । আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন প্রভু নেই এবং হযরত মোহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর রসূল – কলেমার এই বিবৃতি শতভাগ বিশ্বাস করা  বা এই কথার উপর ঈমান আনা মুসলমান হওয়ার প্রথম শর্ত । কোরআনে বলা হয়েছে, এ ধরণের বিশ্বাসী এবং সৎকর্মশীল ব্যক্তিগণই বেহেস্ত যাবে (সূরা মায়েদা, আয়াত ৯)। আর, ইসলাম ধর্মে  পরিস্কার- পরিচ্ছন্নতাকে এই বিশ্বাসী হওয়া ঈমানের অঙ্গ বলা হয়েছে । নবী করিম (সঃ) নিজের আবাসস্থল এবং পোশাক পরিচ্ছদ সব সময় পরিচ্ছন্ন রাখতেন । দিনে ৪/৫ বার নিজের দাঁত মাজতেন;   যেন তিনি নিজে বা অন্য কেউ তাঁর মুখের গন্ধ না পায় । পবিত্র কোরআনে রসুলকে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে । বলা হয়েছে, ‘রসুল যা করতে বলেন, তাই তোমরা কর’ (সুরা আনফাল,আয়াত ২৪) । ফলে, মুসলমান হওয়ার প্রাথমিক শর্ত  হিসেবে নবীকে ঠিকমত অনুসরণ করা হলে, আজ আমাদের ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য নিজেদের ঘরবাড়ি, অফিস আদালত পরিস্কার করার অভিযানে নামতে হত না । এমনিতেই আমাদের ঘরবাড়ি, অফিসআদালত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতো । 

আমি বলছিলাম  ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা ট্রাজেডির কথা-  যার সূচনা একজন হিন্দু যুবকের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া নিয়ে । জানা গেছে  ছেলেটির ফেসবুক পাসওয়ার্ড আগেই হ্যাক হয় এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাঁর ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে  নবী (সঃ) এবং মা ফাতিমার নামে অশালীন মন্তব্য করা হয় । আমি সে আলোচনায় যেতে চাইনে । আমার প্রশ্ন  সত্যিই যদি ভিন্ন ধর্মের বা অন্য কেউ প্রিয় নবী করিম (সঃ), তাঁর পরিবার বা পবিত্র কোরআন সম্পর্কে কোন বিরূপ মন্তব্য করে-   তাহলে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে তার প্রতিকার কি ? 

ইসলামে  কোরআনকে মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান (Complete Code of Life)  বলা হয়েছে । প্রকৃতপক্ষে মানুষের দৈনন্দিন ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে উদ্ভূত অনেক সমস্যা পবিত্র কোরআন এবং সুন্নাহর   আলোকে সমাধান করা সম্ভব । এখানে প্রশ্ন, নবীর জীবদ্দশায় কি তাঁর প্রতি কেউ অশালীন উক্তি করেনি ? নবী করিম (সঃ) নিজে কি কখনও অপমানিত হননি ? যদি  নবী করিম ( সঃ) এঁর ব্যক্তিজীবনে এসব ঘটে থাকে, সে ক্ষেত্রে তিনি নিজে কি করেছেন ? তিনি কি পাল্টা কোন ব্যবস্থা নিয়েছেন ? তিনি কি এ কারণে কারো বিরুদ্ধে  কোন প্রতিশোধ নিয়েছেন ? এসব প্রশ্নের জবাব সকল মুসলমানের জানা । আমি শুধু এখানে পবিত্র কোরআনের ‘সূরা কাফিরুন’ এর শানে নজুল উল্লেখ করতে চাই । 

ইসলামের সূচনা লগ্নে কেউ ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলে তাঁর উপর নিষ্ঠুর নির্যাতন করা হত । কিন্ত, তারপরও ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারীর  সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার এক পর্যায়ে, মক্কার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ নবী করিম (সঃ) কে একটি প্রস্তাব দেন । তাঁদের প্রস্তাব ছিল,  যদি নবী করিম (সঃ) অন্তত কিছুদিনের জন্য তাঁদের ধর্ম মেনে নেন; তাহলে তাঁরা নিজেরাও ইসলাম ধর্ম মেনে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে । সে সময় এ সমস্যায় নবী করিম (সঃ) এঁর করণীয়  হিসেবে সূরা কাফিরুন অবতীর্ণ হয় । এই সূরার সারকথা ছিল- ইসলাম ধর্ম এবং তৎকালে মক্কার প্রচলিত ধর্ম সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী । ফলে, তাঁদের প্রস্তাব গ্রহনের কোন অবকাশ নেই । সূরাটির শেষ আয়াতে বলা হয় , ‘অতএব, তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আমার জন্য আমার ধর্ম’  ( সূরা কাফিরুন, আয়াত ৬) । অর্থাৎ, নবীর কাজ হবে ধর্মপালনের ক্ষেত্রে কলহবিবাদ নয়; শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ বিশ্বাসমতে নিজেদের ধর্ম পালনের সুযোগ চাওয়া । কোরআনের এই বিধানের আলোকে বোরহানউদ্দিনের অনুরূপ ঘটনায় হিন্দু এবং মুসলমান- এই দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের  নেতৃবৃন্দ আলোচনায় বসার সুযোগ ছিল । পাশাপাশি প্রচলিত আইনের আওতায় বিচারের জন্যে আদালতের আশ্রয় নেওয়া যেত বলে আমাদের মনে হয়েছে । সেক্ষেত্রে জীবনহানির মত ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যেত । পবিত্র কোরআন নিয়ে কটাক্ষ করার বিষয়টিও একইভাবে নিস্পত্তি করা সম্ভব বলে মনে হয়  । প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় এখানে আর একটি ঘটনার উল্লেখ করা যেতে পারে । 

একবার রাজা   আবরাহা বিশাল হস্তিবাহিনি নিয়ে ক্বাবাঘর ধ্বংস করতে মক্কায় আসেন । রাজার বাহিনি নবী করিম (সঃ) এঁর পিতামহ এবং পবিত্র  ক্বাবাঘরের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মুত্তালিবের ২০০ উঠ ধরে নিয়ে যায় । আবদুল মুত্তালিব তাঁর উঠগুলি উদ্ধারের জন্য রাজার সাথে দেখা করেন  এবং উঠগুলি ফেরত দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান । তিনি ক্বাবাঘর রক্ষা বিষয়ে কোন কথা না বলাই, রাজা আবরাহা তাঁর উপর রেগে যান । তখন আবদুল মুত্তালিব জানান, তিনি উঠের মালিক, তাই উঠ রক্ষার জন্য  এসেছেন । কিন্তু, ক্বাবাঘরের মালিক তিনি নন । ক্বাবাঘরের যিনি মালিক, তিনিই ক্বাবাঘর রক্ষা করবেন (সিরাতে রাসুলুল্লাহ (সঃ), পৃষ্টা ৪৬) । এখানে উল্লেখ্য, পবিত্র কোরআনের মর্ম অনুযায়ী ক্বাবাঘর এবং কোরআন রক্ষার দায়িত্ব  স্বয়ং আল্লাহর ।

উপরের  আলোচনা থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, আমাদের দেশে  চলমান অনেক সমস্যার নিরসন অনেক ক্ষেত্রেই ধর্মীয় অনুশাসন সম্পর্কিত । এ কারণে ধর্মের মৌলিক বিষয় সম্বন্ধে মাতৃভাষায় একটি স্বচ্ছ ধারণা সাধারণ মানুষকে দেওয়া সম্ভব হলে,  অনেক সামাজিক সমস্যা এমনিতেই মিটে যেতে পারে । এক্ষেত্রে মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারে । এখানে উল্লেখ্য যে, ‘বাংলাদেশে জুম্মার নামাজ পড়া হয় এ ধরণের  মসজিদের সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৫ হাজার ৯ শ’ ৪০টি । প্রতি জুম্মার নামাজে মোট মুসল্লি সংখ্যা ২ কোটি ৬৪ লক্ষ । জুম্মার নামাজের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় মোট ১০ কোটি ৪৪ লক্ষ মানুষের মধ্যে’ (ডঃ আবুল বারকাত) । এই সুন্দর  প্লাটফর্মটি ব্যবহার করে এদেশের সাধারণ মানুষকে ধর্ম বিষয়ে একটি স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া যেতে পারে । এ বিষয়ে মসজিদের ইমাম এবং সম্মানিত আলেমগন অনেক বড় ভুমিকা রাখতে পারেন । 


 

এক্ষেত্রে নিম্নরুপ ব্যবস্থা গ্রহন করা যেতে পারেঃ 

 

১) (ক)  দেশের সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিতকরণ  এবং সেগুলো সমাধানের জন্য একটা কর্মকৌশল নির্ধারণ । 

     (খ) কর্মকৌশলের আলোকে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন   এবং তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহন । 

 ২)  সমাজের কোন সমস্যা সমাধানে কোরআনের কোন আয়াত বা হাদিসের কোন অংশ   কিভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নির্ধারণ করা এবং সে অনুযায়ী বিষয়বস্তু ঠিক করা । এক্ষেত্রে পবিত্র কোরআন বা হাদিসের মূল অর্থের যেন কোন পরিবর্তন না হয়; সে  বিষয়ে যথাযথভাবে আলেমগন নিশ্চিত করবেন ।

৩) বিষয়বস্তু অনুযায়ী প্রচারণা বা বক্তব্য কৌশল বিষয়ে মসজিদের  ইমামগণকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন নিশ্চিত করা ।

৪) প্রচারের  জন্য সুপরিকল্পিতভাবে অনলাইনসহ সকল ধরণের প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করা ,

৫) স্থানীয় প্রশাসনসহ  সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্তকরন । 

৬) অন্যান্য  ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে  তাঁদের স্ব স্ব ধর্ম অনুযায়ী একইভাবে ব্যবস্থা গ্রহন ।  

আমাদের সমাজ ব্যবস্থায়  ধর্ম একটি স্পর্শকাতর বিষয় । কেবলমাত্র ধর্মীয় নেতা এবং আলেমগনের  সক্রিয় সহযোগিতায় প্রস্তাবিত কার্যক্রম গ্রহন করা যেতে পারে । এ ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া  হলে একটি গুজবের পর আর একটি গুজব, তারপর ডেঙ্গু; ডেঙ্গুর পর আর একটি গুজব –অতঃপর আর একটা কিছু-   এই ধারাবাহিক প্রবণতা থেকে আমাদের প্রিয় দেশটি রক্ষা পেতে পারে ।  

বিষয়টি  সংশ্লিষ্ট সকলের  সদয় বিবেচনার জন্য ।      


 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT