Main Menu

২০০ পয়সা কমছে টাকার মূল্যমান

আমেরিকান ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা টাকার মূল্যমান প্রায় ২০০ পয়সার কমানো হচ্ছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে কয়েক ধাপে এই মূল্যমান কমানো হবে। এতে স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে আরো শক্তিশালী হবে ডলার। বিশ্ববাজারে রপ্তানি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে টাকা অবমূল্যায়নের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত রপ্তানিকারকদের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেমিট্যান্সে আগেই ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাকার অবমূল্যায়ন হলে রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি রেমিটাররাও লাভবান হবেন। আর ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আমদানিকারক ও ভোক্তারা। কারণ ডলারের মূল্যবৃদ্ধির জন্য আমদানি ব্যয় বাড়লে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে টাকার অবমূল্যায়নের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

জানা যায়, চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়াসহ অনেক দেশই তাদের রপ্তানিকারক ও রেমিটারদের সুবিধা দিতে নিজস্ব মুদ্রার অবমূল্যায়ন করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই ডলারের বিপরীতে টাকার মান প্রায় একই জায়গায় স্থির রেখেছে বাংলাদেশ। এতে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে রপ্তানি আয়ও কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না। তাই টাকার মূল্যমান কমিয়ে রপ্তানি বাণিজ্য পরিস্থিতি উন্নতি করতে চাইছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ব্যতীত ডলারের দাম বাজার ব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া হলে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম ৯০ টাকা উঠত। কিন্তু বাজারে ডলারের দাম এখন সাড়ে ৮৪ টাকার মধ্যে রয়েছে। এই বিবেচনায় টাকার বিপরীতে ডলারের দাম দুই টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতেও প্রকৃত বিনিময় হারের অনেক নিচে থাকবে ডলারের দাম।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর কালের কণ্ঠকে বলেন, এটা অনেক আগেই করা উচিত ছিল। কারণ আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলো নিজেদের মুদ্রার মান আগেই কমিয়েছে। কিন্তু আমরা অবশেষে সেটি করলাম, কিন্তু তা একটু বিলম্বে। তবে দুই টাকা অবমূল্যায়ন করলেও সেটি কম হবে। তার পরও বলব এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। এতে রপ্তানি আয়ে গতি ফিরবে। রেমিট্যান্সও বাড়বে। মুদ্রার অবমূল্যায়নে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়বে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ এখন বেশির ভাগ পণ্যের দামই বিশ্ববাজারে কমতির দিকে রয়েছে। তা ছাড়া আমরা যে দুটি (চীন ও ভারত) দেশ থেকে বেশি পণ্য আমদানি করি, ওই দেশ দুটিও ডলার ও টাকার বিপরীতে তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করেছে। এতে তাদের পণ্য আমরা সস্তায় আনতে পারব। ফলে আমাদের ওপর দামের প্রভাব পড়বে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এরই মধ্যে গত ৬ অক্টোবর প্রথম ধাপে ১৫ পয়সা কমানো হয়েছে টাকার মূল্যমান। গত ৩ অক্টোবর আন্ত ব্যাংকে টাকার বিপরীতে প্রতি ডলার লেনদেন হয় ৮৪ টাকা ৫০ পয়সায়। ৬ অক্টোবর তা ১৫ পয়সা বেড়ে লেনদেন হয় ৮৪ টাকা ৬৫ পয়সায়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবারও ৮৪ টাকা ৬৫ পয়সাই প্রতি ডলারের লেনদেন হয়েছে। কয়েক দিন বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় ধাপে আবার ১০ থেকে ১৫ পয়সা বাড়ানো হবে ডলারের দাম। এভাবে আগামী দুই মাসের মধ্যে সব মিলিয়ে ২০০ পয়সা বাড়ানো হচ্ছে ডলারের দাম।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, সম্প্রতি বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বাজার মনিটরিং রিপোর্টের আলোকে টাকার মান কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে যুক্তি ছিল, টাকা ও ডলারের প্রকৃত বিনিময় হার (আরবিইআর) পর্যালোচনায় নেওয়া। বাজারে ডলারের দাম সাড়ে ৮৪ টাকায় লেনদেন হলেও আরবিইআর এখন প্রায় ৯০ টাকার কাছাকাছি। ফলে ডলারের দাম দুই টাকা বাড়ানো হলেও আরবিইআরের নিচেই থাকবে। দ্বিতীয় যুক্তি : তৈরি পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলো যেমন-ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ভারত প্রভৃতি দেশগুলো গত এক বছরে আমেরিকান ডলারের বিপরীতে তাদের মুদ্রার অনেকখানি অবমূল্যায়ন করেছে। এখন আমরা যদি অবমূল্যায়ন না করি, তাহলে আমাদের রপ্তানিকারকরা হোঁচট খাবে।

দেশে ২০০৩ সালে বাজারব্যবস্থার ওপরে ডলারের দাম ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ডলারের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারতি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। পেছন থেকে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে-কমিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অভিভাবক বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকগুলোর কাছে পাঁচ কোটি ৯০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে গত কয়েক দিন ধরে খোলাবাজারেও চড়েছে ডলারের দাম। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে ঘিরে অপরাধীদের একটি অংশের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। আবার অনেকে দেশে থাকলেও টাকা পরিবর্তন করে ডলার করে রাখছেন। এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ লোকই খোলাবাজার থেকে ডলার কিনছেন। কারণ, ব্যাংক থেকে ডলার কিনতে গেলে তার জন্য নানা কাগজপত্র লাগে। কিন্তু খোলাবাজার থেকে সহজে টাকা দিয়ে ডলার কেনা যায়। এ পরিস্থিতিতে খোলাবাজারে ডলারের চাহিদা বাড়লেও সে অনুযায়ী সরবরাহ নেই। এ কারণেই চাপ বেড়ে গেছে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT