Main Menu

ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দুপুর পর্যন্ত ঘুমান!

ঢাকা- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ দুই নেতার সকালে ঘুম ভাঙে না উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই দুই নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।

শনিবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। যৌথসভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সভায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র জানায়, বৈঠকে ছাত্রলীগের প্রসঙ্গ তোলেন স্বয়ং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। অন্তত ১০ মিনিট ধরে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রীকে দেখে মনে হয়েছে, তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ।

সূত্র আরো জানায়, ওই সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্পর্কে নানা অভিযোগ তোলেন উপস্থিত নেতারা। এসব অভিযোগের পর ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। বিশেষ করে তারা দুপুরের আগে ঘুম থেকে ওঠে না।’

এছাড়া বিতর্কিতদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেওয়া, বিবাহিত ও জামায়াত-বিএনপি সংশ্লিষ্টদের পদায়ন করা, অনৈতিক আর্থিক লেনদেন করা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনে গিয়ে সকাল ১১টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের অপেক্ষা করা, সম্মেলনের দুই মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজে কমিটি দিতে না পারা ইত্যাদি আলোচনায় উঠে আসে।

এদিকে সভা চলাকালে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেটা দেখতে পেয়ে আওয়ামী লীগের দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও আব্দুর রহমান তাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না করার পরামর্শ দেন। এরপরও তারা গণভবন ত্যাগ না করলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের গণভবন থেকে চলে যেতে বলেন। এরপর তারা গণভবন ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে গণমাধ্যমকে জানান, শুনেছি ছাত্রলীগের কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কমিটি ভাঙার মতো কিছু বলেননি। অনেকেই এই কমিটিকে নিয়ে বিতর্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তারাই এসব ছড়িয়ে থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১২ ও ১৩ মে সম্মেলন করেও কমিটি করতে ব্যর্থ হয় ছাত্রলীগ। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে দিকনির্দেশনা দেন। সে বছরের ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। চলতি বছরের ১৩ মে সম্মেলনের এক বছরের মাথায় ৩০১ সদস্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। এরপর থেকে সংগঠনটিতে অস্থিরতা আরও বাড়তে থাকে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT