Main Menu

নিরাপত্তা সঙ্কটে মানুষ: ডিজেবল হচ্ছে শত শত প্রোফাইল

সময় এখন স্মার্টফোনের। হাতের মুঠোয় এ স্মার্টফোনের ভেতরেই এতকিছু আছে, অন্য কোথাও বিনোদন খোঁজার দরকার হয় না। আর বিনোদন বা জীবনের অন্যতম অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইট হল ফেসবুক; কিন্তু বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারীরাই সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা সঙ্কটে আছেন। সামান্য কারণে যখন-তখন আইডি ডিজেবল, হ্যাকড, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়া এখন স্বাভাবিক বিষয়।

সবচেয়ে হতাশার ব্যাপার হল, এর জন্য দায়ী মূলত ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ব্যবহারকারীরা কোনো সমস্যায় পড়লে সমাধানের জন্য সরাসরি যোগাযোগ করার মতো কোনো কাস্টমার কেয়ার সুবিধা নেই। বরং স্বয়ংক্রিয়ভাবে রোবটের মাধ্যমে রিপ্লাই দেয়া হয়। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সঠিক সমাধান পাওয়া যায় না; কারণ রোবটের সীমাবদ্ধতা আছে, প্রোগ্রামে যা আছে তার বাইরে কিছু করার ক্ষমতা নেই। এতে অনেকে আইডি ফেরতের জন্য বারবার আপিল করেও কোনো ফল পাচ্ছে না।

ইদানীং ফেসবুকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, আইডি ডিজেবল হয়ে যাওয়া। ফেক আইডি, ফেক নাম, ভুল তথ্যের কারণে তো ডিজেবল হয়ই; কিন্তু এখন যে কেউ গ্রুপিং করে রিপোর্ট করে যে কারও আইডি ডিজেবল করে দিতে পারে। কয়েকজন মিলে যদি কোনো আইডিতে প্রিটেন্ডিং রিপোর্ট করে, ফেসবুক সেটা যাচাই না করেই ডিজেবল করে দেয়; এমনকি সেটি ১০ বছর ধরে চালানো রিয়েল আইডি হলেও। ডিজেবল করার পর ফেসবুক আইডি কার্ড সাবমিট করতে বলে। সেখানেই হল মূল সমস্যা। আইডি কার্ডগুলা একেক দেশে একেক রকম।

সবার পাসপোর্ট করা থাকে না। বাংলাদেশে এখনও সবাই স্মার্টকার্ড পায়নি, যারা সাময়িক আইডি কার্ড দিয়ে আপিল করেছে তাদের বেশিরভাগই আইডি ফিরে পায়নি। ফেসবুকের নিয়মে ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন আইডির কথা বলা থাকলেও সব আইডি ফেসবুক গ্রহণ করছে না। মূলত এ পদ্ধতিতে যেসব রিভিউ করা হয় তার সবই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রোবটের মাধ্যমে যাচাই করা হয়; কোনো মানুষের হাত নেই। সেক্ষেত্রে যতই বুঝিয়ে, সুন্দর করে লিখে আপিল করা হোক না কেন, ফেসবুক থেকে বারবার একই রিপ্লাই আসে।

ডিজেবল হওয়ার অনেক কারণ আছে। একেক জনের একেক রকম সমস্যা থাকে। কারও ডাক নাম হয়তো আইডির নামের চেয়ে আলাদা, কারও জন্মদিন মিল নেই। এসব যতই বুঝিয়ে লেখা হোক, সমাধান নেই। কারণ যাচাই করার জন্য মানুষ নেই। দেখা যায়, অনেক আইডি সহজেই ফেরত দিচ্ছে, আবার কিছু আউডি মাসের পর মাস শত আপিলেও কাজ হচ্ছে না। এছাড়াও কপিরাইট লঙ্ঘনের কারণে আইডি ডিজেবল হয় সেক্ষেত্রে থার্ড পার্টিকে মেইল করলেও রিপ্লাই পাওয়া যায় না এবং ফেসবুকও ক্লেইম করা পার্টি কপিরাইট উঠিয়ে না নিলে আইডি ব্যাক দেয় না। এখানেও কাজ করে ফেসবুক রোবট; তাই বুঝিয়ে বলে লাভ হয় না।
দ্বিতীয়ত, ভয়ংকর সমস্যা হল হ্যাকিং। গ্রুপ, পেজ, আইডি সবই হ্যাক হচ্ছে। ইদানীং অনেকের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হ্যাক বেশি হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ আইডি হ্যাক করে অনেক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এক্ষেত্রেও ফেসবুক চরম উদাসীন। এত বড় একটা প্লাটফর্ম, কিন্তু এখানে কার্যকর কোনো উপায় নেই, হ্যাকড আইডি ব্যাক আনার। ভালোভাবে একবার হ্যাকড হলে সেটা যাচাই করার সুযোগ ফেসবুক রাখেনি অথচ আইডির মূল মালিকের তৎক্ষণাৎ ছবি বা ভিডিও নিয়ে সেটা সহজেই করা যেত। এখানেও মানুষ যাচাই করে না, তাই কোনো লাভ হয় না আপিল করেও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফেসবুক এখন শুধু বিনোদনের জায়গা নয়। এটা এখন এত বড় কমিউনিটিতে পরিণত হয়েছে, মানুষ এখন তাদের প্রায় সব কাজে ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ব্যবসা, পড়াশোনা, গবেষণা, ভ্রমণ, খেলাধুলা কী নেই ফেসবুকে। সবকিছু ফেসবুকেই বসে করা যাচ্ছে। অন্যান্য প্লাটফর্মের সঙ্গে ফেসবুকের পার্থক্য হল, ইউটিউব শুধু ভিডিওর জন্য, আমাজন শুধু অনলাইন শপিংয়ের জন্যে বিখ্যাত; কিন্তু ফেসবুকে ভিডিও, অনলাইন মার্কেটিং, শপিং, খেলার লাইভ স্ট্রিমিং, রাজনীতি সবই আছে।

এত বিশাল ট্রাফিক অন্য কোথাও নেই; তাই এর সুযোগ নিচ্ছে সবাই। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবাই যার যার স্বার্থে ফেসবুক বৈধ এবং অবৈধভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে এসব বিপদ থেকে ব্যবহারকারীদের নিরাপদ রাখতে ফেসবুক অনেক জায়গাতেই ব্যর্থ হয়েছে। সেজন্য বেশ কয়েকবার জরিমানাও দিয়েছে তারা; কিন্তু এখনও অনেক সমস্যা অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

এর মধ্যে মূলে আছে সিকিউরিটি সমস্যা এবং পর্যাপ্ত হিউম্যান হেল্প না থাকা। এখন মানুষের জীবন অনেকটাই ফেসবুকনির্ভর। অনেকের ১০ থেকে ১২ বছরের আইডি ডিজেবল হচ্ছে; কিন্তু আপিল করেও সমাধান হচ্ছে না। অনেক তথ্য, স্মৃতি হারিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তারা। বাংলাদেশসহ অনেক দেশে ফেসবুকের অফিস নেই। যেখানে আছে, সেখানেও সবার প্রবেশাধিকার নেই; কারণ তারা বলে, এসব সমস্যা তারা অফলাইনে না, অনলাইনেই সমাধান করে। অথচ সারা বিশ্বেই বহু মানুষ ফেসবুকের এমন বাজে পদ্ধতির কারণে ভুক্তভোগী। ব্যবহারকারীরা বলছেন, ফেসবুক কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা এবং নিরাপত্তার ব্যাপারে আরও আন্তরিক হওয়া।

 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT