Main Menu

জয়া

টিএস রহমান: বদলি হলাম নীলফামারী। সরকারী বাসায় ওঠা যাবে না। জয়া থাকবে কোথায়? বাসা তিনতলার উপরে হলে তো ভয়ানক বিপদ। এক ব্যবসায়ীর তামাক-গুদামের লাগোয়া একটি বাসা। গুদামের ম্যানেজারের জন্য করা। তামাকের গন্ধে পালিয়েছেন তিনি। খালি পড়ে আছে। দেয়ালঘেরা একতলা বাড়ি। ইঁটের গাঁথুনি টিনশে। টিনের তাপ ঠেকানোর জন্য বাঁশের চটাবোনা রঙিন সুন্দর সিলিং। উঠোনের কলতলায় ছায়াদার দুটি বড় পেয়ারা গাছও আছে। বেশ পছন্দ হলো বাসাটি। জয়ার থাকার উপযুক্ত বটে। ব্যবসায়ীটি শোয়ারঘরসংলগ্ন একটি বাথরুমও করে দিলেন। ভাড়া নিয়ে উঠলাম সেই বাসায়। জয়া রাতে থাকে বারান্দায়। দিনে পেয়ারাতলায় একা একা খেলে।

অফিস থেকে ফিরে আমি ডাক দেই, ‘জয়া।’ খেলা ফেলে ও দৌড়ে আসে। জিজ্ঞেস করি, ‘খাওয়াদাওয়া হয়েছে তো রে বেটি?’ জয়া আদুরে মেয়ের মতো আমার হাঁটুতে গাল ঘষতে থাকে।

আমি স্বল্পাহারী মানুষ। বিকেলের চা-টা শুধু পান করি, নাস্তাটা আমার হয়ে খায় জয়া।

আবার বদলি হলাম। এবারে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা। নির্বাহী অফিসারের বাড়িটি দোতলার ছাদ ভেঙে পড়ে আছে। থাকতে হবে চেয়ারম্যানের কোয়ার্টারে। বাসিন্দা তো আমি, তনু আর জয়া। ঠিকে ঝি রেঁধে দিয়ে যায়। বাজার করে পিয়ন মহির। জয়া কখনও নীচতলায় কখনও উপরতলায় দৌড়াদৌড়ি করে বেড়ায়। বাগানে হুটোপুটি করে একা একা।

ঘর বাঁধলাম আটোয়ারীতে থাকার সময়। আমার স্ত্রীর প্রথমদিকে একটু অনীহা থাকলেও পরে দেখলাম সব ঠিক হয়ে গেছে। জয়ার সাথে গল্প করেন, শাসান, আদর করেন। জয়াও বেশ নেওটা হয়ে উঠেছে তাঁর। শান্ত মেয়ের মতো কথা শোনে জয়া।

চেয়ারম্যানের বাসাটি রাজনৈতিক প্রকৃতির।নীচতলায় বিশাল এক বসার ঘর। উপরতলা-নীচতলা মিলিয়ে কক্ষসংখ্যা কম। এটি পলিটিশিয়ান চেয়ারম্যানের দরকার হলেও আমার মতো ক্ষুদে আমলার নিষ্প্রয়োজন। কাজেই নিজের বাড়িটি ঠিক করে উঠে গেলাম সেখানে।

বাড়িবদলের দিন লোকজন মালামাল নিচ্ছে নতুন বাড়িতে। গৃহকর্ত্রী পুরনো বাড়িতে বসেই তা তদারক করছেন। কেউ কোনো কিছু নিয়ে নতুন বাড়িতে রওয়ানা দিলেই জয়া দৌড়াচ্ছে তার পিছু পিছু। এ বাড়ি ও বাড়ি তার সমান তদারকি। আমি বললাম, ‘ভালোই তো। সাবধানী মেয়েটি ছিলো বলে রক্ষে। না হলে কে কোথায় কোন্ জিনিস নিয়ে পালাতো!’ আমার স্ত্রী হাসতে হাসতে বললেন, ‘সব মেয়েই ও রকম গুণবতী হয়। বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়িতে গেলে শুধু মিনসেগুলোই বুঝতে ভুল করে।’

মূলঘরের সাথেই করা নীচতলার অফিসঘরটির ছাদ খোলা। উপরতলায় আমাদের শোয়ারঘর থেকে দক্ষিণদিকে বেরিয়ে আমরা সেই ছাদে বসি। একসময় ছাদটুকুতে একটি কক্ষ বানিয়ে নিলাম শোয়ারঘর সংলগ্ন। তিনদিক রেলিংঘেরা। চালা দিলাম টিনের যাতে বর্ষার রাতে বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ শুনতে পাই। ঘরটির নামও দিলাম রিমঝিম। কাব্যিক নাম বটে। সবাই নামটি ব্যবহারও করে। বাড়িতে ঢুকে জিজ্ঞেস করি, ‘জয়া কোথায়?’ কেউ জবাব দেয়, ‘ও রিমঝিমে শুয়ে আছে।’ রিমঝিম আমাদের সবারই প্রিয়ঘর। জয়ারও দারুণ পছন্দের জায়গা ছিলো রিমঝিম।

জয়া মাঝে মাঝে মহিরের সাথে গিয়ে আমার অফিসটিও পরিদর্শন করে আসে। অফিসের লোকেরা বিস্কুট খাইয়ে ওকে আপ্যায়ন করে। ছোটবড় আত্মীয় অনাত্মীয় সবার সাথেই জয়ার খাতির।

অল্পদিনেই বদলি হলাম খুলনার ডুমুরিয়াতে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বদলি। ঠেকায় কার সাধ্য। দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমরা বাসে-ট্রেনে যেতে পারি। কিন্তু জয়া? ওকে তো ট্রেনে নেবে না, বাসে উঠতে দেবে না, ট্রাকেও নয়। 
অনেক ভেবেচিন্তে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করলাম। মাল-সামানা যাবে ট্রাকে, আমরা সবাই মাইক্রোবাসে। জয়াকে অনায়াসে আমাদের সাথে নেয়া যাবে। মাইক্রোওয়ালার সাথে চুক্তিও করলাম সে রকম। দুশ্চিন্তা কেটে গেলো।

ডুমুরিয়ার বাড়িটি পুরনো আমলের। গাড়ির গ্যারেজ বাড়ির বাইরে। দোতলার সিঁড়িটি খাড়া এবং অপ্রশস্ত। নীচতলায় অফিসকক্ষটির লাগোয়া একটি গ্যারেজ বানিয়ে নিলাম। সিঁড়িঘরটি ভেঙে করলাম প্রশস্ত। আটেয়ারীর ধাঁচে একটি ঘর বানালাম উপরে। নামও দিলাম রিমঝিম। তিনদিক রেলিংঘেরা, একদিকে আমাদের শোবারঘর। তেরছা করে রোদও পড়ে, বাতাস তো উথাল-পাথাল। সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ চলে গেলে আমাদের আড্ডা দেয়ার জায়গা হলো, জয়ারও।

আমাদের প্রথম পুত্র অর্কর জন্ম হয় তখন। আমি থাকি সারাদিন ব্যস্ত। অফিসে, না হয় বাইরে বাইরে টো টো। কেতাবি কথায় জনস্বার্থে মাঠভ্রমণ। বাসায় এসে থাকতে পারে আমার পক্ষের এমন কোনো আত্মীয়স্বজনও নেই। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর যত্ন নেয় কে! তাঁকে নিরাপদ ট্রেনে করে রেখে এলাম শ্বশুরবাড়ি নীলফামারীতে। মা আছেন, ভাইবোন ভাবীরা আছেন, যত্ন হবে ভালো।

মাস চারেক বাদে আমার স্ত্রী ডুমুরিয়ায় ফিরে এলেন। সন্তান কোলে গর্বিত জননী। অর্ককে দেখে জয়ার সে কী লাফালাফি। ভালো একটি খেলার সাথী জুটে গেলো। অর্ককে ওর মা প্রতিদিন সকালে রিমঝিমে রোদে শুইয়ে দেন। জয়া শিয়রে বসে থাকে। পাহারা দেয়। নিদ্রিত অর্কর গায়ের উপর দিয়ে একটি মাছি উড়ে গেলেও জয়া লাফিয়ে সেটাকে ধরতে যায়।

অর্ক দিনে দিনে বড় হতে থাকে। হাসে, কাঁদে, খেলে নিজের হাতপা নিয়ে। খেলে মায়ের আঙ্গুল নিয়ে, মায়ের চুল নিয়ে। তাকিয়ে দেখে আমাদেরকে, দেখে জয়াকে। অর্ক হামাগুড়ি শেখে, হাঁটতে শেখে। নিজের নাম বলতে শেখে, অক্ক। এক থেকে দশ পর্যন্ত ইংরেজি-বাংলায় গুণতে শেখে। শুধু সেভেনকে বলে পেভেন। ওর মা ওকে গান শোনান, ছড়া শেখান। জয়া অর্কর সঙ্গ ছাড়ে না সারাদিন।

দিবানিদ্রাটি শেষ করে বিকেল নাগাদ অর্ক জেগে ওঠে। জয়া ততোক্ষণ অপেক্ষা করে রিমঝিমে। কাপড় পরিয়ে অর্ককে নিয়ে নীচে নামেন ওর মা। জয়াও আনন্দিত ভঙ্গিতে লাফাতে লাফাতে নেমে আসে সিঁড়ি ভেঙে। অর্কর সাথে হুটোপুটি করে বাগানে। মালি মজিবরের বাগান পরিচর্যার কাজও দেখে আসে দৌড়ে গিয়ে। শরীরচর্চার নানা রকম কসরত দেখায় সে অর্ককে। অর্ক দেখে আনন্দে হাততালি দেয়, মায়ের আঁচল ধরে ডেকে এনে দেখায়। জয়ার গলা জড়িয়ে ধরে ছেলে আমার ছবি তোলে। দুটিতে দারুণ ভাব।

দিনাজপুর থেকে নীলফামারী। সেখান থেকে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী ঘুরে খুলনার ডুমুরিয়া। জীবিকার তাগিদে যাযাবর জীবন। জয়া আমাদের এতোটা সময়ের সুখদুখের সঙ্গী। আমাদের সাথে সায়রে সায়রে ভেসেছে। জয়া আজ আমাদের সংসারের অবিচ্ছেদ্য কেউ। আমি বা আমার স্ত্রী পরিবারের গল্প করতে গেলে অবচেতনে বলে ফেলি, ‘আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজন, আমাদের ছেলে অর্ক আর জয়া।’ ‘জয়াটি কে?’ ব্যাখ্যা দিতে হয়। আমাদের কতো স্মৃতির সাথে, হাজারো আনন্দ-বেদনার সাথে জড়িয়ে আছে জয়া।

মাঝে মাঝে ভাবি, এখন চাকরির যে বয়স তাতে ঢাকা ছাড়া বদলি নেই। যদি ঢাকাতেই বদলি হতে হয় তখন কী হবে জয়ার? ওকে নিয়ে তো ঢাকায় থাকা যাবে না। কোথায় রেখে যাবো জয়াকে? সেই চোয়ালভাঙা দুদিনের বাচ্চাটি। হাতে করেই তো মানুষ করলাম। অন্য কেউ কি আমাদের মতো জয়াকে বুঝবে? ও তো অন্য দশটি সারমেয় তুল্য নয় (প্রচলিত শব্দটি জয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে এখন আমার কষ্ট হয়। তাই তার বদলে ইচ্ছে করেই এই শব্দটি ব্যবহার করলাম। পাঠক, ক্ষমা করবেন)। আজেবাজে খাওয়ার অভ্যাস নেই। চুরি-চামারি শেখে নি, ছিনতাইও রপ্ত করে নি। একেবারে বোকাসোকা।
আসন্ন বদলির কথা ভেবে আমি আতঙ্কিত হই।

শীতের কারণে কিছুদিন জয়াকে গোসল করানো হয় নি। গায়ে দু’চারটে উঁকুন জন্মেছে। ঝাড়ুদার নারায়ণকে বললাম একটা উঁকুননাশক সাবান এনে জয়াকে গোসল করাতে। নারায়ণ তা-ই করলো। সাবান মেখে মিনিট দশেক রেখে গোসল করানোর নিয়ম। অস্বস্তি লাগাতে এই সময়ে জয়া বিষাক্ত সাবানমাখা গা চেটেছে সম্ভবত:। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখলাম, জয়া ভীষণ অসুস্থ। সারাদিন কিছু খায় নি। শুয়ে আছে। আমি কাছে গিয়ে আদর করলাম। বললাম, ‘চিন্তা করিস না বেটি। কাল ডাক্তার আনবো। তুই ভালো হয়ে যাবি। এখন লম্বা একটা ঘুম দে।’
দুধ গরম করে রাতে অভুক্ত জয়াকে খাওয়ানোর চেষ্টা করলাম। ও খেলো না। চুপচাপ শুয়ে রইলো।

সকালে উঠে জয়াকে পাওয়া গেলো না। ওর ঘর খালি। নাইটগার্ডকে বলা ছিলো। ও এসে কয়েকবার দেখেও গেছে জয়াকে। শেষরাতে রামুর একটু ঝিমুনি এসেছিলো। এই ফাঁকে অসুস্থ-নিস্তেজ জয়া কোথায় গেছে, কীভাবে গেছে কেউ দেখে নি। খুঁজতে বেরুলো সবাই। দশটা পর্যন্ত খুঁজেও কোনো হদিস মিললো না। প্রায় সবাই ফিরে এসেছে। বয়স্ক কেউ বললো, এই প্রাণীটি মৃত্যুর আগে বাড়ি ছেড়ে যায়। প্রভুর সামনে সে মৃত্যুবরণ করতে চায় না। কাঁদাতে চায় না সে ভালোবাসার মানুষটিকে।
আমার বুকটা কেঁপে উঠলো। সবাইকে বললাম, ‘তোমরা আবার খুঁজতে যাও। দৃশ্যমান একটি প্রাণী তো অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে না। তাছাড়া ও অসুস্থ। বেশিদূর যেতেও পারবে না।’
বেলা এগারোটা নাগাদ জয়াকে পাওয়া গেলো। পাশেই হাজামপাড়ার একটি পরিত্যক্ত সংকীর্ণ কক্ষে আশ্রয় নিয়েছে সে। সবাই মিলে ওকে ছালার দোলনায় বাড়িতে নিয়ে এলো। আমি পশুডাক্তারকে ডেকে পাঠালাম। তিনি এসে কিছু ওষুধপথ্য দিলেন তবে ভরসা দিতে পারলেন না।

অফিস থেকে আমি বারবার টেলিফোনে জয়ার খোঁজ নিতে থাকি। বাসা সংলগ্ন অফিস। পিয়ন-চাপরাশিরাও মাঝে মাঝে খবর পৌঁছায়। মনে হলো তেমন দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

দুপুরে খেতে এসে শুনলাম, ঔষধ খেয়ে জয়া একটু সুস্থ। ওর কাছে গিয়ে পাশে বসলাম। গায়ে হাত রাখলাম। জয়া বহুকষ্টে মাথাটা তুলে করুণ চোখে তাকালো আমার দিকে। আমি ওর মাথাটি ধরে আদরের হাত বুলিয়ে বললাম, ‘বলেছিলাম না তুই সুস্থ হয়ে যাবি? আজকে না হলেও কাল নাগাদ তুই ঠিকই দৌড়াতে পারবি, লাফালাফি করতে পারবি। আবার তুই অর্কর সাথে বাগানে খেলতে যেতে পারবি দেখিস।’

ওকে আদর করে অফিসের দিকে পা বাড়ালাম। ও মুখ দিয়ে অস্ফুট শব্দ করলো। আমি ফিরে বললাম, ‘কিরে কিছু বলবি?’ কাছে এগিয়ে গেলাম। ও কোনো শব্দ করলো না। করুণ চোখেই আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলো। জয়ার চোখে কি অশ্রু? বুকের ভেতরটা কেমন যেনো চিনচিন করে উঠলো। আমি ভারি মন নিয়ে অফিসে গেলাম।
অফিস থেকে দু’একবার ফোন করেছি। জয়া শুয়ে আছে। কাজকর্মের ফাঁকে ফাঁকে অর্কর মা ওর দেখাশোনা করছেন।

সারাদিন কাজে মন বসাতে পারি নি। উঠবো ভাবছি। ফোনটি বেজে উঠলো। বাসা থেকে আমার স্ত্রী ফোন করেছেন, ‘তাড়াতাড়ি বাসায় এসো। জয়া যেনো কেমন করছে। ভালো ঠেকছে না।’
ঝটিতি বাসায় ফিরে জয়ার ঘরের দিকে যাচ্ছি। সকলের মুখ থমথমে। পথ ছেড়ে সরে গেলো সবাই। পাশে এসে দাঁড়ালেন আমার স্ত্রী। হাতটি ধরলেন আমার। মুখের দিকে তাকাতেই দেখি তাঁর গাল বেয়ে অশ্রু নামছে। ‘তোমাকে যখন ফোন করি তার আগেই জয়া মারা গেছে। কষ্টের খবরটি আমি তোমাকে বলতে পারি নি’ — ভেজাকণ্ঠে বললেন আমার স্ত্রী। থমকে দাঁড়িয়ে পড়লাম আমি। মৃত জয়ার ঘরে যেতে পারলাম না। সবার কাছ থেকে আমার চোখ দুটি আড়াল করার জন্য দ্রুত উপরে উঠে গেলাম।

শোবার ঘরে অর্ক ঘুমুচ্ছে। ওর শিয়রে নেই কোনো পাহারাদার। ও জেগে উঠলে আজ আর কেউ ওর সাথে খেলতে নামবে না সিঁড়ি ভেঙে। করবে না হুটোপুটি বাগানে গিয়ে।

সায়াহ্নের রিমঝিম খালি পড়ে আছে।

একটি গর্ত খুঁড়ে সেখানে জয়াকে কবর দেয়া হলো।

বদলি-আতঙ্ক থেকে আমাকে মুক্তি দিয়ে গেলো মেয়েটি॥


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT