Main Menu

কাশ্মীরের আজাদি দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

ভারতীয় সংবিধানে কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ দেয়া ৩৭০ নম্বর ধারা বাদ দেয়ার প্রতিবাদ এবং কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলে তারা কাশ্মীরি জনতার আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানান। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘কাশ্মীর চাই আজাদি’, ‘কাশ্মীরের বীর জনতা, লও লও লও সালাম’, ‘কাশ্মীরের বীর জনতা, আমরা আছি তোমার সঙ্গে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তারা বলেন, কাশ্মীরে আমাদের ভাইবোনেরা বছরের পর বছর অত্যাচারিত হয়ে যাচ্ছে, এসবের শেষ চাই। আমরা চাই আজাদ কাশ্মীর। চাই স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার।

বক্তারা আরও বলেন, মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরকে স্বাধীনতা দেয়ার পরিবর্তে ভারত এখন কাশ্মীরের বিদ্যমান স্বায়ত্তশাসন টুকুও কেড়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি মানবাধিকারের লঙ্ঘন। কাশ্মীরকে স্বাধীনতার দাবিতে আসুন আমরা এক হয়ে প্রতিবাদের ঝড় তুলি।

এ সময় কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন বলেন, আমরা কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই। এটি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যা। কাশ্মীর নিয়ে আর কোনো টালবাহানা চলবে না। যখনই কোনো দেশের সমস্যা হয়, জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা লক্ষ করা যায়। কিন্তু কাশ্মীরে হামলা হয়, সেখানে জাতিসংঘ চুপ কেন?

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় ও বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ইকবাল হাসানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী।

মিছিলটি টিএসসি থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে শেষ হয়।

প্রসঙ্গত ভারতীয় সংবিধানের যে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদে কাশ্মীরকে স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদা দেয়া হয়েছে, সোমবার সেটি বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পর এ ঘোষণা দেন তিনি। ইতিমধ্যে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় এ সংক্রান্ত বিলও উত্থাপন করেছেন অমিত শাহ। আর ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণার পর কাশ্মীরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলে নতুন করে সেখানে সেনা সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে।

কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও সেখানকার বাসিন্দাদের বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ণ করার দিনটিকে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসের ‘সব থেকে অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন’ আখ্যা দিয়েছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। টুইটারে তিনি লিখেছেন- ‘১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মীর দুই জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে থাকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করা হলো।’

সোমবার সরকারের সিদ্ধান্তের পর প্রতিক্রিয়ায় জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, ভারত সরকারের আজকের একতরফা ও জঘন্য সিদ্ধান্ত জম্মু-কাশ্মীরের জনগণের সঙ্গে চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা। এ সিদ্ধান্তের ফল হবে দীর্ঘমেয়াদি ও বিপজ্জনক। এটি রাজ্যের জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT