Main Menu

ট্রাম্পের বুলিসর্বস্ব বা বাগাড়াম্বরতাপূর্ণ বর্নবাদী উক্তি

মোঃ শফিকুল আলমঃ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বুলিসর্বস্ব বা বাগাড়াম্বরতাপূর্ণ বর্নবাদী উক্তি প্রতিনিয়ত বিশ্বে গনতন্ত্রকামী মানুষদেরকে আহত করছে।ট্রাম্প তাঁর চারজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যারা আমেরিকায় সংখ্যালঘু দেশ বা জাতি থেকে আগত তাদেরকে বলেছেন, “যেখান থেকে এসেছো সেখানে চলে যাও (go back home)।” যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তাঁর নিজের জনগনকে দু’টি বর্নবাদী শ্রেনীতে বিভক্ত করেছেন যেখানে এক শ্রেনীতে রয়েছেন আমেরিকার সাদা মানুষ (white people) আর অন্যদিকে ভিন্ন দেশে জন্মগ্রহন করা বা ভিন্ন দেশ থেকে তাদের বাপ-দাদারা এসেছেন এবং তাদের চামড়া আমেরিকানদের মতো সাদা নয় এমন মানুষেরা। এবং এই মানুষদের হোয়াইট আমেরিকানদের থেকে কথা বলার অধিকার সীমিত।

ট্রাম্পের এই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হলেন চারজন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসউইমেন। যথাক্রমে আলেক্সজানদ্রিয়া ওকাসো করটেজ, ইলহান ওমর, আয়ান্না প্রেসলি এবং রাশিদা। যদিও এই চারজনের মধ্যে তিনজনই আমেরিকায় জন্মগ্রহন করেছেন। এরা কেউ আমেরিকাকে ঘৃনা করে এমন নয়। অনেকের বিশ্লেষন ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখেই ট্রাম্প সম্পূর্ণ সচেতনভাবেই আবার সেই পুরনো খেলায় অংশগ্রহন করছেন। তিনি শুধু ঐ হোয়াইটদের ভোট প্রত্যাশী।

গত রবিবার থেকে শুরু করে ট্রাম্প তাদের বিরুদ্ধে ট্যুইটারে একটানা বিষদগার করে যাচ্ছিলেন। ট্রাম্পের ভাষায় এই চারজন ইজরাইল বিরোধী তথা আমেরিকা বিরোধী, তারা সন্ত্রাসবাদের পক্ষে, এমনকি প্রেসিডেন্ট তাদের সম্পর্কে F শব্দটিও ব্যবহার করেছেন।

গত মঙ্গলবার লোয়ার হাউজে ২৪০-১৮৭ ভোটে প্রেসিডেন্টের বর্নবাদী মন্তব্যের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাশ হয়। আলোচনায় বার বার সকল কংগ্রেসম্যান প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন যে আমেরিকা অভিবাসীদের দেশ নয় কি? এই দেশটি তো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের সমন্বয়ে গঠিত একটি সমৃদ্ধশালী দেশ। দেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তি যদি এধরনের মন্তব্য করেন তবে নতুন অভিবাসীরা দেশগঠনে কতোটা ভূমিকা রাখতে পারবে?

তবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট করার ব্যাপারে স্পীকার পেলোসিসহ ডেমোক্র্যাটদের প্রায় সবাই এই মোশনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। সেক্ষেত্রে ইমপিচমেন্ট মোশন ৩৩২-৯৫ ভোটে বাতিল হয়ে যায়। 

নীতিগত প্রশ্ন উঠেছে। চায়না বা রাশিয়ার মতো গনতন্ত্রহীন কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে যখন গনতন্ত্রকামী মানুষের ওপর নির্যাতন হয় তখন আমেরিকা নীতিগতভাবে তাদের সমালোচনা করতে পারে কি-না? তারা যদি তখন বলে আমাদের সমালোচনা করোনা। তোমাদের দেশে ট্রাম্প কি করছে বা বলছে? তখন আর উত্তর থাকেনা। যদিও এই তুলনা হাস্যকর! কারন, ট্রাম্পের মন্তব্য এবং আমেরিকার বাস্তবতা এক নয়। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হাউজে নিন্দা প্রস্তাব পাশ হয়, ইমপিচমেন্ট মোশন উত্থাপিত হয় যেটা চীন, রাশিয়া বা উত্তর কোরীয়ায় চিন্তা করা যায়না। তাছাড়া অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা বা সিভিল রাইট ডিফেন্ড করার ইতিহাস অনন্য। আমেরিকার মানবাধিকার প্রশ্নে মোরাল লীডারশীপ একটি শক্তিশালী অস্ত্র যা’ আমেরিকার সেনাবাহিনী যে বিশ্বকে গনতান্ত্রিক ধারায় রাখতে যে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে তার থেকেও শক্তিশালী।

ট্রাম্পের এধরনের রেসিস্ট কমেন্টের পর অস্ট্রেলিয়া, বৃটেন, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীগনের নীরবতা বা নিন্দা জানানো থেকে বিরত থাকা বিশ্বকে অবাক করেছে। যদিও বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে গতকাল সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শেষ ভাষনে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন পৃথিবীতে কিছুসংখ্যক মানুষের নৃশংস আচরনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উচ্চস্বরে কথা বলতে হবে। তেরেসা মে’র এই বক্তব্য পরোক্ষভাবে ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট এই শ্লোগানকেই নির্দেশ করে। তেরেসা বিশ্ব রাজনীতিতে ‘zero-sum game’ পলিসির সমালোচনা করেন। অর্থাৎ এক দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি করে অন্য দেশের লাভবান হওয়ার নীতির সমালোচনা করেন। তেরেসা মে’র মতে রাজনীতি সর্বদাই কঠিন বিষয়; ভালোবাসা যেমন সরল রোমান্টিকতা নয়। তিনি মূলত: চলোমান ট্রেইড ওয়ার বোঝাতে চেয়েছেন। এই যুদ্ধটাকে তিনি ব্যাটলফিল্ডের যুদ্ধ থেকেও মারাত্মক প্রবনতা হিসেবে দেখছেন।

যদিও চলোমান বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য নির্দিষ্টভাবে কাউকে দোষারোপ করা যাচ্ছেনা বা কোথাও এর রেখা টানা যাবে তা’-ও বলা যাচ্ছেনা। কিন্তু এটা অনেকটা নিশ্চিত করে বলা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের মানবিক গুনাবলী বা মানবাধিকারমুখী পদক্ষেপ বা কার্যক্রম (যা’ ইতোপূর্বে অধিকাংশ প্রেসিডেন্টের মধ্যে পরিলক্ষিত ছিলো) বিশ্ব রাজনীতিকে মানবতাবোধে সমৃদ্ধ করবে।
 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT