Main Menu

মিন্নি : ষড়যন্ত্রের শিকার না ষড়যন্ত্রকারী?

‘রিফাত হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মিন্নি, নয়নের সাথে মিন্নির বিয়ে হয়েছিল। সেই বিয়ের কথা গোপন রেখে রিফাতের সাথে মিন্নির বিয়ে দেয় তার পরিবার। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে মিন্নি জড়িত রয়েছে। তাই তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। শনিবার রাত ৮টার দিকে বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ‘রিফাতের সাথে বিয়ে হওয়ার পরেও প্রতিনিয়ত নয়ন বন্ডের সাথে মিন্নির যোগাযোগ ছিল। প্রায় প্রতিদিন নয়ন বন্ডের বাড়িতে আসা-যাওয়া করত মিন্নি। রিফাতকে হত্যার সময় সিসি টিভির ফুটেজে দেখা গেছে, সরকারি কলেজের সামনের গেটে মিন্নিকে রিফাত তার মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে যেতে চায়, তখন মিন্নি সময়ক্ষেপণ করে। এর মধ্যেই বন্ড গ্রুপ রিফাতকে মারধর করতে করতে কলেজের পূর্ব দিকে নিয়ে যায়। সে সময়ে মিন্নি স্বাভাবিকভাবেই সেই সব দৃশ্য দেখতে থাকে এবং তাদের পেছনে হাঁটতে থাকে। পরে যখন রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী দা নিয়ে এসে নয়নের হাতে দিয়ে কোপাতে শুরু করে, তখন মিন্নি বাধা দিলেও তাকে কেউ আঘাত করেনি।’
এসব কারণে মিন্নিকেই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা দায়ী করে গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।

আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার : মিন্নি
রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের আড়াল করতে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। তাকে গ্রেফতারের দাবিতে শ্বশুর দুলাল শরীফের করা সংবাদ সম্মেলনের বিপরিতে গতকাল নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মিন্নি।

শ্বশুরের এ দাবিকে ভিত্তিহীন বলে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে মিন্নি আরো বলেন, আমার শ্বশুর অসুস্থ। তিনি কখন কী বলেন তার কোনো ঠিক নেই। আমার শ্বশুরকে দিয়ে কোনো মহল স্বার্থ হাসিল করার জন্য আমাকে পেঁচিয়ে মামলাটি হালকা করার চেষ্টা করছে। যাতে আসামিরা ছাড়া পেয়ে যেতে পারে। আর আমার যদি নয়নের সাথে বিয়েই হবে তবে যখন রিফাতের সাথে বিয়ে হয়েছিল তখন নয়ন কেনো বাধা দেয়নি। এ সময় তিনি অপপ্রচারকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবিও জানান।

প্রসঙ্গত, ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজীসহ তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ বাদি হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি অভিযোগ করেন, ‘নয়ন বন্ড একজন মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে অনেক মামলা ছিল। সে আমাকে দীর্ঘ দিন ধরে উত্ত্যক্ত করত। আমার ছোট ভাই ও বাবাকে হত্যার হুমকি দিত। এ জন্য তার বিরুদ্ধে কখনো মুখ খোলার সাহস পাইনি।’ তিনি বলেন, ‘আমার শ্বশুর অসুস্থ। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তিনি আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমার স্বামীকে হত্যার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে নিয়ে নেতিবাচক, কুরুচিপূর্ণ নানা পোস্ট এবং এডিট করা ছবি আপলোড করে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর মূল উদ্দেশ্য এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা। কারণ ০০৭ সন্ত্রাসী গ্রুপটি যারা সৃষ্টি করেছিলেন, তারা খুবই ক্ষমতাবান ও বিত্তশালী।’

রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নি ঘটনার দিন নিজের ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেন, ‘ঘটনার দিন আমার স্বামীকে কোপানোর সময় আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি তাকে বাঁচাতে। এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করেছি। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় আমিই রিকশায় করে রিফাত শরীফকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। যখন চিকিৎসকেরা তাকে বরিশালে পাঠাতে বলেন, তা শুনে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। জ্ঞান ফিরলে আমি জানতে পারি তাকে (রিফাত শরীফ) বরিশালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

ফেসবুকে আপনার নামে গত ২৭ জুন ১১টি আইডি দেখা যায়, গতকাল শনিবার রাতেও চারটি আইডির সন্ধান পাওয়া যায়Ñ এগুলো কি আপনার? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মিন্নি বলেন, ‘এগুলো সবই ষড়যন্ত্র। কোনো সুস্থ ব্যক্তি এটি করে? আমাকে নেতিবাচকভাবে প্রচারের জন্যই এসব করা হয়েছে। এসব কারা করেছে, তা তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে।’

রিফাতের সাথে বিয়ের পরও নয়নদের বাড়িতে যাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মিন্নি বলেন, ‘এটা মিথ্যা ও বানোয়াট কথা। আর নয়ন বন্ডের সাথে আমার যে আগে বিয়ে হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে, সেটাও মিথ্যা। কারণ নয়ন বন্ড আমাকে জোর করে ধরে একটি বাড়িতে নিয়ে একটা কাগজে সই রেখেছিল। এরপর কী করেছে সেটি জানি না। পরে শুনি সেটা বিয়ের কাবিননামা।’
মিন্নি বলেন, ‘বিয়ের দুই মাস পর স্বামীকে হারালে একজন নারীর মানসিক অবস্থা কেমন থাকতে পারে! তার ওপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনবরত কুৎসা ও বাজে ছবি পোস্ট দেয়ার কথা শুনে আমি আরো বিপর্যস্ত। রিফাতকে হত্যার পর থেকেই আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের বাড়িতে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাতে চাই, আমি একজন স্বামীহারা অসহায় নারী। এই সুযোগে আমার বিরুদ্ধে যারা মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক।’

মিন্নির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে বরগুনার পুলিশ সুপার মো: মারুফ হোসেন গতকাল রাতে বলেন, ‘বিষয়গুলো আমরা দেখব। মামলাটি তদন্ত হচ্ছে। আর তদন্ত হলো একটি সাবলীল, নিরপেক্ষ বিষয়। অনেকে অনেক কথা বলতে পারেন। সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচারের স্বার্থে যা যা করা দরকার, সেটি করা হবে।’


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT