Main Menu

হিমাগার থেকে ১১ মাস পরে ফিরল ইমরান, বাড়িতে কান্নার রোল

লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অভিবাসীবাহী নৌকায় মারা যান ইমরান খান সুজন নামে এক বাংলাদেশি। দীর্ঘ ১১ মাস পর আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে তার লাশ কেদারপুর গ্রামে পরিবারের কাছে পৌঁছেছে।

ইমরানের লাশ এলাকায় আসার পর পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। বাদ জোহর তার নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত ইমরান শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর গ্রামের আবদুল মান্নান খানের পুত্র। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইমরান বড়।

ইমরানের ছোট ভাই শোভন খান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের মার্চে দালালের প্রলোভনে সুদানে পাড়ি জমান ইমরান। পরে সেখান থেকে লিবিয়া যান। ছয় মাস পর গত বছরের ২৯ আগস্ট লিবিয়া থেকে সাগর পথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার সময় তাদের বহনকারী নৌকার তেল এবং সঙ্গে থাকা পানি ও খাবার ফুরিয়ে যায়। তাদের বহনকারী নৌকাটি ভাসতে ভাসতে মাল্টা উপকূলে পৌঁছালে পাঁচদিন পর অন্যান্যদের সঙ্গে ইমরানও খাবার না পেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং নৌকাতেই মারা যান। পরবর্তীতে তাদের নৌকাটি ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশ মাল্টায় পৌঁছালে মৃত ও জীবিতদের উদ্ধার করে দেশটির কোস্ট গার্ডের সদস্যরা।

এরপর ইমরানের লাশ মাল্টার মর্গে রাখা হয়। তিন মাস পর পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান। শরীয়তপুরের নড়িয়ার মাল্টা প্রবাসীরা ইমরানের লাশ শনাক্ত করেন। ইমরানের লাশ দেশে আনা ব্যয়বহুল হওয়ায় স্বজনরা এর ব্যয় বহন করতে পারেনি। দীর্ঘ ১১ মাস মাল্টার হিমাগারে রাখা ছিল তার লাশ। মাল্টার প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিষয়টি জানতে পেরে নিজেদের অর্থায়নে তার লাশটি দেশে ফেরত পাঠায়। মর্গে পড়ে থাকার পর প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহায়তায় মাল্টার মর্গ থেকে তার লাশ শুক্রবার ২৮ জুন সন্ধ্যায় বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।

শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের সময় লাশ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এরপর আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে লাশ শরীয়তপুরে ইমরানের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনরা। বেলা ২টার দিকে নামাজে জানাজা শেষে নড়িয়া মুলফৎগঞ্জ মাদরাসা সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত ইমরান খানের বাবা আব্দুল মান্নান খান বলেন, দালালদের প্রলোভনে পরে আমার ছেলে সমুদ্র পথে ইউরোপে পারি জমায়। আজ সে লাশ হয়ে ফিরলো। এই পথে যে দালালরা বিদেশে লোক পাঠায় তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। আমার মত আর কাউকে যেন সন্তান হারাতে না হয়। যাতে করে আর কেউ এভাবে অবৈধ পথে বিদেশে যেতে না পারে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT