Main Menu

আমি যা জানি তা এখানে বলতে পারব না : জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) যৌথ সভায় একাদশ জাতীয় সংসদে আসন কমে যাওয়া, দলে মনোনয়ন বাণিজ্য, নির্বাচনের সময়ে প্রার্থীদের খোঁজখবর না নেওয়া, দলে অযোগ্যদের পদোন্নতি দেওয়া নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেতারা। গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের) জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পর গতকাল শনিবার প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত যৌথ সভা জাপার বনানী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় জি এম কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অংশ নেননি সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ এবং রওশনপন্থী বলে পরিচিত নেতারা। সভার শুরুতে জি এম কাদের স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব পেশ করেন।

যৌথ সভায় প্রথম বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশিদ। জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে দলের আসনসংখ্যা কমে গেছে। এ দায় নেতাদেরই নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘টাকার জন্য একজন এমপির পদ স্থগিত করা হয়েছে, এটা লজ্জার বিষয়।’ এ সময় জি এম কাদের তাঁকে নিবৃত্ত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে ৪২ আসনের সমঝোতা হয়েছিল। হঠাৎ করে নির্বাচনের আগে রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। তারপর আসনসংখ্য ২২-এ নেমে এলো। আমাদের জানা দরকার, এটা কিভাবে হলো, কেন হলো?’

প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু বলেন, ‘কিভাবে এমন গণহারে পদোন্নতি হচ্ছে? এটা অশুভ লক্ষণ। দেখেশুনে পদোন্নতি দিন। আগেও এরশাদ পরিবারের সঙ্গে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।’ মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘এত বড় একটি নির্বাচন করলাম, দলের কোনো নেতা খোঁজখবর নিলেন না। আমার প্রতি অবিচার করা হলো।’ সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক দর্শন ও দল ঠিক করতে হবে, সুবিধাবাদীরা বিভাজনের সুযোগ নিচ্ছে।’

মসিউর রহমান রাঙ্গার সাংগঠনিক প্রস্তাবে বলা হয়, ২৪ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত জাতীয় পার্টির বিভাগীয় বর্ধিতসভা করতে হবে। এ বিষয়ে দলীয় নেতারা একমত হন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের তাঁর সমাপনী বক্তব্যে সংরক্ষিত নারী আসনের পদ বিক্রির বিষয়ে বলেন, ‘এটা তো ঠিকাদারি কথাবার্তা। সংগঠন চালানোর জন্য টাকার সমস্যা হবে না। টাকা নেওয়ার বিষয়ে কী ঘটেছে—আমরা সত্য উদ্ঘাটন করব। তবে আমি যা জানি তা এখানে বলতে পারব না।’

যৌথ সভায় রওশন এরশাদ যোগ দেননি এবং রওশনপন্থী বলে পরিচিত ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, নাসরিন জাহান রত্না, সুনীল শুভ রায়, ফকরুল ইমাম ও সেলিম ওসমান। জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মুজিবুল হক চুন্নু, সালমা ইসলাম, শেখ সিরাজুল ইসলাম, সৈয়দ আবদুল মান্নান, ফকরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, আজম খান, ফয়সাল আল মুনির প্রমুখ এবং সংসদ সদস্যদের মধ্যে আদেলুর রহমান আদেল, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, রুস্তম আলী ফরাজী, শরীফুল ইসলাম জিন্না, রওশন আরা মান্নান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT