Main Menu

বরিস জনসন নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য শীঘ্রই ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগ করবে

মোঃ শফিকুল আলম:  বরিস জনসন যে বৃটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তা’ অনেকটা স্পষ্টতর। উচ্চবিত্ত শ্রেনীর কলেজ হিসেবে পরিচিত ইটন-কলেজ শিক্ষিত সাবেক লন্ডন মেয়র, সাবেক বৃটিশ ফরেন মিনিষ্টার, সাইক্লিস্ট, সম্পাদক, কলামিস্ট এবং টেলিভিশন শো’-এ একজন কমেডিয়ানও বটে; অর্থাৎ বহু গুনে গুনান্বিত একজন বৃটিশ রাজনীতিকের নাম বোরিস্ জনসন।

বোরিস্ জনসন যাঁর খ্রীশ্চিয়ান পুরো নাম হচ্ছে আলেকজান্ডার বোরিস্ ডি পেফেল জনসন, নিউইয়র্কে জন্মগ্রহনকারী একজন দ্বৈত নাগরিক। ৫৪ বছর বয়স্ক বোরিস্ তাঁর প্রথম নামেই সব সময় হেড লাইন হয়ে আসছেন। বোরিস্ অস্কার ওয়াইল্ডের একটি কোটেশনের সাথে ঐকমত পোষন করেন, “There’s only one thing worse than being talked about, and that’s not being talked about.” এই কোটেশনের ভাবার্থ হচ্ছে কারও সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচার করা অধিকতর খারাপ, আবার কারও সম্পর্কে প্রচার না করার অর্থ হচ্ছে তাকে একেবারে ভুলে যাওয়া।

অনেক রাজনীতি বিশ্লেষক বোরিসকে তাঁর পুরনো অক্সফোর্ড স্কলার অস্ট্রেলিয়ার সবচাইতে দীর্ঘ সময়ব্যাপী প্রধানমন্ত্রী সদ্য প্রয়াত বব হকের মতো ল্যারিকিন (rowdy-অগোছালো) চরিত্রের রাজনীতিক হিসেবে মেলাতে চান। বব হক অতিরিক্ত মদ্য পান করতেন এবং ড্রাংক হতেন এবং সে সময়টায় অগোছালো কথাবার্তা বলতেন। উভয়ের মধ্যে একধরনের বাহ্যিকভাবে রাফ ক্যারেক্টার কাজ করে যা’ তাদের আসল চরিত্রকে ঢেকে রাখে এবং তাদের কার্যক্রম পুরোটাই বিপরীত। বব হক অস্ট্রেলিয়াকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী থেকে।

যা’ হোক এখন বোরিসের জন্য ডি-ডে (D-Day-কার্যকর পরিবর্তনের পদক্ষেপ গ্রহন)।

গত সপ্তাহে তেরেসা মে’র পদত্যাগের মাধ্যমে কনজার্ভেটিভ পার্টির নেতা হিসেবে প্রদদ্বন্দ্বিতার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। ব্রেক্সিট ডিল সফল করতে না পেরে মে’র দু:খজনক বিদায় ঘটেছে। তেরেসা মে ৭ জুন শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ত্যাগ করবেন, কিন্তু তাঁকে জুলাইয়ের শেষে কেউ একজন (বোরিসের সম্ভাবনাই বেশি) পূন:স্থাপন করবেন।

এই বার বোরিসের জন্য এগিয়ে যাওয়ার সময়। যদিও ২০১৬-তে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রত্যাশা পূরনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তখন অবশ্য তাঁরই মিত্র মাইকেল গোব তাঁর সাথে বেঈমানি করেছিলেন। এটা বোঝা যাচ্ছে বোরিসের কৌশল হবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগকালে বৃটেনের জন্য বা বৃটেনের স্বার্থ সংরক্ষণ করে একটি ডিল তৈরী করা।

অস্ট্রেলিয়া মনে করে যখনই বৃটেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগ করবে তখনই বৃটেনের সাথে অস্ট্রেলিয়ার বানিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে। অস্ট্রেলিয়ান-ইউনাইটেড কিংডম চেম্বার অব কমার্সের পক্ষে মি: ক্রসবি সেকারনেই বোরিসের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রাখছেন।

বোরিস্ অনবরত: বলে আসছিলেন যে বৃটেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাইরে থেকে লাভবান হবে। এই প্রশ্নে বৃটেনের রাজনীতিতেই একটা অনিশ্চয়তা তৈরী হওয়ায় তেরেসা মে-কে পদত্যাগ করতে হলো। ২০১৬ -তে ‘লিভ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’ রেফারেন্ডাম ক্যাম্পেইনে বোরিস সম্মুখ সারিতে ছিলেন। বৃটেনের উত্তরাংশ এবং কান্ট্রি সাইডে লিভ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পক্ষে স্ট্রং সাপোর্ট ব্যক্ত করেছিলো। তাদের রায়ে বৃটিশ জনগনের মধ্যে জাতীয়তাবাদের চেতনা ফুটে উঠেছিলো। তারা বলতে চেয়েছে তাদের জীবন যাপন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন দ্বারা নিয়ন্ত্রত হতে পারেনা। তেরেসা মে বৃটিশ জনগনের সেই অনুভূতিকে কার্যকর করতে নির্দিষ্ট সময় সীমা বেশ কয়েকবার মিস্ করে এমনকি কোনো আপোষরফায় পৌঁছতে সক্ষম হননি।

অবশ্য তেরেসা মে’র পদত্যাগের পর বোরিসের তেমন কোনো বক্তব্য শোনা যায়নি। যদিও তাঁর বাড়ীর সামনে সব সময়ই রিপোরিটার্স, ফটোগ্রাফার্স ওঁত পেতে থাকেন তাঁর বক্তব্য নেয়ার জন্য। তবে তিনি লীডারশীপের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলেছেন। আরও বলেছেন যে ডিল হোক বা নাহোক ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বৃটেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগ করছে। তাঁর এই বক্তব্য অবশ্য স্পষ্ট করে যে তিনি বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌঁড়ে অংশ নিচ্ছেন।

বোরিসের প্রতিদ্বন্দ্বী ফরেন সেক্রেটারী মি: জেরেমি হান্ট বলেছেন ডিল ছাড়া ব্রেক্সিট কনজার্ভেটিভ পার্টির জন্য শুধু ধ্বংসই ডেকে আনবেনা সাম্প্রতিক বৃটেনের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম বারের মতো একজন সোসালিস্ট লেবার লীডার জেরেমি করবি-কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১০ জাউনিংস্ট্রীটে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে এবং তা’ খ্রীস্টমাসের পূর্বেই হবে।

বোরিসের সমালোচকরা মনে করেন ব্রেক্সিটের কথা বলতে গিয়ে বোরিসের বিজনেস নিয়ে নেতিবাচক কমেন্ট বোরিসকে পিছনে টেনে ধরতে পারে।অনেকে আবার তামাশা করে বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভোট থাকলে হয়তো বোরিস্ প্রধানমন্ত্রী হতেন। আগামী সপ্তাহে বৃটেন সফরকে সামনে রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “বোরিস্ আমার বন্ধু।” বোরিসের প্রতি ট্রাম্পের সাপোর্ট অন্যান্য প্রার্থীদেরকে বিব্রত করেছে।

আগামী মাসের কনজার্ভেটিভ পার্টি লীডারশীপ নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় আরও রয়েছেন গোব, ব্রেক্সিট মিনিস্টার জেমস ক্লেভারলি, হেলথ সেক্রেটারী ম্যাট হ্যাংকক, হোম সেক্রেটারী সাজিদ জাভিদ, এ্যান্ড্রি লীডসম, কিট মাল্টহাউজ, এসথার ম্যাকবি, ডোমিনিক রাব প্রমুখ।

বোরিস জনসন এই সপ্তাহে বললেন বৃটেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার প্রত্যাশায় ছিলো এবং আছে এবং তিনি বৃটিশ জনগনের চাহিদা পূরন করতে সমর্থ্য।
 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT