Main Menu

অধিকাংশ এক্সিট পোল বলছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন (এনডিএ) জোট লোকসভা নির্বাচন ২০১৯-এ বিজয়ী হবে

মোঃ শফিকুল আলম: অধিকাংশ এক্সিট পোল বলছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন (এনডিএ) জোট লোকসভা নির্বাচন ২০১৯-এ বিজয়ী হয়ে আগামী পাঁচ বছর সরকারে থাকছে

 

 

 (২১/০৫/২০১৮) নিউইয়র্ক টাইমস্, ব্লুমবার্গ বলেছে গত এক দশকে ভারত সবচাইতে ক্ষমতাধর এবং বিভেদ সৃষ্টিকারী এক নেতা নরেন্দ্র মোদীকে তৈরী করেছে। সকল এক্সিট পোল বলছে ৫৪৫ ( ৫৪৩ আসনে নির্বাচন হয়) সদস্য বিশিষ্ট লোকসভায় মোদীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক এ্যালায়েন্স কম পক্ষে ৩১৭ আসনে বিজয়ী হবে।

 

মনুষ্য ইতিহাসের সবচাইতে বড় গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মোদি দ্বিতীয় বারের জন্য ভারতের একচ্ছত্র নেতা হিসেবে বেরিয়ে আসলেন যখন তাঁর বিরুদ্ধে বেকারত্ব দূর করতে না পারার অভিযোগ ছিলো তীব্রতর। রয়েছে কৃষকদের অবস্থার উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন না করার ব্যর্থতার অভিযোগও।

 

এবছর ভারতে রেজিস্ট্রার্ড ভোটারের সংখ্যা ছিলো ৯০ কোটি। মোদির ঐকান্তিক নির্বাচনী প্রচার এবং ভারতীয় হিন্দু জাতীয়তাবাদ একত্রিত হয়ে বিপুল সংখ্যক ভোটার আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে মোদীর নেতৃত্বাধীন জোট। যদি এক্সিট পোল সঠিক হয় তবে দ্বিতীয় বারের মোদী সরকার আগামী পাঁচ বছর অনেকটা শক্ত হাতে দেশ শাসন করবে।

 

এক্সিট পোল প্রকাশিত হওয়ার পর ভারতের স্টক মার্কেট গত তিন বছরের মধ্যে সবচাইতে বেশি চাঙ্গা হয়েছে। ডলারের বিপরীতে রুপির দাম বেড়ে গেছে এবং বন্ডের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। 

 

এস এন্ড পি বিএসই সেনসেক্স এর দাম ২.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে যা’ ছিলো মার্চ ২০১৬ থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধি। অপরদিকে রুপির দাম গত ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

 

বাজার সব সময় continuity এর সাথে positively react করে। মোদী সরকার থাকছে এই prediction-এ বিনিয়োগকারীগন আশ্বস্ত হয়েছে। ২০১৪-তে ভারতে বেকারত্ব ছিলো, কৃষকদের মাঝে হতাশা ছিলো এবং তারই প্রেক্ষাপটে মোদীকে ভারতবাসী নির্বাচিত করেছিলো। যদিও মোদী অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হননি তবুও যখন ২০১৪ এর মতো ভূমিধ্বস বিজয় নিশ্চিত হয়েছে বলে বিনিয়োগকারীরা আশ্বস্ত হয়েছে সে অবস্থায় স্টক মার্কেট অত্যন্ত পজিটিভলি রিএ্যাক্ট করেছে এবং ব্যবসায়ীরাও কমফোর্ট ফিল করছে।

 

বাজার কন্টিনিউইটি এবং সংস্কারের সম্ভাব্যতা যাচাই করে; অন্যকিছু নয়। এবং তখন বিদেশীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হয়। অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগ সেইফ মনে করে। কিন্তু নির্বাচনপূর্ব অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন-চায়না ট্রেইড ওয়ার ইত্যাদির কারনে ভারতীয় স্টক মার্কেট থেকে এক মাসেই ৬৫০ মিলিয়ন ডলার অলরেডি উইথড্রন হয়ে গেছে।

 

নির্বাচনী প্রচারের শেষ মুহূর্তে মোদী পুরোপুরি একজন হিন্দু পুজারী হয়ে প্রচার চালালেন। গত শনিবার এবং রবিবার তাঁর প্রচারের শেষ সময়ে মন্দিরে প্রার্থনা করে এবং হিমালয় গুহায় ধ্যানমগ্ন হয়ে কাটালেন।

 

গত রবিবার কমপক্ষে ৭ টি এক্সিট পোল প্রকাশ করা হয়। অবশ্য সবগুলোই ভারতীয় মিডিয়া অরগানাইজেশন। এই জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে বিজেপি এবং তাদের জোট ৫৪৫ সদস্য বিশিষ্ট পার্লামেন্ট (৫৪৩ আসনে নির্বাচন হয় এবং ২ টি প্রেসিডেন্ট নোমিনেট করেন)-এ ২৮০ আসনে বিজয়ী হবে।

অবশ্য দিল্লীর পণ্ডিত জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুধা পাই এই এক্সিট পোল নিয়ে বিশ্বয় প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন মোদীর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার এবং বিরোধী প্লাটফর্মে দ্বিধাবিভক্তির কারনে মোদী হয়তো প্রত্যাশার চেয়ে বড় জয় পেতে পারেন।

এক্সিট পোল অনুযায়ী প্রধান বিরোধী দল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস ২০১৪ এর পরাজয় থেকে একটু ভালো ফলাফল করতে পারে; কিন্তু অনেক নীচে থেকে দ্বিতীয় স্থান লাভ করবে।

 

এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস নেতা এবং ভারতীয় রাজনীতিতে পারিবারিক উত্তরাধিকার রাহুল গান্ধী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংখ্যালঘু শ্রেনীর অধিকার সংরক্ষণ ইত্যাদির পক্ষে জোড়ালো বক্তব্য রেখে সমর্থন কিছুটা হলেও বৃদ্ধি করতে পেরেছেন। কিন্তু মোদির আক্রমনাত্মক এবং well-financed ক্যাম্পেইন মেশিনের বিরুদ্ধে পেরে ওঠেননি। মোদির হিন্দুত্ববাদ হিন্দু মেজরিটি ভারতে বেশ সাপোর্ট পেয়েছে।

 

দীর্ঘ ৬ সপ্তাহের নির্বাচন। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সাত দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়। মধ্য এপ্রিলে প্রথম ভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং সর্বশেষ গত রবিবারে শেষ স্তরের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়।

 

মোদী যেখানেই নির্বাচনী প্রচার করেছেন সেখানেই দেশের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে কথা বলেছেন। নির্বাচনী প্রচারকালে মোদীর অর্থনৈতিক পলিসির ব্যর্থতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছিলো। কৃষকরা প্রায় সব জায়গায় বিক্ষোভ করে বলেছেন তাঁর পলিসি তাদের (কৃষকদের) অধিকতর দরিদ্র করেছে।

 

কিন্তু ফেব্রুয়ারী মাসে কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর মোদীর সমর্থন বৃদ্ধি পায়। মোদী তাঁর পুরো নির্বাচনী প্রচারে দেশের নিরাপত্তা রক্ষার ওপর জোর গিয়ে সমর্থন বৃদ্ধি করতে সমর্থ্য হোন। পাকিস্তানে বিমান হামলায় ভারতের লাভ না হলেও মোদীর লাভ হয়েছে। ভারতের জনগন সেটি পছন্দ করেছে। সাথে সাথে মোদীর ব্যক্তিগত এ্যাপ্রুভাল রেট বেড়ে গিয়েছিলো। বিমান হামলা কতটা সাফল্যের সাথে করা হয়েছিলো সেটি জনগনের কাছে বিচার্য ছিলোনা। ভারত পাকিস্তানে থাকা সন্ত্রাসীদের ওপর পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা করেছে এটাই বিচার্য ছিলো।

 

নিউইয়র্ক টাইমসের নিউজ বিশ্লেষনে এক্সিট পোল প্রকাশিত হওয়ার পর ভারতের সংখ্যালঘু ১৪% মুসলমানদের মধ্যে আতংক তৈরী হয়েছে; আতংক তৈরী হয়েছে সংখ্যালঘু নিম্ন বর্নের হিন্দুদের মাঝেও। হিন্দুত্ববাদীরা অনেক সময় সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমন করে থাকে এবং আক্রমনকারীরা বিচারের আওতায় আসেনা।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT