Main Menu

মৃত এরশাদ বেশি শক্তিশালী হবেন : রাঙ্গা

সাবেক সামরিক শাসক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর কী হবে, সে বিষয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেছেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবর্তমানেই তার প্রকৃত মূল্যায়ন হবে। জীবিত এরশাদের চেয়ে মৃত এরশাদ অনেক বেশি শক্তিশালী হবেন।’

তবে এরশাদের অবর্তমানে যে শূন্যতা সৃষ্টি হবে, তা এককভাবে কারও পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তার ছোট ভাই ও দলের ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

৯০ বছর বয়সী এরশাদের অসুস্থতার মধ্যে রোববার জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রসমাজের নেতাদের নিয়ে এক দলীয় সভায় দলটির গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতার এমন বক্তব্য আসে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেনা সদস্যদের হাতে নিহত হওয়ার পর দৃশ্যপটে আসেন সেনা কর্মকর্তা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের সরকারকে উৎখাত করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন তিনি। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এরশাদ।

এরপর কয়েক বছর কারাগারে থাকতে হলেও ক্ষমতায় থাকাকালে গড়ে তোলা জাতীয় পার্টির কল্যাণে কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছেন সাবেক এই সামরিক শাসক।

বেশ কিছু দিন ধরে দলীয় সভা-সমাবেশ বা প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে এরশাদকে দেখা যাচ্ছে না। রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বল্পতায় ভুগতে থাকা এরশাদ এরমধ্যে দুই দফায় সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা নিয়ে এসেছেন।

এরশাদকে সবশেষ দেখা গেছে গত ৪ মে ওইদিন সাংবাদিকদের বাসায় ডেকে এরশাদ তার অবর্তমানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে জি এম কাদেরের নাম ঘোষণা করেন। তার অসুস্থতাকালীন সময়ে ছোট ভাই কাদেরই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন বলেও সাংবাদিকদের জানান তিনি।

এরপর দল গোছাতে মনোযোগী জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীতে গত সপ্তাহেই আটজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় নেতাদের সাথে বসে ছয় বছর পর জাতীয় ছাত্র সমাজের সম্মেলন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জিএম কাদের।

ওই সম্মেলনের জন্য তিনি ছাত্র সমাজের সাবেক নেতাদের নিয়ে ১১ সদস্যের সম্মেলন সমন্বয় কমিটি গঠন করে দিয়েছেন বলে দলটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সমন্বয় কমিটিতে রয়েছেন আলমগীর শিকদার লোটন, গোলাম মোহাম্মদ রাজু, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, শাহ-ই-আজম, শামীম আহমেদ রিজভী, সৈয়দ মো. ইফতেখার আহসান (হাসান), ইকবাল হোসেন রাজু, আব্দুল হামিদ ভাসানী, নির্মল দাস, ফখরুল আহসান শাহাজাদা ও মিজানুর রহমান মিরু।

এই সভায় ছাত্রনেতাদের উদ্দেশে মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেন, ‘আগামী দিনের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। জাতীয় ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।’

দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অর্বতমানে যে শুন্যতা সৃষ্টি হবে, তা এককভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে না। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সুশৃঙ্খলভাবে জাতীয় পার্টির রাজনীতি এগিয়ে নিতে হবে।’

সম্প্রতি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হওয়া আলমগীর শিকদার লোটন বলেন, ‘জাতীয় পার্টির ছাত্র রাজনীতি আবারও চাঙ্গা করা হবে এবারের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এই ছাত্র সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রয়েছে জাতীয় কাউন্সিল।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT