Main Menu

স্কট মরিসন ও বিল শর্টেনের বিতর্কে কে জিতল ?

মোঃ শফিকুল আলম: ১৮ মে ২০১৯ অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল ইলেকশন এবং সম্ভাব্য প্রত্যাশিত দুই প্রধানমন্ত্রী’র মন্ত্রী’র মধ্যে ০৩/০৫/২০১৯ তারিখে ব্রিজবেনে অনুষ্ঠিত ডিবেট

 

 

এই ডিবেটটি ছিলো এক্সক্লুসিভলি ট্যাক্স পলিসির ওপর। তবে প্রসঙ্গত উপস্থিত নাগরিকদের কাছ্ থেকে উত্থিত প্রশ্নেরও জবাব দুই নেতা প্রধান মন্ত্রী স্কট মরিসন এবং বিরোধী দলীয় নেতা বিল শর্টেনকে দিতে হয়েছে। প্রথম সূচনা বক্তৃতায় উভয় নেতা সরকার পরিচালনায় কোর বিষয়গুলোর ওপর তাঁদের স্ব স্ব পলিসিজ তুলে ধরেন।

 

ডিবেটটি কুইন্সল্যান্ড স্টেটের রাজধানী ব্রিজবেনে ভোটারদের সংগঠন নাগরিক ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত হয়েছিলো। উভয় নেতা তাঁদের ট্যাক্স পলিসি দিয়ে শুরু করেন এবং পুরো সময়টায় অন্য বিতর্ক হলেও প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ট্যাক্স পলিসি প্রাধান্য পায়।

 

অংশগ্রহনকারী উৎসুক ভোটারদের সামনে প্রধানমন্ত্রী পুরো সময়টা তাঁর সরকারের ইকোনোমিক ম্যানেজমেন্টে সফলতার দিকটি বার বার তুলে ধরতে চেষ্টা করেছেন। অপর পক্ষে বিরোধী দলীয় নেতা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বিস্তারিত পলিসি আইডিয়া তুলে ধরেন।

 

স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনের পূর্বে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা থাকে ট্যাক্স কাটের দিকে এবং বাজেট ব্যবস্থাপনার দিকে। প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বড় বিজনেজ কোম্পানীগুলোর ট্যাক্স কাটের পক্ষে। অপর পক্ষে বিল শর্টেন বড় বিজনেজগুলোর ট্যাক্স কাট এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির জন্য নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট করবে বলে মনে করেন। শর্টেন বড় কোন্পানীগুলোর ট্যাক্স কাটের বিপক্ষে এবং এই বিলিয়নস অব ডলারস তিনি ওয়েজেজ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতের অব কাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করে অর্থনীতি গতিশীল করতে চান।

 

মি: শর্টেন আরো বলেন তিনি গ্লোবাল কোম্পানিজ যেমন ফেইসবুক ইত্যাদির ওপর টাফার ট্যাক্স রুলস আরোপ করতে চান। এর ফলে অর্জিত বর্ধিত রেভিনিউ তাঁর সরকারের বর্ধিত স্পেন্ডিংস অ্যাকোমোডেট করতে সক্ষম হবে।

 

সোসাল ইস্যু নিয়ে উপস্থিত অডিয়েন্স এর প্রশ্নের উত্তরে দুই নেত সম্পূর্ণ বিপরীত ছিলেন। প্রশ্নটি ছিলো ফ্রিডম অব রেলিজিয়ন সংক্রান্ত। প্রধানমন্ত্রী মরিসন একটি ডিসক্রিমিনেটরী নতুন আইন প্রনয়নের কথা ভাবছেন। অপর দিকে বিরোধী নেতা মি: শর্টেন ফ্রিডম অব রেলিজিয়াস স্পিচ রক্ষায় দৃঢ়তা প্রকাশ করেন।

 

প্রশ্নকর্তা তখন শর্টেন এ্যাবোর্শন আইনের পক্ষে কি-না জানতে চান। উত্তরে মি: শর্টেন বলেন যে সমস্ত মায়েরা স্বেচ্ছায় এ্যাবোর্শন করতে চায় তাদের সে অধিকার দেয়া উচিত। এ্যাবোর্শনের বিরোধীরা তাঁর মতে মধ্য যুগীয় চিন্তার ধারক। তাদের এ্যাবোর্শনের বিরুদ্ধে প্রটেস্ট করা বন্ধ করা উচিত বলে মি: শর্টেন মনে করেন।

 

পুরো ডিবেট চলাকালীন স্কট মরিসন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রশ্ন করার মাধ্যমে রাগান্বিত করে খেই হারানোর চেষ্টা করেছেন বলে অনুভূত হয়েছে। অপর পক্ষে মি: শর্টেন অনেকটা হাস্যরস তৈরী করে বা ঠাট্টার পরিবেশ তৈরী করে জনতাকে তাঁর পক্ষে হাস্যরসে অংশগ্রহন করিয়ে বিকল্প পলিসি উত্থাপন করে অপোনেন্টকে পরাস্ত করতে বা করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

 

স্কট মরিসন অবশ্য প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো এবং ট্যাক্স কাট পলিসির ওপর বার বার গুরাত্বরোপ করছিলেন। ডিবেটের শুরুতে তেমন কোনো উত্তেজনা না থাকলেও লেবার লীডার শেয়ারের ফ্রাঙ্কিং ক্রেডিট পলিসির পরিবর্তন করে আগামী দশকে ৫৬ বিলিয়ন ডলার আহরনের পলিসি ঘোষনা করলে ডিবেটে উত্তেজনা তৈরী হয়। মরিসনের মতে লেবারের এই পলিসি অবসরে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ানদের আর্থিক কষ্ট বৃদ্ধি করবে।

 

লেবার পলিসি ডিটেইলস-এ দেখা যায় পেনশনার বা পার্টপেনশনাররা সেলফ ম্যানেজড সুপার এ্যানুয়েশন ফান্ডে তাদের শেয়ার ধরে না রাখলে তারা ডিভিডেন্ড ইমপিউটেশন থেকে প্রাপ্ত ট্যাক্স রিফান্ড তাদের কাছে রাখতে পারবেন। মরিসন এই বিষয়ে ডিটেইলস-এ যাননি। তিনি অনেকটা আবেগপ্রবণ ছিলেন। অপর দিকে বিরোধী নেতা তাঁর পলিসির ডিটেইলস ব্যাখ্যা দেন।

 

মি: শর্টেনকে বেশিরভাগ সময়ে মরিসনের প্রশ্নের জবাবে ডিটেইলস বলতে গিয়ে বেশি সময় নিতে দেখা গেছে। মরিসন বিরোধী নেতাকে ট্যাক্স বৃদ্ধির মাধ্যমে রেভিনিউ বৃদ্ধির পলিসির সমালোচনা করতে দেখা গেছে। তাঁর মতে এতে করে বিগ বিজনেজ অতিরিক্ত ট্যাক্স প্রদান করতে গিয়ে এবং লেবার পলিসি অনুযায়ী মজুরী বৃদ্ধি করতে গেলে মানুষ জবলেস হবে এবং অর্থনীতিতে নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট হবে।

 

অপরদিকে শার্টেনের মতে মজুরী বৃদ্ধি না হলে ডিফ্লেশন হবে এবং প্রডাক্টিভিটি হ্রাস পাবে যা’ অর্থনীতিতে কাম্য নয়। কাম্য মাত্রায় অর্থনীতিতে ইনফ্লেশন থাকতে হবে। মজুরী বৃদ্ধি সেক্ষেত্রে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে। শর্টেনের মতে মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোকে এদেশে বিজনেজ করতে হলে দেশের জনগনকে ফেয়ার শেয়ার দিতে হবে। বাড়তি রেভিনিউ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চাইল্ড কেয়ার এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করে স্বাস্থ্যবান এবং দক্ষ জনগোস্ঠী গড়ার মাধ্যমে সাসটেনেবল অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে।

 

মরিসন বিরোধী নেতার বেশি সময় নিয়ে উত্তর দেয়াকে ঠাট্টা করে বললেন তিনি যেহেতু বেশি ট্যাক্স ধার্য করবেন সেহেতু বেশি সময় নিয়ে উত্তর দিচ্ছেন।

 

অডিয়েন্স দুই নেতার ডিবেটিং ট্যাকটিকস উপভোগ করেছেন; কিন্তু কোনো নেতাকে এককভাবে সমর্থন জ্ঞাপন করেননি। ডিবেট শেষে ফলাফলে দেখা গেলো শর্টেনকে ৪৩% ভাগ, মরিসনকে ৪১% ভাগ সমর্থন করেছেন এবং ১৬% ভাগ ভোটদানে বিরত ছিলেন।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT