Main Menu

১৮ মে ২০১৯ অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল ইলেকশন

মোঃ শফিকুল আলম: নির্বাচনকে সামনে রেখে জরুরী প্রশ্ন হচ্ছে যে অস্ট্রেলিয়ায় কি উগ্র ডান-পন্থী সেন্টিমেন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা’হলে অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পরিবর্তন প্রয়োজন।

 

প্রায় চার দশক পূর্বে আধুনিক সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন যদি অস্ট্রেলিয়া তাদের অর্থনৈতিক পলিসিজ এশিয়ায় উন্মুক্ত না রাখে তবে অস্ট্রেলিয়া এশিয়ায় ‘poor white trash’-এ পরিনত হবে। ‘poor white trash’ সাধারনত আমেরিকার কান্ট্রি সাইটে বসবাসরত এয়ার্কিং ক্লাসকে বুঝানো হয়ে থাকে।

 

অস্ট্রেলিয়া নানাভাবে লি কুয়ানের সমালোচনার জবাব দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এখন বিশ্বে মাল্টি কালচারাল দেশসমূহের মধ্যে অন্যতম দৃষ্টান্ত এবং ব্যবসায় এবং বিনিয়োগের জন্য দেশটি উন্মুক্ত। গনতন্ত্র এবং আইনের শাসন সকল ব্যবসায়-বানিজ্য এবং বিনিয়োগের জন্য নিশ্চিত নিরাপত্তা রক্ষা করে।

 

তথাপি বর্তমান সংসদে বিরোধী দল লেবার পার্টির শ্যাডো ফরেন মিনিস্টার এবং ১৮ মে’র নির্বাচনে বিজয়ী হলে ফরেন মিনিস্টার সিনেটর পেনি ওং সম্প্রতি লয়ী ফাউন্ডেশনের একটি অনুষ্ঠানে এক আলোচনায় এশিয়ায়ার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ফরেন পলিসিজ নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।

 

পেনি বর্তমান লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশন সরকারের প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের সাম্প্রদায়িক কার্ড ব্যবহারের সমালোচনা করে বলেন মরিসন অস্ট্রেলিয়ার ইমেজ ক্ষুন্ন করেছেন। পেনি আরো মনে করেন মরিসন যারা অস্ট্রেলিয়ায় ‘হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া পলিসি’-তে বিশ্বাস করেন তাদেরকে সাপোর্ট দিয়ে এতদান্চলে অস্ট্রেলিয়ার সম্মান হেয় করেছেন।

 

অপর পক্ষে পেনি বলেন যদি আসন্ন নির্বাচনে লেবার পার্টি বিজয়ী হয় এবং সরকার গঠন করে এবং সেই সরকারের এশিয়ান-অস্ট্রেলিয়ান ফরেন মিনিস্টার হিসেবে পুরো এশিয়ান্চলে তিনি ভিন্ন সিগনাল পৌঁছে দিতে চান। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়া মাল্টি কালচারাল কান্ট্রি হিসেবে ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে সকলের সমান অধিকার সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর একটি দেশ।

 

নির্বাচনের পূর্বে শ্যাডো ফরেন মিনিস্টার পেনি ওং এর বক্তব্য অস্ট্রেলিয়ার এশিয়ান পার্টনারদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা’ জানিনা তবে তাঁর এই বক্তব্য আসন্ন নির্বাচনে এশিয়ান-অস্ট্রেলিয়ান ভোটারদের লেবার পার্টির প্রতি নি:সন্দেহে আকৃষ্ট করবে। সিনেটর পেনি তাঁর নির্বাচনপূর্ব ক্যাম্পেইন রাইটস ব্যবহার করে যে কথা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে সেধরনের কথাই বলেছেন।

 

লিবারেল পার্টি যে রাইট উইং ওয়ান ন্যাশন পার্টির সাথে প্রেফারেন্স ডিলে যাচ্ছে তা’ নিশ্চয়ই এশিয়ান দেশসমূহের দৃষ্টি এড়াচ্ছেনা। হয়তো দৃষ্টি এড়াচ্ছেনা পল হ্যানসনের ওয়ান ন্যাশন পার্টির পূনরুত্থানের বিষয়টিও। সম্প্রতি একজন রাইট-উইং ন্যাশনালিস্ট অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃক নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্ট চার্চে মসজিদ হত্যাকান্ড পুরো পৃথিবীকে অশান্ত করেছে। শ্রীলঙ্কা হত্যাকান্ড ক্রাইস্টচার্চ হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ হিসেবেই এখনও পর্যন্ত বিবেচিত। নিরাপত্তা বিশ্লেষকগন পৃথিবী ব্যাপী আরো সন্ত্রাসী হামলার আশংকা করছেন।

 

এই মুহূর্তে যদি এশিয়া ব্যাকগ্রাউন্ডের একজন ফরেন মিনিস্টার আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় দেখা যায় তা’ অবশ্যই এশিয়ান্চলের দেশসমূহে একটি ইতিবাচক আশার সন্চার করবে বলে রাজনীতি বিশ্লেষকগন মনে করেন। এবং তাঁরা এও মনে করেন যে এশিয়ার দেশসমূহ আশ্বস্ত হতে পারবে যে অস্ট্রেলিয়ার জনগন ‘হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া পলিসি’ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আন্চলিক সেন্টিমেন্টকে সম্মান জানিয়েছেন। যদিও সিনেটর পেনির রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক ইমেজ রয়েছে এবং তাঁর নিজস্ব অবস্থান অত্যন্ত শক্ত।

 

অপরদিকে এমনও নয় যে একজন নন-এশিয়ান ব্যাকগ্রাউন্ডের ফরেন মিনিস্টার হলে এই জবটি যথাযথভাবে করতে পারবেননা। ম্যালকম টার্নবল সরকারের ফরেন মিনিস্টার জুলি বিশপ একজন নন-এশিয়ান কিন্তু সফল ফরেন মিনিস্টার ছিলেন। টার্নবল সরকার যথেষ্ট সফলতার সাথে ইন্দোনেশিয়ার সাথে ট্রেড ডিল করেছিলেন।

 

অবশ্য এশিয়ার সাথে অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক অনেক কাল আগে থেকে। বিশেষ ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে সত্য তবে ঐতিহাসিক সম্পর্ক অনেকটা চলোমান প্রক্রিয়া। তবে সিনেটর পেনি বেশ কয়েকটি দিক উল্লেখ করেছেন যে দিকগুলোর লেবার গভর্নমেন্ট বিশেষভাবে পরিবর্তন আনায়ন করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ করে ক্লাইমেট চেইন্জ পলিসিতে লিবারেল গভর্নমেন্ট অস্ট্রেলিয়ার রেপুটেশনে আঘাত করেছে। বিশেষ করে দক্ষিন প্রশান্ত মহাসাগর অন্চল বিশেষভাবে স্ট্রাটেজিক জোন পেনি নির্দেশিত করেছেন যেখানে লিবারেল গভর্নমেন্টর গাফেলতি রয়েছে।

 

একইভাবে লিবারেল গভর্নমেন্ট অস্ট্রেলিয়ান সরকারের ফরেন-এইড বাজেট কাট করেছে যা’ এশিয়ান্চলে অস্ট্রেলিয়ার প্রভাব কমিয়েছে। ফরেন-এইডস হচ্ছে কোনো একটি দেশের ওপর প্রভাব বিস্তারের একটি অন্যতম টুলস। লেবার পার্টি ফরেন-এইড বাজেট বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে। যদিও কি পরিমান বৃদ্ধি করবে তার ডিটেইলস এখনও প্রকাশ করেনি।

 

সিনেটর পেনি একটি নতুন পলিসি প্রনয়ন করার কথা বলেছেন যাতে চায়নার সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে কৌশলগতভাবে এশিয়ান্চলে চায়নার সাথে বানিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়। তাঁর পলিসির কেনো ডিটেইলড পেপার এখনও উপস্থাপন করা হয়নি। তবে সকল পক্ষের রাজনীতিকদের এটা বোঝা উচিত ফরেন পলিসির অন্যতম দিক হবে এশিয়ান্চলের সকল দেশের সাথে বানিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করা এবং চায়নার সাথে স্ট্রাটেজিক সম্পর্ক রাখা। কারন এই দেশগুলোরও অন্য কোনো চয়েজ নেই।

 

দেখা যাক্ ১৮ মে’র নির্বাচন কোন্ দলকে ক্ষমতায় আনায়ন করে তার ওপরে নির্ভর করবে সকলের জল্পনা এবং কল্পনা।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT