Main Menu

সাকুরা মৌসুমে

রাশেদুল ইসলাম:(শেষাংশ)

C:\\Users\\DELL\\Desktop\\IMG_0929.jpgC:\\Users\\DELL\\Desktop\\IMG_093g7.jpg

জাপান  সফরে প্রতিনিধি  দলের নেতা আমি ।  এ ধরণের কেউ এমন কিছু করতে পারেন  না, যাতে তাঁর নিজের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় । অবশ্য দেশের যে কোন নাগরিক, যিনি বিদেশে বেড়াতে যান বা প্রবাসে থাকেন, সবার ক্ষেত্রে  একই কথা প্রযোজ্য । কারণ, প্রত্যেক মানুষ তাঁর নিজের দেশের প্রতিনিধি । একজন ব্যক্তি মানুষের আচরণ দিয়েই, তাঁর নিজের দেশকে মূল্যায়ন করে অন্য দেশের  মানুষ । আমার প্রথম বিদেশে যাওয়া হয় ১৯৯৭ সনে । চীনের হোবে প্রদেশে । একটি আন্তর্জাতিক কর্মশালায় যোগদান করি আমি । অংশগ্রহণকারী মোট দেশের সংখ্যা ৩১ ।  বাংলাদেশ থেকে আমি একা । বিদেশে যাওয়ার আগে মনে মনে বেশ পুলক অনুভব করি আমি । বিদেশের মাটিতে একা ! নিজের ইছেমত যা খুশি করা যাবে সেখানে । কিন্তু, বাস্তবে তা আর  করা হয় না । তখন আমার মনে হয়েছে , স্বাধীনতা মানে নিজের যা ইচ্ছে, তা করা নয় । স্বাধীনতা মানে নিজের বিবেকবুদ্ধি মত কাজ করা । আর নিজের বিচারবুদ্ধি দিয়ে কাজ করলে, কেউ  ইচ্ছে মাফিক যা খুশী তাই করতে পারে না । আমাদের গাইডের নাম মিচিও আকুতসু । তাঁর কাছে একটা প্রশ্ন আমার । যে অফিসে আমরা দুপুরের খাবার খেলাম, সে খাবার কে খাওয়াল ? যদি সেই অফিস  খাবার দিয়ে থাকে, তাহলে সেখানকার গারবেজ আমাদের বয়ে নিতে হবে কেন ? এ রকম একটা বহুতল ভবনে ময়লা ফেলার জায়গা নেই- তা বিশ্বাসযোগ্য নয় । তবে আমার নিজের অবস্থান থেকে এ ধরণের প্রশ্ন  গাইডকে করা মোটেও সমীচীন নয় । কিন্তু, লেখার জন্য এটা জানা দরকার আমার । বিষয়টি মিঃ আকুতসুকে বুঝিয়ে বলি আমি ।

মিঃ আকুতসু বিষয়টি সহজভাবে নেন । তিনি জানান,  সেই অফিস আমাদের দুপুরের খাওয়া দেয়নি । দুপুরের সময় হওয়াতে  আয়োজক সংস্থা উক্ত খাবারের ব্যবস্থা করে। জাপানের নিয়ম অনুসারে আবর্জনা পরিষ্কারের  দায়িত্ব স্ব স্ব ব্যক্তি বা সংস্থার । এজন্য কোন ব্যক্তি যদি ময়লা ফেলার জায়গা না পায়; তাহলে ব্যাগে ভরে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাবে । কিন্তু, যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবে  না । এটাই নিয়ম । স্কুল থেকেই জাপানি ছেলেমেয়েদের হাতে কলমে এ শিক্ষা দেওয়া হয় । যে অফিসে আমরা খেয়েছি; খাবার যেহেতু সেই অফিস দেয়নি- সেই আবর্জনা ফেলার দায়িত্ব তাঁদের নয় । এ কারণে সেই আবর্জনা বাসে করে আমাদের আনতে হয়েছে । এ প্রসঙ্গে দেশ থেকে শোনা একটা গল্প মনে পড়ে আমার । আমাদের দেশের একজন বড় কর্মকর্তা,   পরিচালক পর্যায়ের; তিনি একটা কর্মশালায় যোগ দেন জাপানে । আলোচনার এক পর্যায়ে নিজ দপ্তরের পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে কথা উঠে সেখানে । কয়েকজন সেই আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন । এতে বিরক্ত হন তিনি । জানান, আমাদের দেশে অফিস পরিষ্কার করার জন্য পরিচ্ছনতা কর্মী রয়েছে । কনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তা তাঁদের কাজ তদারকী করেন । কর্মশালায় এধরণের বিষয় আলোচনা হবে জানলে, তিনি সেই জুনিয়র কর্মকর্তাকেই পাঠাতেন । নিজে আসতেন না । কর্মশালায় উপস্থিত সভাপতি বিনীতভাবে জানান,  জাপানে পরিচ্ছনতা কর্মী নামে কোন পদ নেই । তাঁরা প্রত্যকেই নিজ নিজ অফিস পরিচ্ছন রাখার কাজ করে থাকেন । এ বিষয়টি আমি আমার এক সহকর্মীর সাথে শেয়ার করি । তিনি বেশ কিছুকাল ইংল্যান্ডে ছিলেন । তিনি জানান রাজকুমার উইলিয়াম এবং হ্যারি যখন ছোট ছিলেন তখন তাঁদের টয়লেট নিজেরা পরিষ্কার করার দৃশ্য একটি ডকুমেনটরিতে দীর্ঘক্ষণ দেখানো হয় । নিজেদের ঘরবাড়ি যে নিজেরাই পরিষ্কার করতে হয়-এটা সে দেশের ছেলেমেয়েদের শেখানোর জন্যই সেই প্রামান্য চিত্রটি দেখানো হয় । আমি নিজে  অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুকাল পড়েছি । সেখানে ডরমিটরিতে আমাকেও পালা করে টয়লেট এবং রান্নাঘর পরিষ্কার করতে হয়েছে । বরাদ্দ ঠিক রাখতে এ কাজ বাধ্যতামূলক । দেশে এসে সেই চর্চা অন্যদের মত আমি নিজেও ভুলে গেছি। আমরা বাঙালিরা অনেক দিক দিয়ে অনেক এগিয়েছি সত্য; কিন্তু নিজেদের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে একেবারেই পিছিয়ে । আমরা কি আমাদের স্কুল পর্যায় থেকে এ কাজ বাধ্যতামূলক করতে পারিনে ? এটা কি খুবই কঠিন কাজ ?

জাপানের মানুষ বিনয়ী । পৃথিবীর বিনয়ী জাতির কোন তালিকা আছে কিনা,  আমার জানা নেই । যদি থাকে, তাহলে জাপানিদের নাম তালিকার শীর্ষে থাকার কথা । কিন্তু, মজার ব্যাপার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হওয়ার আগে,   জাপানিরা এমন বিনয়ী জাতি ছিল না । আমার মনে হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শোচনীয় পরাজয় এবং হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আণবিক বোমার বিভীষিকাময় স্মৃতি জাপানি জাতিকে এক সুসভ্য ও বিনয়ী জাতিতে পরিণত করেছে । কোরিয়া মাত্র ৩৫ বছর জাপানের কলোনি ছিল । পক্ষান্তরে ভারত উপমহাদেশ প্রায় ২০০ বছর  ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কলোনি ছিল । কিন্তু, মাত্র ৩৫ বছরে কোরিয়ার জনগণ জাপানিদের দ্বারা যে অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়, তা অনেক ক্ষেত্রে এ উপমহাদেশে ইংরেজদের অত্যাচার নির্যাতনকেও হার মানায় । কিন্তু, মজার ব্যাপার, সেই যুদ্ধবাজ জাপান আজ পৃথিবীর একনম্বর বিনয়ী জাতির দেশ  । আজ পৃথিবীর এক নম্বর সুসভ্য এক জাতির নাম জাপানি । তারমানে এই যে, ভুল করার মধ্যে কোন ভুল নেই ; যদি সেই ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে শুধরে নেওয়া যায় এবং একজন জাপানি নাগরিকের মত নিজের খোলনলচে একেবারে বদলে ফেলা যায় ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান পরাজিত,  আণবিক বোমায় ক্ষতবিক্ষত যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি  দেশ । এ অবস্থা কাটিয়ে স্বল্পসময়ে  প্রথম শ্রেণির শিল্পোন্নত একটি দেশে পরিণত হয়  জাপান । এটা সে দেশের বিনীত ও মেধাবী জনগণের কঠোর পরিশ্রমের ফসল । যে ৩য়  শিল্প বিপ্লবের কথা আগে বলা হয়েছে,   সমৃদ্ধ জাপান সে পর্যায় ছাড়িয়ে গেছে । এখন ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের পসরা সাজিয়ে তৈরি জাপান  । গোটা পৃথিবীর বাজার ধরতে চায় সে । শুধু জাপান নয় পৃথিবীর আরও কয়েকটি দেশ আছে একই কাতারে । এখন প্রশ্ন বাংলাদেশ কি আগের মত  ৪র্থ শিল্প বিপ্লবেও উন্নত দেশের বাজার হবে ? না নিজেই  বাজার সৃষ্টি করবে ?   এ বিষয়ে সরকারের জবাব সুস্পষ্ট । আর কোন বাজার হওয়া নয়;  ৪র্থ শিল্প বিপ্লবে বাজার সৃষ্টির মাধ্যমেই ২০৪১ সনের লক্ষ্য অর্জন করতে চায় বাংলাদেশ ।  কিন্তু, পরের প্রশ্ন এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা কতটুকু ? আগেই বলা হয়েছে  শিল্প উৎপাদনে ইঞ্জিন ব্যবহারের মাধ্যমে  ১ম শিল্প বিপ্লব, বিদ্যুত ব্যবহারের মাধ্যমে   ২য় শিল্প বিপ্লব এবং কম্পিউটার ও ইন্টারনেট  ব্যবহারের মাধ্যমে ৩য় শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হয় । ১ম ও ২য় শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশ কোন সুবিধা পায়নি; কারণ গোটা ভারত উপমহাদেশ তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কলোনি ছিল । ১৯৭০ সনে ৩য় শিল্প বিপ্লবের সূচনা হলেও বাংলাদেশ সে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ২০০৯ সনে; যখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নবগঠিত সরকার রুপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন শুরু করে । সে সময় সরকার বাংলাদেশেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য ঘোষণা করে । এই প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ১০ বছরে সরকার  একটি চমৎকার ডিজিটাল প্লাটফরম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে । কিন্তু, এই প্লাটফরম কি ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের বাজার ধরার  জন্য যথেষ্ট ? এ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের স্বরূপ ব্যাখ্যা করা দরকার ।

আগের আলোচনায় দেখা গেছে শিল্প উৎপাদন প্রক্রিয়ায় একটি নতুন প্রযুক্তি যোগ হওয়ায় উৎপাদন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে । সেই ব্যাপক পরিবর্তন একটা বিপ্লবের কারণ ঘটিয়েছে । সে রকম একটা নতুন প্রযুক্তির নাম Artificial Intellegence (AI)  বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা । উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এই  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারই ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের মূল কারণ । অন্য ৩ টি শিল্প বিপ্লবের সাথে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে । অনেকের মতে সেই পার্থক্যটাই ভয়ের কারণ । অন্যান্য শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে মেশিনের পিছনে কাজ করেছে মানুষ । কিন্তু ৪র্থ শিল্প বিপ্লবে মেশিনের পিছনে যে কাজ করবে,  সে মানুষ নয়; কাজ করবে আর একটি মেশিন । যেমনঃ গাড়ি একটা মেশিন; এই গাড়ি চালাবে রোবট নামের  আর একটি মেশিন । কোন মানুষ গাড়িচালক থাকবে না । রোগীদের একটা মেশিন দিয়ে অপারেশান করা হবে । কিন্তু, যিনি অপারেশন করবেন তিনি মানুষ নন; তিনিও একটি মেশিন । এ কারণে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবকে  2nd Machine Age  বা ২য় যন্ত্রযুগ বলা হচ্ছে ।

৪র্থ শিল্প বিপ্লবের প্রকৃতি দেখে  অনেকে ভয় পান । তাঁরা বলতে চান বাংলাদেশের মত জনবহুল দেশে এ বিপ্লব  সুফল দেবে না । এ বিপ্লব বেকারত্ব সৃষ্টির কারণ হবে মাত্র । প্রথমেই বেকার হবে হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক । ইত্যাদি । ইত্যাদি ।  ৪র্থ শিল্প বিপ্লবে যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বাজার সৃষ্টি হবে; নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে- সে বিষয়টি তাঁরা বিবেচনায় নেন না । ৩য় শিল্প বিপ্লবের মূল উপকরণ  কম্পিউটার যখন আমদানির কথা আসে; তখন টাইপিস্ট যারা ছিলেন, তাঁরা আপত্তি তোলেন । তাঁদের ভয় ছিল কম্পিউটার এলে তাঁদের চাকুরী থাকবে না । কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশে সেদিনের সেই টাইপিস্টগণ চাকুরীতে নিজেরা শুধু  ভালো অবস্থানে আছেন তাই নয়; সেই কম্পিউটার হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর চাকুরীর সুযোগ সৃষ্টি করেছে । একই ভাবে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবে একদিকে যেমন কিছু মানুষের চাকুরী হারানোর ভয় থাকবে; অন্যদিকে অগণিত মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে । প্রশ্ন হচ্ছে  বাংলাদশ ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য কতটা তৈরি ? এ বিষয়ে আমি একটা মাত্র উদাহরণ দিতে চাই । সেদিন সপ্তম শ্রেণির একটা ছাত্র আমার কমিটির সামনে আসে । নাম মাশফি । সে একটা উদ্ধারকারী দ্রোণ আবিস্কার করতে চায় । সে তার বক্তব্যে রানা প্লাজার ঘটনা বলে । অতিসম্প্রতি বনানীর  বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় উদ্ধার কাজের ট্রাজেডির কথা বলে । এই দুটি ঘটনা তাকে এই আবিষ্কারে উদ্বুদ্ধ করেছে বলে সে জানায় । তার আবিষ্কৃত দ্রোণ এধরণের দুর্ঘটনায় আটকে পড়া অসহায় মানুষের অবস্থা জানাতে সক্ষম হবে বলে দাবী করে সে । কমিটির একজন বিশেষজ্ঞ সদস্য , যিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক,  তিনি বনানী অগ্নিকাণ্ডের তাপমাত্রা এবং সেই আগুনে তার দ্রোণ পুড়ে যাবে কিনা জানতে চান । ছেলেটি দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে বনানী অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুনের তাপমাত্রা উল্লেখ করে এবং যে ধাতু দিয়ে তার দ্রোণ তৈরি হবে, তা সেই আগুনের তাপমাত্রায় পুড়বে না বলে জানায় । রুপকল্প ২০২১ এর আওতায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ প্রক্রিয়ায় এ ধরণের হাজার হাজার মাশফির  গর্বিত মা এখন বাংলাদেশ । এরাই ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের সৈনিক । সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ডিজিটাল বাংলাদেশ প্লাটফরমে অর্জিত এ ধরণের সকল সাফল্য সমন্বিত ভাবে কাজে লাগানো । এ কারণে ৪র্থ শিল্প বিপ্লব বাস্তবায়নের জন্য একটি সমন্বিত কর্ম কৌশলপত্র তৈরি করা প্রয়োজন । যে মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে ২০০৯ সনে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ কাজ শুরু হয় – একই ভাবে ৪র্থ শিল্প বিপ্লব বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে হবে । এবং তা অবিলম্বে ।

প্রকৃতপক্ষে ৪র্থ শিল্প বিপ্লব গোটা পৃথিবীকে একই প্লাটফরমে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে । হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের  প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ প্রফেসর Gerschenkron এর The Gerschenkron’s Hypothesis এখানে প্রযোজ্য । এই তত্ত্বের মর্ম অনুযায়ী  নিম্নবর্ণিত ৩টি শর্ত পূরণ করলে যে কোন উন্নয়নশীল দেশ ৪র্থ শিল্প বিপ্লবে বিজয়ী হতে পারেঃ

১। যে জাতির একটা অভিজাত শ্রেণি আছে,  যারা নতুন প্রযুক্তি বোঝেন;

২। যে জাতির মধ্যে নতুন প্রযুক্তি বিরোধী কোন দল নেই; এবং

৩। যে জাতির দৃঢ়চেতা একজন নেতা আছেন,  যিনি নতুন প্রযুক্তি গ্রহন করতে চান ।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র অভিজাত শ্রেণি নতুন প্রযুক্তি বোঝেন তা  নয়; এদেশের আপামর জনগণ নতুন প্রযুক্তির মর্ম বোঝেন । ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার কৃতিত্ব সরকারের ।  এদেশে নতুন প্রযুক্তি গ্রহন বিষয়ে কোন বিরোধী দল নেই । এদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর । এ সবকিছু কাজে লাগানো সম্ভব হলে,  ৪র্থ শিল্প বিপ্লব হবে বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ । এই বিপ্লবে নেতৃত্বের আসন পেতে পারে বাংলাদেশ ।

আমি বলছিলাম সাকুরা মৌসুমের কথা । সাকুরা মৌসুমে জাপানের কথা । জাপান বাংলাদেশের বন্ধু প্রতিম দেশ । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অকুণ্ঠ সমর্থন দেয় জাপান । হলি আরটিজানের ঘটনায়  ৯ জন জাপানি নাগরিকের করুণ হত্যাকাণ্ডে যখন বাংলাদেশ নাজুক অবস্থায় পড়ে, তখনও জাপান অকৃতিম বন্ধুর মত পাশে থাকে । ৪র্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দিতে হলে এধরণের কিছু বন্ধু রাষ্ট্রের সহযোগিতা বড় প্রয়োজন । তবে, এই প্রয়োজন নিরূপণে মুনশিয়ানা থাকতে হবে; যেন বাংলাদেশ তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয় ।        


 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT