Main Menu

ভ্লাদিমির পুতিন এবং কিম জং-উনের বৃহস্পতিবারের ভ্লাদিভোস্তক বৈঠক

মোঃ শফিকুল আলম: ভ্লাদিমির পুতিন এবং কিম জং-উনের বৃহস্পতিবারের ভ্লাদিভোস্তক বৈঠকটি যে পারমানবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরন সংক্রান্ত তা’ কোনো গোপন ব্যাপার নয়


নর্থ কোরিয়ান লীডার প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন এবং রাশিয়ান লীডার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে এটি প্রথম বৈঠক। এই বৈঠকে কিম মূলত: জাতিসংঘ কর্তৃক অর্থনৈতিক অবরোধের কারনে হামাগুঁড়ি দিয়ে চলা উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থার মুক্তির জন্য প্রেসিডেন্ট পুতিনের পরামর্শ প্রার্থী হয়েছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিম একটি পথ খুঁজে পেতে চাইছেন। নিরস্ত্রীকরনের বিপরীতে কিম হয়তো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে নিরাপত্তা-গ্যারান্টি চেয়েছেন। এই সহযোগিতা অবশ্যই কুটনৈতিক সহযোগিতা চেয়েছেন।

নেতৃদ্বয় বৈঠক শেষে আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে বলে বলেছেন। নর্থ কোরিয়ার নেতৃত্ব এখন নিউক্লিয়ার প্রগ্রামের ফলে যে অচলাবস্থার তৈরী হয়েছে তার অবসান চায়।

আলোচনা শেষে জনাব পুতিনের বক্তব্যে তা’-ই প্রমান করে। পুতিন বলেছেন যে পিয়ংইয়ং পারমানবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরনে প্রস্তুত; কিন্তু তারা বিপরীতে তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায়। পুতিন বলেছেন তিনি যা’ আলোচনা করেছেন তা’ কোনো গোপনীয় বিষয় নয় এবং তিনি আলোচনার পুরোটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শেয়ার করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

অপরদিকে কীমের মতে পুতিনের সাথে আলোচনা ছিলো অকপট এবং অর্থপূর্ণ।

বিভিন্ন আলোচনার ভেন্যুতে মি: পুতিন বিশ্ব নেতাদের বসিয়ে রেখে দেরীতে উপস্থিত হওয়ার রেকর্ড স্থাপন করলেও কিমের সাথে তাঁর এই প্রথম বৈঠকটিতে তিনি নির্ধারিত সময়ের আধা ঘন্টা পূর্বেই উপস্থিত ছিলেন। তখনও পর্যন্ত কিম ভেন্যুতে উপস্থিত ছিলেননা।

স্ব স্ব পতাকার সারির পেছনে দুই নেতা বসলেন এবং পুতিনই প্রথম শুরু করে বললেন যে তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক এই অন্চলের পরিস্থিতি বোঝার এবং সমাধানের জন্য সহযোগিতা করবে এবং একই সাথে ইউনাইটেড স্টেটস এর সাথে পারমানবিক নিরস্ত্রীকরন আলোচনার জট খুলতে আজকের আলোচনা রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা যে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অবরোধ সিঁথিল করার ব্যাপারে জনাব পুতিনের সাহায্য চাইবেন তা’ অনেকটাই প্রত্যাশিতো ছিলো। ২০১১ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে কিম কখনো মি: পুতিনের সাথে সাক্ষাত করেননি। মি: কিম একটি আর্টিলারী এবং মেশিনগান সজ্জিত রেলকারে বিশ ঘন্টার জার্নি করে রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তক নগরীতে পৌঁছান। আলোচনা সামনে রেখে রেলকার থেকে হাস্যজ্জ্বল কিম একটি লিমোজিন কারে বের হয়ে মি: পুতিনের সাথে ভাব বিনিময় করেন। দুই নেতা হ্যান্ডশেইক করেন এবং পারষ্পরিক কুশল বিনিময় শেষে পারষ্পরিক ডেলিগেটসদের সাথে পরিচিত হন এবং ভেতরে প্রবেশ করলেন।

কিম এবারে মি: পুতিনকে এতদাঞ্চলের নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনায় অনেকটা নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালনের জন্য সুযোগ দিলেন। মি: পুতিন এর পরের আলোচনায় ছ’টি দেশকে অন্তর্ভূক্তির ওপর জোর দিলেন। তিনি মনে করেন পরবর্তী আলোচনায় দুই কোরিয়া, রাশিয়া, চীন, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্ভূক্ত হলে তা’ যৌক্তিক ফলাফল বয়ে আনবে।

মি: পুতিন খোলা মনে নর্থ কোরিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে কুটনৈতিক বৈরিতা দূর করে একটি কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর কথা বললেন। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে চাইছে উত্তর কোরিয়া তাদের এ্যাটোমিক আর্সেনাল ধ্বংস করে আমেরিকার সাথে একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান তৈরী করুক এবং পুতিন সেক্ষেত্রে অনুঘটকের ভূমিকা পালনে সম্মত রয়েছেন।

পুতিন নর্থ কোরিয়ান লীডার কিম জং-উনকে তাঁর আন্তরিকতার জন্য স্বাগত জানিয়ে বলেন যেহেতু আপনার উদ্যাগ রয়েছে সেহেতু দুই কোরিয়া মধ্যে দ্বিপাক্ষিক এবং উত্তর কোরিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে আলোচনা সফল হবে। রাশিয়ার নেতা মি: পুতিন এ-ও বলেন যে ইতিবাচক কুটনৈতিক সম্পর্ক তৈরীর যে ট্রেন্ড চালু হয়েছে তা’ উন্মুক্ত রাখতে তাঁর সহযোগিতা থাকবে।

প্রায় এক বছর পূর্বে রাশিয়ান নেতা উত্তর কোরিয় নেতাকে বৈঠকে বসা আমন্ত্রণ জানালেও ট্রাম্প এবং তাঁর মধ্যকার দ্বিতীয় বৈঠকটি কোনো রকম চুক্তি ছাড়া শেষ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মি: কিম রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে সাড়া দেননি।

এই বৈঠকে রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি বা এরকম নয় যে মি: পুতিন জাতিসংঘ কর্তৃক আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধে এখনই কোনো শৈথিল্য প্রদর্শন করবেন।

এই আলোচনাটিকে বিশ্লেষকগন আমেরিকা-উত্তর কোরিয়া আলোচনার একটি পার্শ্ব বা সহায়ক আলোচনা হিসেবেই দেখছে।রাশিয়া মূলত: কুটনৈতিকভাবে উত্তর কোরিয়াকে সাহায্য করতে চায় এবং সবাইকে দেখাতে চায় সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর অনেক বিকল্প রয়েছে।

কিম অবশ্য রাশিয়ার সাথে বানিজ্যিক সম্পর্ক চায় যা’ রাশিয়া হয়তো অবরোধ অমান্য করে করবেনা। বরং অবরোধের অংশ হিসেবে এ বছরের শেষে উত্তর কোরিয়ার গেস্ট ওয়ার্কারদের রাশিয়ায় কাজের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। উত্তর কোরিয়ার হাজার হাজার ওয়ার্কার রাশিয়া এবং চায়নায় শারীরিক শ্রম দিয়ে বাৎসরিক ৫০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার উত্তর কোরিয়ায় পাঠিয়ে থাকে।

উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে তাদের অর্থনীতির অন্যতম সোর্স মনে করে। কিন্তু অর্থনৈতিক অবরোধের অংশ হিসেবে এ বছরের শেষ দিকে তা’-ও বন্ধ হয়ে যাবে।

কিমের সফর সংগীদের সফলতার দিকেও সকলের নজর রয়েছে। সম্প্রতি এই নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রের উচ্চতর প্রশাসনেও অনেক রদবদল হয়েছে। রাশিয়ায় সফরের পূর্বে তাঁর টীম মেম্বারদের মধ্যে তাঁর বোন ইউ-জং এবং অন্য একজন সিনিয়র অফিসিয়াল ইয়ং-চোল-কে দেখা গেলেও সফরকালীন সময়ে তেমন দৃশ্যমান ছিলেননা। অনেকে মনে করেন হ্যানয় বৈঠকের ব্যর্থতার কারনে তাঁদের গুরুত্ব কমে গেছে।
 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT