Main Menu

শ্রীলঙ্কায় ঘৃন্য বোমা হামলা মানবতার জন্য আরেকটি বিপর্যায়ের দিন

মোঃ শফিকুল আলম: শ্রীলঙ্কায় ঘৃন্য বোমা হামলা মানবতার জন্য আরেকটি বিপর্যায়ের দিন; কিন্তু এই হামলার ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো থথাযথ হবেনা


মাত্র পাঁচ সপ্তাহ পূর্বে নিউজিল্যান্ডে নীরিহ সাধারন প্রার্থনারত মানুষদের ওপর তাদের উপাসনালয়ে হামলা করে অর্ধশত মানুষকে শুধুমাত্র ধর্ম বিশ্বাসের কারনে হত্যা করলো। শোকের মাতম শেষ না হতেই ইস্টার সানডে-তে উপাসনালয়, হোটেলসহ বিভিন্ন পাবলিক স্কোয়ারে বোমা হামলা করে সর্বশেষ ২৯০ জন মানুষকে হত্যা করলো। এই হামলার দায় এখনও নিশ্চিত নয়; কিন্তু ঘৃনাপ্রসূত সেটা নিশ্চিত। সন্ত্রাস সব সময়ই রূঢ়তাপূর্ণ। নিউজিল্যান্ড-এ হত্যার শিকার হয়েছিলো মুসলমান এবং শ্রীলঙ্কায় হত্যার শিকার অধিকাংশই খ্রীষ্টান, অন্যান্য ধর্মের লোকও দু’একজন রয়েছে; কিন্তু সবাই মানুষ। উন্মত্ততার চেহারা সর্বত্র এক। এবারেও খ্রীষ্টান সম্প্রদায় তাদের উপাসনালয়ে প্রার্থনারত ছিলেন।

কারা এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করেছে তা’ এখনও সুনির্দিষ্ট নয় বা করা যায়নি। চট্ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো আরো বিপজ্জনক হতে পারে। দেশকে এ’ অবস্থায় শান্ত রাখতে শ্রীলঙ্কান সরকার সামাজিক মাধ্যমে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। অন্যথায় সামাজিক মাধ্যম নানান কাল্পনিক কাহিনীর অবতারনা করতে পারে।

তবে এটা নিশ্চিত যে হামলার মূল টার্গেট ছিলো খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ এবং যেসমস্ত হোটেলে সাধারনত: পশ্চিমা দেশের ট্যুরিস্টরা বেশী অবস্থান করে থাকে। আবার হামলারারীরা হয়তো মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরত যারা ইসলামিক স্টেটের পক্ষে লড়াই শেষে পরাজিত হওয়ার পর একই জেহাদী চেতনায় সমৃদ্ধ হয়ে আক্রমন বা হামলা পরিচালনা করে থাকতে পারে।

যদি তারা ইসলামিক স্টেটের পক্ষে যুদ্ধ ফেরত হয়ে থাকে তা’হলে হয়তো তারা তাদের নিজস্ব চারনভূমি মধ্যপ্রাচ্য থেকে নানান জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে এবং একই ধরনের হামলার আশংকা তখন বিশ্বব্যাপী রয়েছে। তাদের মনে রয়েছে পরাজয়ের প্রতিশোধ। পুরো বিশ্ব তা’হলে এই সন্ত্রাসীদের হামলার নেটওয়ার্কে থাকতে পারে।

অন্য দিকে শ্রীলঙ্কার করুন এবং জটিল রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। সুতরাং এটা যেকোনো সময়ের চেয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে অপেক্ষা করে, ভেবে-চিন্তে এবং সুনির্দিষ্ট প্রমান সাপেক্ষে হামলারারীদের চিহ্নিত করতে হবে। দেশটি ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধের ক্ষয়-ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলো। এই ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধ ছিলো দেশের সংখ্যাগরিস্ঠ সিংহলী বুদ্ধিস্ট এবং দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু তামিলদের মধ্যে। এই দীর্ঘ সময়ের গৃহযুদ্ধে অনুমিত হতের সংখ্যা ছিলো ১৫০,০০০।

দীর্ঘ ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সকল বিবদমান গ্রুপগুলো শ্রীলঙ্কার সাধারন মানুষের ওপর সন্ত্রাস করেছে। মূলত: তামিল বিদ্রোহীরা সেই সময়ে প্রথম ভয়াবহ এবং আতঙ্কজনক আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রবর্তন করেছিলো এবং সেই টেকনিক পরবর্তীতে ইসলামিক স্টেট টেরোরিস্টরা গ্রহণ করেছিলো। অপরদিকে শ্রীলঙ্কার সরকার বরাবরই বিশ্বের কাছে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত ছিলো। এই অভিযোগ গৃহযুদ্ধচলাকালীন এবং তৎপরবর্তী সময় পর্যন্ত বলবৎ ছিলো। এমনকি সম্প্রতি গত বছর সিংহলী বুদ্ধিস্টরা মুসলমান বিরোধী এক রায়ট উস্কে দিয়ে কেন্ডি শহরে দু’জন মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছিলো।

বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন শ্রীলঙ্কান জনগনের ১০% ভাগেরও কম মুসলমান তারা কোন্ যুক্তিতে তাদের থেকেও সংখ্যালঘু খ্রীস্টানদের সাথে কমিউনাল কনফ্লিকটে জড়াবে? কোনো যুক্তিতেই তারা এই সংখ্যালঘু শ্রেনীর সাথে কনফ্লিক্ট করে লাভবান হবেনা। অবশ্য এটাও সত্য যারা এধরনের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটায় তাদের ক্ষেত্রে এসব যুক্তির চিন্তা করা সব সময় উত্তর মেলায়না। সব বিবেচনায় শ্রীলংকার পরিস্থিতি সত্যিই জটিল।

শ্রীলঙ্কার বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ হত্যাকাণ্ডের নিন্দায় যতটা স্পষ্ট সহযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট ততটাই দ্বিধাগ্রস্ত। শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতিতে যদি এই হত্যাকাণ্ড কমিউনাল ভায়োলেন্স হয়ে থাকে তা’হলে শ্রীলঙ্কার সরকারের আক্রমনকারী কমিউনিটির ওপর নিষ্পেশনের নীতি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও শ্রীলঙ্কার সর্বোস্তরের জনগনকে টেরোরিস্টদের আক্রমন থেকে যৌক্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশ্বব্যাপী ট্যুরিস্টদের আকর্ষণ করে থাকে। সরকারের উচিত হবে সন্ত্রাসের ঘূর্নাবর্ত থেকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বের হয়ে আসা। শ্রীলঙ্কা সরকারের আরো উচিত হবে বিশ্বের কাছে একটি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরা যাতে শ্রীলঙ্কা সন্ত্রাসের পুরনো ইতিহাস থেকে বেড়িয়ে আসতে পারে।

শ্রীলঙ্কার সামনে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের লীডারশীপের উদাহরন যা’ তাদের নেতৃত্ব অনুসরন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে নেতৃত্বকে নিশ্চিত করতে হবে আধুনিক শ্রীলঙ্কায় সকল মানুষ ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে শ্রীলঙ্কান হিসেবে নিরাপদ এবং স্বাধীন। আমরা দেখেছি নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী কত দ্রুততম সময়ে হত্যাকারীকে শুধুমাত্র হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে দেশের সংবিধান অনুযায়ী সকল ধর্মালম্বীদের সুরক্ষায় নির্ভীক এবং দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহন করে ভিক্টমদের পাশে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি সামলেছিলেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কান নেতৃত্ব নিউজিল্যান্ড নেতৃত্বকে অনুসরন করবে বলেই সকলের প্রত্যাশা।
 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT