Main Menu

বিএনপি ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে যাবে - যাবেনা?

মোঃ শফিকুল আলম: বেশ কিছুদিন ধরে বিনা প্রশ্নেই সরকারের অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ বলে আসছেন খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি বলছে প্যারোলের আবেদন কে করলো যে তা’ বিবেচনা করার সুযোগ আছে বা নেই। সরকারের মধ্যে বেশ কিছু মন্ত্রী এবং নেতা রয়েছেন অতিকথনে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের প্রানান্ত চেষ্টা করে থাকেন। প্রায় সময়ই আবার প্রধানমন্ত্রী আলোচিত বিষয়টি যখন বাজারে প্রচলিত খবরকে বাস্তবে রূপ দেন তখন তারা সাময়িক লজ্জিত হয়ে চুপ থাকেন। আমরা নির্বাচনের পূর্বে শুনলাম ঐক্যফ্রন্টের সাথে সংলাপের প্রশ্নই ওঠেনা এমন কঠিন কথা বললেন দলের সাধারন সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের। সন্ধ্যা বেলায় আবার তিনিই ঘোষনা করলেন প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের সাথে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে তাঁর স্তাবক মন্ত্রী এবং নেতাদের শিক্ষা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ফলাফল অনেকটাই শূন্য। ওদের স্তাবকতা থামানো যায়নি।

 

সরকার এবং বিএনপির মধ্যে যে একটা সমঝোতার চেষ্টা হচ্ছে তা’ সফল হোক বা না হোক এটাই সত্য। এই প্রক্রিয়া সরকারের আহম্মক মন্ত্রীগন বুঝতে না পারলেও সাধারন মানুষ ইতোমধ্যে অনেকটা বুঝে ফেলেছে। হতে পারে ৩০ তারিখের মধ্যে বেগম জিয়া আদালতে জামিন পাওয়ার মাধ্যমে মুক্তি পেতে পারেন। হতে পারে চিকিৎসার প্রয়োজনে সরকার তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে অনির্দির্ষ্টকালের জন্য বিদেশ পাঠাতে পারেন। সরকার হয়তো দ্বিতীয়টি চাইছেন। অপরপক্ষে বেগম জিয়া এবং বিএনপি প্রথমটি চাইছেন। সরকার অনড় থাকলে দ্বিতীয় পদ্ধতিতে উভয় পক্ষ একমত হতে পারেন। অত:পর সংসদে আন্দলনের অংশ হিসেবে ঐক্যফ্রন্ট সদস্যদের যোগদান হতে পারে। আবার সমঝোতায় না পৌঁছাতে পারলে এর কোনোটিই হবেনা।

 

তবে দেশ, জাতি এবং রাজনীতিবিদদের স্বার্থ সংরক্ষণে সমঝোতায় পৌঁছানো জরুরী। অতীতের যেকোনো সরকারের (সামরিক সরকারগুলোসহ) চেয়ে আওয়ামীলীগ এখন দল এবং সরকার হিসেবে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী। আহাম্মক মন্ত্রী এবং অন্ধ আওয়ামীলীগ কর্মীরা প্রশ্ন করতে পারেন তা’হলে কোন্ দু:খে আওয়ামীলীগ সরকার একটি ক্ষয়িষ্নু বিরোধী পক্ষের সাথে সমঝোতা করবে? ৩০ তারিখের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ তাদের জনপ্রিয়তা পরিমাপ করার সুযোগ পায়নি। পায়নি ২০১৪ সালেও। ২০১৮ সালে এসে বরং আওয়ামীলীগ আতংকগ্রস্ত হয়ে নিশ্চিত আসনগুলোতেও পূর্ব রাতে বাক্স ভর্তি করে বিজয় নিশ্চিত করেছে। এই নির্বাচন সকলের কাছে ওপেন সেক্রেট। নতুন করে বিতর্ক তৈরী করা ঠিক হবেনা।

 

আমি শুধু কি কারনে এতো ক্ষমতাধর সরকারকে একটি দূর্বল প্রতিপক্ষের সাথে সমঝোতা করা উচিত সে বিষয়ে বলতে চাই। বাংলাদেশে প্রথম আওয়ামীলীগ সরকার তথা বঙ্গবন্ধু সরকারের পাহাড় প্রমান জনপ্রিয়তা ছিলো। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে গঠিত সংসদে বিরোধী দল তৈরী হয়নি। দু’বছরের ব্যবধানে ১৯৭৫ সালে ক্ষমতার পরিবর্তনে বিরোধী রাজনৈতিক দলের ভূমিকা ছিলো সামান্য। যদিও অনেকে অনেক বিশ্লেষণ করেছেন এবং আরো করবেন। ক্ষমতার পরিবর্তন এবং ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিলো আওয়ামীলীগের ভেতর থেকে এবং সম্ভব হয়েছিলো সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণে। বিএনপি বা জেনারেল জিয়াউর রহমানের সরকারেরও পরিবর্তন কোনো রাজনৈতিক আন্দলনে হয়নি। অভ্যন্তরীণ এবং সামরিক বাহিনীর হস্তেক্ষেপে হয়েছে। এরশাদ বিরোধী আন্দলন ছিলো তীব্রতর এবং শুরু থেকে শেষাবধি। তারপরও যতক্ষণ পর্যন্ত না সামরিক বাহিনীর বন্ধন সিঁথিল হয়েছে ততক্ষণ পর্যন্ত এরশাদ বহাল তবিয়তে ক্ষমতায় ছিলো। সুতরাং শুধুমাত্র বিরোধী পক্ষের আন্দলনে বাংলাদেশে কোনো সরকারের পরিবর্তন হয়নি।

 

বিরোধী দল বা সরাসরি বিএনপির সাথে কেনো সমঝোতা প্রয়োজন? দীর্ঘদিন একটি প্রবল ক্ষমতাধর সরকার এবং যদি বিরোধীহীন একচেটিয়া হয়ে থাকে তার ক্ষমতা এবং তার অপব্যবহারের বলয় তৃণমূল পর্যন্ত দিনে দিনে গ্রোথিত হয়। সামান্যতম বিরোধীতার সম্মুখীন না হওয়াতে গ্রামান্তর পর্যন্ত সরকার সমর্থকরা মহাস্বৈরাচারী ভূমিকায় অবতীর্ন হয়। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তৈরী হয় মাদক সম্রাট বদি, ধর্ষক সিরাজুদ্দৌলা, পুঁজিবাজার লুন্ঠনকারী, ব্যাংক লুন্ঠনকারী, মোসাহেব অসি মোয়াজ্জেম, এসপি, ডিসি এবং সচিব যারা আবার ভোট কেটে বিজয়ের পরিবেশ তৈরী করে প্রকারান্তরে সরকারকে অসহায় করে তোলে এবং এক পর্যায়ে নিজেদের চামড়া বাঁচাতে সরকারকে ফেলে দেয়। তখন এই শক্তির বলে বলিয়ান হয়ে আজকের আপাত: নি:শেষ হওয়া বিরোধী দল আবার বিপুল সংখ্যক আসনে বিজয়ী হয়ে বিজিত শক্তির ওপর একই চিরচেনা পদ্ধতির ব্যবহার করে পতিত সরকারের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে যায়। সরকারে আসা রাজনৈতিক দল টেরও পাবেনা কখন কি ঘটছে। পুরনো পাকা খেলোয়ারগনই এই নিধন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে থাকে।

 

সে কারনেই দেশে একটি সুষ্ঠু রাজনৈতিক ধারা প্রবর্তন জরুরী এবং আবশ্যক। বিএনপির সাথে সমঝোতা করা উচিত। আইনকে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিয়ে বেগম জিয়াকে জামিনে মুক্তি দেয়া হোক। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের স্বাভাবিক রাজনীতি চর্চা করার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সদস্যদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে নিয়ে আসা হোক। ধর্ষক, দুর্নীতিবাজ, বাংকলুটেরারা, শেয়ার মার্কেট ম্যানুপুলেটাররা যখন আইনের আওতায় আসেনা তখন খালেদার জিয়ার শাস্তি যতটাই আইন সংগত হোক সাধারনে বিশ্বাসযোগ্য হয়না এবং হবেওনা। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হলে ভবিষ্যতে কারো জন্য রাজনীতি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করবেনা।

 

অনেকেই (সরকার সমর্থক) বলছেন দেশে ফ্রি মিডিয়ার কারনে ধর্ষনের খবর বেশী প্রকাশিত হচ্ছে। এর আগেও দেশে ব্যাপক ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে; কিন্ত সেই হারে প্রকাশিত হয়নি। এ কথা বলে পার পাওয়া যাবেনা। ধর্ষন হচ্ছে এবং ভিক্টিম আইনের আওতায় আসছেনা এটাই সত্য। সংখ্যায় আগের মতোই বা কম তাতে কিছু যায় আসেনা। আগের সরকারের ব্যর্থতা ছিলো বলেই তো আপনারা ক্ষমতায়। আপনারা এসব বন্ধ করবেন বলেইতো বিশ্বাস করে জনগন ২০০৮ এ আপনাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। কথায় কথায় যদি আপনারা বলেন বিএনপির সময় আমাদের ওপর অত্যাচার হয়েছিলো। অতীব সত্য কথন। তার অর্থ কি সেই অন্যায় কাজটি আপনারাও করবেন? ধর্ষন, ক্ষমতার অপব্যবহার ক্ষমতার বলয়েই সব সময় সংঘটিত হয়। এখনও তাই হচ্ছে। তা’হলে কোন্ কারনে আপনাদেরকে ক্ষমতায় রাখবে জনগন? সরকারে থাকলে উন্নয়ন করতে হবে। তার চেয়েও বেশী হচ্ছে জনগনকে নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়টির ওপর গুরাত্বরোপ করাই পূণরায় সরকারে আসা নিশ্চিত করতে পারে। অন্যথায় রাতের পন্থা অবলম্বন করতে হবে। কিন্তু সেটা সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে।

 

সুবিধাবাদীরা কিভাবে ক্ষমতার বলয়ে ঢুকে যায় এবং সুবিধা গ্রহন করে তার নানান উদাহরন তৈরী হয়ে আছে। আওয়ামীলীগের নিবেদিত প্রাণ কর্মীরা অধিকাংশ সুবিধা বন্চিত। অসুস্থ হয়ে বিনা চিকিৎসায় অনেকেই মৃত্যুর দিন গুনছে। কোনো ক্ষেত্রে অপ্রতুল সাহায্যের চেক হস্তান্তরের দৃশ্য মন্চায়িত হয়। অপর পক্ষে আহাম্মেদ শরীফরা এলাকা বা পারিবারিক সম্পর্কের কারনে (কুষ্টিয়ায় বাড়ী হওয়ার কারনে কুষ্টিয়ার এক বড় নেতার আনুকূল্যে) ৩৫,০০,০০০ টাকার চেক পায়। এটি প্রকাশিত ঘটনার একটি মাত্র। ঘটনা ঘটছে শ’য়ে শ’য়ে। ক্ষুব্ধ করছে নিবেদিত প্রাণ কর্মীদেরকে। বিএনপির কর্মীরা যেমন রাস্তায় নামছেনা আগামীতে একইভাবে আওয়ামীলীগ কর্মীরাও মাঠে নামবেনা। রাস্তায় শুয়ে আর পুলিশের নির্যাতন ভোগ করবেনা। এখনও সময় আছে ওভার অল রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন। নিজেদের দলের মধ্যে এবং একই সাথে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরেও।

 

রাজনীতিবিদদের সাথে নমোনীয় আচরন প্রত্যাশিত। সমঝোতা গনতন্ত্রের অন্যতম নীতি। আইনের শাসন সবাইকে সুরক্ষা দেয়। সকলের সময় থাকতে সুমতি হোক।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT