Main Menu

আগেরবার এরশাদকে এবার মমতা

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য রংপুর কেন্দ্রে ভোট দিয়ে জিতিয়েছিলেন তিনি। আর বৃহস্পতিবার কোচবিহারের মধ্যমশালডাঙা বুথে ভোট দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ভোটাভুটিতে। আগামী পাঁচ বছর কোনো দল ভারতের ক্ষমতায় থাকবে তাও ঠিক হওয়ার ভোটে অংশ নিলেন তিনি। দুই দেশের দুই ভোটে অংশ নিতে পেরে বেশ গর্বিতও।

মহম্মদ বেল্লাল হোসেন। বয়স ৬২। পেশা কৃষিকাজ। একসময় বাংলাদেশের রংপুরের ছিটমহলের বাসিন্দা ছিলেন। মোদি, হাসিনা, মমতা মিলে ছিটমহল বিনিময়ের পর এখন পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার দিনহাটার মধ্যমশালডাঙার বাসিন্দা। ভারতের নাগরিক বেল্লাল জানালেন, ‘১৯৮৬ সালে আমরা তখন বাংলাদেশের মধ্যে। নির্বাচনের আগে একটা ভোটার কার্ড পাই।’

তারপর নির্দ্বিধায় জানালেন, ‘এরশাদের জাতীয় পার্টিকে ভোট দিয়েছিলাম সেবার। আর এবার ভোট দিলাম মমতার পার্টিকে। কারণ, ওরাই ঘর করে দিচ্ছে, দু’টাকা কিলো চাল, আটা সবই দিচ্ছে।’ ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা, মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকপঞ্জি আইনে দেশ থেকে বের করে দেয়ার কথা বলা বিজেপির বিরুদ্ধে বেল্লালের গলায় কিছুটা ঘৃণা ঝরে পড়ে।

২০১৫ সালের ৩১ জুলাই ঠিক মধ্যরাতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হয়। আর ২০১৬ সালে কোচবিহার লোকসভা উপ-নির্বাচনে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন বেল্লাল। তবে ২০১৯-এর সাধারণ সংসদীয় নির্বাচনে এই প্রথম ভোট দেয়া নিয়ে সকাল থেকেই ছিলেন অনেকটা উত্তেজিত। স্ত্রী খালিদা বেগমও স্বামীর সঙ্গে ভোট দিতে পেরে খুশি।

কোচবিহারে ছিটমহল আন্দোলনের প্রবীণ পুরুষ আসগর আলি সম্প্রতি মারা গেছেন। তিনি ছিলেন ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির অন্যতম নেতা। তার নাতি জয়নাল আবেদিন। তার বক্তব্য, ‘ভারতে আসার পর অনেক কিছু যেমন পেয়েছি, তেমন আরও অনেক পাওনা আছে। তবে এবার ভোট দিতে পেরে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার একধাপ পেরুলাম।’

বেল্লালের মতো খোলাখুলি না বললেও জয়নালের চোখে-মুখেও ধর্মীয় রাজনীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ। বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও ও রংপুর জেলা লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে ভোট ছিল এদিন। সকাল থেকে দলে দলে মানুষ বুথমুখী হচ্ছেন। লম্বা লাইন। বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তি ছাড়া বৃহস্পতিবার রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার নির্যাস বলতে, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার কেন্দ্রের ভোটপর্বকে শান্তিপূর্ণই বলা চলে। প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে দুই কেন্দ্রে। পশ্চিমবঙ্গের দুই কেন্দ্রের প্রায় ৩৯ লাখ ভোটদাতা এদিন গণতন্ত্রের বৃহত্তম উৎসবে অংশ নেন।

ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময়ের পর কোচবিহারে ৪৭টি ছিট এসেছে। জনসংখ্যা ১৭ হাজারের মতো। তার মধ্যে ১৪ হাজারের মতো ভোটার রয়েছেন। দিনহাটা বিধানসভার মোট ভোটার সংখ্যার অনুপাতে ৭ শতাংশ ভোট ছিটমহলের, যা একটু এদিক-ওদিক হলে প্রার্থীর ভোটভাগ্য বদলে দিতে পারে। সেকারণে ছিটের প্রতি বাড়তি নজর রয়েছে সব দলেরই।

কোচবিহার শহর ছাড়িয়ে দিনহাটা যেতে যদি সবুজ বাংলার রূপ দেখতে গ্রামের মধ্যে দিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে ৬০ কিমি. রাস্তা অতিক্রম করতে হবে নিকটতম ছিটমহলে পৌঁছতে। গত কয়েক বছরে রাস্তাঘাটের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। মসৃণ পাকা রাস্তা তৈরি হয়েছে তোর্সা নদীর বাঁধের ওপর দিয়ে। নদীর অর্ধেক জুড়ে এখন চরা। নৌকা মাছ ধরতে মাঝনদীতে নোঙর করেছে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT