Main Menu

ভয়াবহ মানবপাচার এবং একজন ‘পোয়া মাঝি’

বাংলাদেশ হচ্ছে মানবপাচারের এক উৎসস্থল। এখানকার নারী-পুরুষ-শিশু পাচার হচ্ছে অনেকটা প্রকাশ্যে। পাচার হওয়া এসব মানুষ বাধ্য হচ্ছে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রম দিতে কিংবা পতিতালয়ে কাজ করতে। বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া উল্লখযোগ্যসংখ্যক পুরুষকে রিক্রুট করা হয় বিদেশে শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগানোর কথা বলে। ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে তাদের প্রলুব্ধ করা হয়। পাচার করার পর তাদের লাগানো হয় বাধ্যতামূলক শ্রমবিক্রির কাজে কিংবা অনেককে করা হয় পণবন্দী। অনেককে অজানা স্থানে রেখে তাদের স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অনেকে মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পায়, আবার কেউ মুক্তপণ দিয়েও মুক্তি পায় না। মেয়েশিশু কিংবা বালক শিশু উভয়কেই পাচার করা হয় বাণিজ্যিকভাবে চালু পতিতালয়ে অবৈধ যৌনকর্মী হিসেবে ব্যবহারের জন্য কিংবা এদের ভিন্নভাবে যৌন শোষণের শিকার করা হয়। অনেক শিশুকে আবার দারিদ্র্যপীড়িত মা-বাবাই বিক্রি করে দেয় এসব পাচারকারীর কাছে। বাংলাদেশের নারী-শিশুরা আবার পাচার হয় পাশের দেশ ভারতেও। উদ্দেশ্য একই।

বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া মানুষের দুর্ভোগের কাহিনী মাঝে মধ্যেই আমাদের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরা যে অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকারে পরিণত হয়, এসব প্রতিবেদন থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়। পাচার হওয়ার পরই বিদেশীদের হাতে শুধু নানা দুর্ভোগের শিকার হয় তা নয়, পথিমধ্যেই পাচারকারী চক্রের লোকজনের হাতে এরা নানা অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর মতে- বেগম নামের ৫০ বছর বয়সী এক নারী ছোট নৌকায় করে আন্তর্জাতিক পানিসীমায় অপেক্ষমাণ মালয়েশিয়াগামী জাহাজে চড়েই দেখতে পান পাচারকারীরা নারীদের ধর্ষণ করছে। তিনি অন্তত দুইজন নারীকে ধর্ষণের শিকার হতে দেখেছেন। রহিম নামের ২৭ বছরের এক ব্যক্তি মানবাধিকার সংগঠন ফর্টিফাই রাইটসকে জানান, তিনিও জাহাজে নারীদের ধর্ষিত হতে দেখেছেন। তিনি বলেন, মেনে নেয়া ছাড়া এসব নারীর আর কিছুই করার ছিল না।

প্রতিবেদন মতে- মালয়েশিয়াগামী নৌকায় ওঠার সময় হাতে সাদা ব্যান্ড পরার কারণ বুঝতে অসুবিধা হয়নি ইউনুসের। নৌকা ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই দালাল এসে জানায়, সে ইউনুসকে কিনে নিয়েছে। এর পরপরই ইউনুসের সব কিছু কেড়ে নেয় সে। ১৭ বছর বয়সী কিশোর আবদুল তার জবানবন্দীতে বলে, পাচারকারীরা তাদের নৌকার ছয়জনকে মেরে ফেলার পর উপায়ান্তর না দেখে অনেকে সাগরে ঝাঁপ দেয়। নৌকার পাটাতনের নিচে বেশ কয়েক দিন অবস্থান ও দুঃসহ গরম সহ্য করতে না পেরে তার সহযাত্রী অন্তত ২৫ জন সাগরে ঝাঁপ দেয়।

এ দিকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে বঙ্গোপসাগর দিয়ে মানবপাচার বিষয়ে গত ২৭ মার্চ কুয়ালালামপুরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়- সরাসরি মালয়েশিয়া যাওয়া যাবে, এমন বিশ্বাস নিয়ে ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে কমপক্ষে ১০ হাজার বাংলাদেশী নৌকায় চড়েছিল। মানবপাচারকারী চক্র তাদের নিরাপত্তা ও আকর্ষণীয় চাকরির কথা বলেছিল। কিন্তু তাদের মালয়েশিয়া না পাঠিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। অবর্ণনীয় নির্যাতন-নিপীড়নে তাদের অনেকের মৃত্যু হয়। যারা প্রাণে বেঁচে কোনো মতে থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়া পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছে, তাদেরও মুক্তি মেলেনি। জল থেকে ডাঙায় ওঠার পর শুরু হয় নতুনমাত্রায় বীভৎস নির্যাতন-নিপীড়ন।

নুর ওয়াই নামের এক রেহিঙ্গা নারী জানান, মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে তাকে থাইল্যান্ডে আনা হয়েছিল। ফাতিমা নামের এক নারী মিয়ানমার থেকে তার স্বামী ও এক বছর বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে পাচারকারীদের নৌকায় চড়েছিলেন। তার নৌকায় বেশির ভাগই ছিল রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী। তিনি আরো জানান, ১৯ দিন সাগরে কাটানোর সময় তিনি ও তার সহযাত্রীদের নিয়মিত মারধরের শিকার হতে দেখেছেন। পিটুনিতে তার পাঁচ সহযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আর তিনজন সাগরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তাদের দুইজনকে উদ্ধার করা গেলেও একজনের কোনো খোঁজ মেলেনি।

মংডু থেকে থাইল্যান্ড যাওয়া আরেক রোহিঙ্গা নারী জানান, আট দিনের যাত্রায় তাদের কোনো খাবার ও পানি দেয়া হয়নি। লোকজন ক্ষুধায় প্রায় পাগলের মতো আচরণ করছিল। এরা যাতে সাগরে ঝাঁপ দিতে না পারে সেজন্য দালালরা তাদের হাত-পা একসাথে বেঁধে রাখে। ইসমাইল নামের একজন জানান, খাবার ও পানি চাইলে বার্মিজ নিরাপত্তারক্ষীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠত। নির্মমভাবে পিটিয়ে তাদের মুখে পেশাব করে দিত। পেটানোর জন্য ব্যবহার করা হতো রড ও চাবুকের মতো রশি। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, তাদের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে নৌকার এক কোনায় ডেকে নিয়ে ধাক্কা দিয়ে সাগরে ফেলে দেয়া হতো।

মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যে রোহিঙ্গা যুবক জামাল জানান, ডাঙায় পৌঁছানোর পর প্রতিদিন তাদের সংখ্যা গণনা করা হতো। আবদুর রহমান নামের এক যুবক জানান, পাচারকারীরা তাকে গাড়িতে করে মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। এরপরই তার কাছে টাকা দাবি করে পেটাতে শুরু করে। আবদুল হান্নান নামের এক ব্যক্তি জানান, তার স্বজনেরা মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংকে পাচারকারীদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেয়ার পর তিনি মুক্তি পান। পাচারকারীদের কথামতো না চললে বন্দিশিবিরে উলঙ্গ করে রাখা হতো। থাইল্যান্ডের পাচারকারীরা নারীদের বিক্রি করার জন্য স্থানীয়দের সাথে দরকষাকষি করে।

পাচারকারীদের নির্যাতনের পর প্রাণে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা মালয়েশিয়ার মানবাধিকার কমিশন ও বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা ফর্টিফাই রাইটসকে জানিয়েছে, পাচারকারী নৌকাগুলো পরিচালনার দায়িত্বে ছিল মূলত বার্মিজ, রোহিঙ্গা, রাখাইন, থাই ও মালয়রা। থাইল্যান্ডের ফৌজদারি আদালতও রোহিঙ্গাদের পাচারকারী হিসেবে থাই, মিয়ানমার ও বাংলাদেশী কয়েকজন নাগরিককে চিহ্নিত করেছেন। তবে মালয়েশিয়ার মানবাধিকার কমিশন ও ফর্টিফাই রাইটসের প্রতিবেদনে তাদের কথা বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। মানবপাচারের ভয়ঙ্কর তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর ২০১৫ সালের মে মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলো তাদের ভূখণ্ডে পাচারকারী চক্রগুলোর নৌকা ভিড়তে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। সে সময় পাচারকারীরা তাদের নৌকায় পাঁচ-ছয় হাজার ব্যক্তিকে রেখে অন্যত্র চলে যায়।

২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে সাগরপথে পাচার হওয়া ব্যক্তিরা মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ এনেছে মালয়েশিয়ার মানবাধিকার কমিশন ও বেসরকারি সংস্থা ফর্টিফাই রাইটস। গত ২৭ মার্চে প্রকাশিত তাদের যৌথ প্রতিবেদনে তথ্য-উপাত্ত ও আইনি বিশ্লেষণ করে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে। তারা দাবি করেছে, বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের জ্ঞাতসারে আক্রমণ বা হামলার অংশ হিসেবে পাচার হওয়া ব্যক্তিরা হত্যা, বিনাশ, জোর করে দাসে পরিণত করা, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, নির্যাতন-ধর্ষণ ও যৌনদাসী হওয়ার শিকারে পরিণত হয়েছে। তবে মালয়েশিয়া সরকার ওয়াং কেলিয়ানের গণকবরের তদন্তের বিষয়টি দৃশ্যত গুরুত্বের সাথে নেয়ায় ওই দেশটির মানবাধিকার কমিশন ও ফর্র্টিফাই রাইটস মানবাধিকার অপরাধগুলোর তদন্তভার আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতকে দেয়ার সুপারিশ থেকে বিরত রয়েছে। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদন্ত না করলে তারা ভবিষ্যতে এমন সুপারিশ করবে।

বাংলাদেশ থেকে মানবপাচারের বিষয়টি একটি বহুল আলোচিত বিষয়। এ নিয়ে আলোচনা চলছে দীর্ঘ দিন ধরে। সরকার ও সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর পক্ষ থেকে এর অবসানে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা মাঝে মধ্যেই উচ্চারিত হয়। প্রায়ই গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় কিছু মানবপাচারকারীকে হাতেনাতে ধরার ব্যাপারে। এ সম্পর্কে বহু মামলা দায়েরের ঘটনাও ঘটে। কিন্তু মামলা দায়েরের পর এগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি সবার প্রত্যাশা হলেও, তা বাস্তবে ঘটে না। ফলে এ ধরনের শত শত মামলা বিচারাধীন অবস্থায় পড়ে থাকে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদ মামলার বিবরণী তালিকায় মানবপাচার-সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪০১। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, মানবপাচার নিয়ে ২০১২ সালের গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে গত আট বছরে একটি মামলারও নিষ্পত্তি হয়নি।

অথচ জামিনে গিয়ে পাচারকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা আবার ফিরে গেছে তাদের পুরনো পাচারের কাজে। খবরে প্রকাশ, কক্সবাজারসহ দেশের অন্যান্য এলাকার সঙ্ঘবদ্ধ পাচারকারীরা রোহিঙ্গা শিবিরের পাচারকারীদের সাথে সিন্ডিকেট করে উপকূলীয় ও সীমান্ত এলাকায় মানবপাচারের রমরমা পাচারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গত আট বছরে এই ট্রাইব্যুনালে মানবপাচারের একটি মামলারও নিষ্পত্তি না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চয়ই বিস্ময়কর। এতে মনে হয়, এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধকে আমরা গুরুত্বের সাথে আমলে নিচ্ছি না। নয়তো আমরা উপলব্ধি করতে পারছি না, এ ধরনের পাচারের শিকার নারী-পুরুষের আর্তনাদ কতটা মর্মান্তিক। তা ছাড়া, মানবপাচারের শিকার লোকের স্বজনদের আর্তনাদও আমাদের কানে পৌঁছে না।

অথচ গত সপ্তাহেও একটি জাতীয় দৈনিকে মানবপাচারের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা পাঠে যেকোনো মানুষ উদ্বিগ্ন হবেন। এ পত্রিকাটি পরের দিনে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে জানায়, জনৈক পোয়া মাঝি একাই পাচার করেছে ৩০ হাজার মানুষ। প্রতিবেদন মতে, জোর করে পাচারের শিকার লোকজনকে তুলে দেয়া হতো পাচারকারীদের জাহাজে। দেশের শেষ সীমানা সেন্টমার্টিন দ্বীপের কাছে সাগরের বুকে নোঙর করা থাকত বড় বড় জাহাজ। গভীর সাগরে সেসব জাহাজে তীর থেকে মানুষ তুলে দেয়া হতো ইঞ্জিনচালিত নৌকা বোঝাই করে। কার আগে কে কতজন তুলে দিতে পারে, এমনই প্রতিযোগিতা হতো পাচারকারী সিন্ডিকেটের মধ্যে। কারণ, মাথা গুনে পাচারকারীদের নগদ টাকা দেয়া হতো। মানবপাচারের হিড়িক পড়ার সময় ছিল ২০১২-১৩ সাল।

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সেনা আলী জানিয়েছেন, মানবপাচারের গডফাদার পোয়া মাঝির সিন্ডিকেটই সে সময়ে কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ পাচার করেছে। এখনো শুধু টেকনাফের সাবরং ইউনিয়নেই রয়েছে অর্ধশতাধিক মানবপাচারকারী। এরা সব সময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল মানবপাচারকারীরা। শাহপীর দ্বীপঘাট দিয়ে কয়েক সপ্তাহ আগে বেশ কয়েকটি চালান মালয়েশিয়া গেছে। পাচারকারীদের নতুন সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তবে র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের তৎপরতায় পাচারকারীরা সাময়িক পিছুটান দিয়েছে।

খবরে প্রকাশ, শাহপীর বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী আবুল হাশিম ওরফে পোয়া মাঝি সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পাচারকারী হিসেবে পরিচিত। সাগরতীরের দ্বীপ ডাঙরপাড়া গ্রামে তার বাড়ি। শুরুতে তার ছিল দু’টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা। ওই দু’টি নৌকা নিয়েই শুরু হয় তার মানবপাচার। পরে মানবপাচারের জন্য কয়েকটি মাছ ধরার নৌকা কিনে পোয়া মাঝি। একই এলাকায় তার রয়েছে বেশ কয়েকজন সহযোগী। মানবপাচার করে এরা এখন অঢেল সম্পদের মালিক। পোয়া মাঝি সাবরং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসংলগ্ন জায়গা কিনে পাকা বাড়ি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে ৯টি পাচারের মামলা রয়েছে। সবগুলোতে জামিন পেয়ে আবার মানবপাচারে জড়িয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য মতে, পোয়া মাঝির সিন্ডিকেটের লোকজনের ভয়ে নৌঘাট এলাকায় সাধারণ লোকজনও যাতায়াত করত না। সিন্ডিকেটের লোকজন যাকেই পেত, তাকেই ধরে তুলে দিত জাহাজে। এমনকি সে সময় একটি বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানির দুই টেকনিশিয়ানকে পর্যন্ত ধরে মালয়েশিয়াগামী নৌকায় তুলে দিয়েছিল পোয়া মাঝির লোকজন। পড়ে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে গভীর সাগরের জাহাজ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

শোনা যায়, এসব পাচারকারীরা মাছের মতো মানুষ বিক্রি করছে, আদায় করছে মুক্তিপণ। অনেককে ঠেলে দিয়েছে মৃত্যুর দিকে। অনেকে হচ্ছেন যৌনদাসী কিংবা বিক্রি হচ্ছেন পতিতালয়ে। কেউ বাধ্য হচ্ছেন শ্রম দিতে। খেয়ে না খেয়ে শ্রম দিতে হচ্ছে। হতে হচ্ছে চরম নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার। কেউ চলে যাচ্ছেন গণকবরে। আর এদের দুর্ভোগের পথটি করে দিচ্ছে এই পোয়া মাঝি ও তার সহযোগীরা। অবাক করা ব্যাপার, এখনো পোয়া মাঝিরা সমাজে ঘুরে বেড়ায় আমাদের চোখের সামনে দিয়ে। তাদের আমরা শাস্তির মুখোমুখি করতে পারিনি। গোটা জাতি যেন আজ অসহায় এসব পোয়া মাঝির কাছে। ভাবতেও অবাক লাগে, এদের কাছে আমরা আজ জিম্মি। এ লজ্জা রাখি কোথায়?


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT