Main Menu

পৃথিবী গোলাকার এই ধারনায় বিশ্বস্ত লোকজন মূলত: ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিক

মোঃ শফিকুল আলম: যারা বিশ্বাস করেন পৃথিবী সমতল (flat), গোলাকার (spherical) নয় এবং বিজ্ঞান ভুল; তারা এ্যান্টার্কটিকা অভিমুখে জাহাজযোগে অভিযাত্রা করে পৃথিবীর শেষ প্রান্তে পৌঁছে প্রমান করতে চান পৃথিবী গোলাকার এই ধারনায় বিশ্বস্ত লোকজন মূলত: ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিক

পৃথিবীর অন্যতম বিতর্কিত ইউটিউবার লোগান পল সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তিনি পৃথিবীর শেষ প্রান্ত অভিমুখে যাত্রা শুরু করবেন। তিনি এ বিষয়ে একটা ডকুমেন্টারী তৈরী করেছেন যার নাম হচ্ছে ‘The Flat Earth: to the Edge and Back.’ সম্প্রতি তিনি ডেনভারে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিখ্যাত বিশ্বাসী (believer) রবি ডেভিডসনের সাথে এ বিষয়ে অনেক্ষণ আলোচনা করেছেন। এবং তারপর মি: পল ফোর্বসকে এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, “আমি নিজেকে একজন খাঁটি বিশ্বাসী বলে মনে করি এবং নিজেকে অজ্ঞ হতে বা ভাবতে ঘৃনা করি।”

 

তিনি আরো বলেন, “আমি আমার নিজেকে খোলা মনে অন্বেষণ করতে ভালোবাসি। আমি জানি সমতল পৃথিবীর সমর্থক হিসেবে এটি গ্লানিকর হবে যদি না আমি প্রকৃতপক্ষে প্রমান করতে পারি এবং আমি তা’ করতে চাই।”

 

সমতল পৃথিবীর সমর্থক জে ডেকাসবি বলেন পৃথিবীর প্রথম দিকে নাবিকেরা প্রমান করতে সমর্থ্য হয়েছিলো যে পৃথিবী সমতল যখন তাদের এ্যান্টার্কটিকা অভিযাত্রা ইউএন কর্তৃক নিষিদ্ধ ছিলোনা। ইউএন ‘The Antarctic Treaty’ এর মাধ্যমে স্বাধীন এবং ব্যক্তিগতভাবে এ্যান্টার্কটিকা অভিযাত্রা বেআইনী ঘোষনা করেছে।

 

সমতল পৃথিবী তত্ত্ব (Flat Earth Theory) কি? সমতল পৃথিবী তত্ত্ব একটি সেকেলে (archaic) ধারনা যেখানে মনে করা হয় পৃথিবী সমতল এবং একটি চাকতির মতো মসৃন। এটি একটি প্রাচীন বিশ্বাস বা ধারনা। প্রাচীন সংস্কৃতি থেকে এই ধারনার উৎপত্তি বিশেষ করে রোমান সংস্কৃতিতে এই ধারনা প্রবল ছিলো। এই ধারনা শাস্ত্রীয় সময়কাল (classical period) পর্যন্ত বলবৎ ছিলো। তবে খ্রীষ্টপূর্ব ৩৩০ পর্যন্ত এ্যারিস্টেটল কর্তৃক এই তত্ত্ব ভুল প্রমানিত না হওয়ায় সাধারনভাবে এই তত্ত্ব গ্রহনযোগ্য ছিলো। পৃথিবী গোলাকার (spherical) এই তত্ত্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে পীথাগোরাস বলেন। কিন্তু সমাজের কিছু লোক এখনো মনে করেন পৃথিবী সমতল (flat) এবং তাদের ফ্লাট আর্থ সোসাইটিও রয়েছে। আধুনিক ফ্লাট আর্থ তাত্ত্বিকরা অবশ্য মনে করেন পৃথিবী সমতল কিন্তু পন্চভূজাকৃতির এবং চারিপাশে পাহাড়-পর্বত এবং বরফের দেয়ালে ঘেরা। তাদের মতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো পৃথিবী গোলাকার তত্ত্বের ধারক এবং এটি মিথ্যা এবং তারা এটাকে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

 

কিছু কিছু তত্ত্ব বলে পৃথিবী মূলত: সূর্যের চারিদিকে ঘুরে না; বরং ঘূর্নায়মান শূন্যে পৃথিবী স্থির। আবার কিছু কিছু তত্ত্ব বলছে পৃথিবী নিম্নমুখে ঘূর্নায়মান।

 

ফ্লাট আর্থ থিওরি অবশ্য বাইবেলের ভাষা এবং বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই তত্ত্বটি আবার বিশেষভাবে ফেইসবুকে প্রচারের মাধ্যমে বর্তমানে অনেকটা প্রসিদ্ধি পাচ্ছে।

 

ফ্লাট আর্থ তাত্ত্বিকরা মনে করেন পৃথিবীর শেষ প্রান্ত হচ্ছে বরফ দ্বারা বেষ্টিত এবং এ্যান্টার্কটিকা হচ্ছে শেষ প্রান্ত। এবং সে কারনেই তারা পরিকল্পনা করেছেন নৌকাযোগে এ্যান্টার্কটিকার শেষ প্রান্তে পৌঁছে প্রমান করবেন যে পৃথিবী সমতল, গোলাকার নয়।

 

তাদের মতে এই বরফ-ওয়াল কয়েকশ’ মিটার পুরু, পঁন্চাশ মিটার উঁচু এবং পুরো পৃথিবী বা গ্রহটিকে ঘিরে আছে এই বরফের দেয়াল।

 

আগামী বছর ফ্লাট আর্থ তাত্ত্বিকরা এই অবিশ্বাস্য অভিযাত্রা শুরু করবেন। অভিযাত্রার বিস্তারিত গোপন রাখা হয়েছে। বিস্তারিত পরিকল্পনা অনুষ্ঠিতব্য ইন্টার ন্যাশনাল ফ্লাট আর্থ কনফারেন্সে বর্নিত হবে। ইউটিউবার পল এই অভিযাত্রায় শামিল হবেন। পল ‘পৃথিবী গোলাকার তত্ত্বকে’ পানোম্মত্ব তত্ত্ব হিসেবে পরিগনিত করেছেন এবং এই তত্ত্বকে পাগলাটে তত্ত্ব হিসিবে প্রমানিত করতে চান।

 

ফ্লাট আর্থ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স এর প্রতিষ্ঠাতা রবি ডেভিডসন বলেন যদি একটি গ্লোব হাতে নিয়ে লক্ষ্য করা যায় তবে দেখা যাবে পৃথিবীর চারিদিকে এ্যান্টার্কটিকা। এটি মনে হবে পৃথিবীটা অত্যন্ত পুরু বরফের বাউন্ডারীতে ঘেরা। এটি এমন নয় যে একজন সেখানে গেলো এবং চকিত দর্শনেই দেখতে পেলো। তার মতে আমরা পৃথিবীর মানুষজন সমতল পৃথিবী থেকে ছিটকে পরছিনা কারন আমরা অনেকটা বরফের শক্ত গম্বুজের ভেতরে রয়েছি।

 

সুতরাং, সূর্য, চাঁদ এবং তারকারাজি এই গম্বুজের ভেতরে রয়েছে তবে আমাদের থেকে দূরে অবস্থান করে এবং সমতল পৃথিবী থেকে ছিটকে পরার সম্ভাবনা নেই। রবি ডেভিডসন আরো বলেন যে অনেকে হয়তো তাৎক্ষণিক ভাবতে পারে পৃথিবী যদি গোলাকার না হবে তবে যে জাহাজে করে এ্যান্টার্কটিকা অভিযাত্রা করা হবে তা’তো নেভিগেটর ব্যবহার করেই করতে হয় যা’ প্রমান করে পৃথিবী গোলাকার। মূলত: গ্লোবাল পজিশন সিস্টেম (GPS) একটি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পৃথিবীর ভিতরে অবস্থানরত কোনো একটি অবজেক্ট বা অবস্থান যা’ পৃথিবীর মধ্যেই ঘূর্নীয়মান এমন দ্রব্য বা অবস্থান সিগনাল প্রেরন বা গ্রহনের মাধ্যমে পারষ্পরিক অবস্থান নির্দেশ করে।

 

গার্ডিয়ান পত্রিকায় হেংক কেইজার একজন ক্রুজশিপ ক্যাপটেইন যিনি দীর্ঘ সময় ধরে নাবিক হিসেবে বিশ লক্ষের অধিক মাইল সমুদ্রে জাহাজ চালিয়েছেন তিনি ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাট আর্থ কনফারেন্স যে ধারনার কথা ব্যক্ত করেছেন তা’ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তাদের এ্যান্টার্কটিকা অভিমুখে যাত্রার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন। তিনি তার বক্তৃতায় তার স্বতীর্থ একজন নাবিকের ফ্লাট আর্থ তত্ত্বের ধারনার সাথে দ্বিমত পোষন করেননি বা তার ধারনার বিরোধীতা করেননি।

 

কিছু লোকের ধারনা পৃথিবী ফ্লাট। কারন হয়তো নাবিক হিসেবে ভ্রমনের সময় কার্ভটি দেখতে পায়না; কিন্তু ফটোতে দেখা যায় পৃথিবী অনেকটা কার্ভড্। আবার অনেকে মনে করে পৃথিবী গোলাকার এই চিত্র কম্পিউটারে করা এবং এই চিত্র স্পেস্ থেকে নেয়া হয়নি।

 

ফ্লাট আর্থ তত্ত্বের ধারকরা মনে করেন সরকার নাসাকে ব্যবহার করে পৃথিবীর ওপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পৃথিবী গোলাকার ধারনার সৃষ্টি করেছে। ফ্লাট আর্থ সোসাইটি মনে করে পৃথিবীর রহস্য আবিষ্কার না করে গোপন করার নিমিত্তে পৃথিবী গোলাকার তত্ত্বের ধারকরা স্পেসমুখী ষড়যন্ত্রের আবিষ্কার করেছে। তাদের মতে এই ধারনা প্রবল হয়েছে রাশিয়া-আমেরিকার কোল্ড ওয়ারের যুগে। একে অপরকে টেক্কা দেয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করে শূন্যে রকেট পাঠাতে শুরু করেছিলো।

 

ফ্লাট আর্থ সোসাইটি অবশ্য এখনও পর্যন্ত ফ্লাট আর্থ ক্রুজ অভিযাত্রার বিস্তারিত জানায়নি।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT