Main Menu

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীসহ ৭০ জনকে জানিয়েই হামলা চালায় টারান্ট!

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর ও লিনউডের একটি মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৪৯ মুসল্লি নিহত ও ৪৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের অধিকাংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ব্রেনটন টারান্টকে এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মনে করা হচ্ছে। শুক্রবার সেই আল নূর মসজিদে স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান নিয়ে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর নির্বিচার গুলি চালায়। শুধু তাই নয়, ভয়াবহ ১৭ মিনিটের ওই বর্বর তাণ্ডব সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি (লাইভ) প্রচার করে। এই আল নুরে মারা যায় ৪১ জন মুসল্লি।

মনে করা হচ্ছে, এই টারান্টই পরে গাড়ি চালিয়ে লিনউড মসজিদে গিয়ে হামলা চালিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন নিজে বলেছেন, টারান্ট অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং সে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে বাস করতো। সে একজন উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী বলেও নিশ্চিত করেন মরিসন।

হামলার পর পরই সংবাদ সম্মেলন করে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডার্ন বলেন, তাদের দেশে এ ধরনের হামলা অকল্পনীয়। হামলার পর আটক এক নারীসহ চারজনের কারো নামই পুলিশের ওয়াচ লিস্টে ছিল না। দিনটিকে তিনি ‘অন্ধকারতম’ বলেও উল্লেখ করেন।

কিন্তু এখন বলা হচ্ছে, হামলার ১০ মিনিট আগে ওই বন্দুকধারী প্রধানমন্ত্রী আর্ডার্নের কার্যালয় বরাবর একটি ইমেইল পাঠায়। যাতে ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা তার সেই কথিত ইশতেহার। যেখানে সে হামলার নানা রকম ষড়যন্ত্র তত্ত্ব যুক্ত করেছে।

হামলার আগে ইমেইল পাঠানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড।

গণমাধ্যমটি বলছে, শুধু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নয়, বিরোধী প্রধান রাজনীতিক সিমন ব্রিজ, সংসদের স্পিকার ট্রেভর মালার্ডসহ আরো অন্তত ৭০ জনের কাছে ইমেইল করে ইশতেহারটি হামলার আগেই পাঠানো হয়েছে।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড বলছে, আর্ডার্নের মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাজনীতিকদের বাইরে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদেরও একই মেইল পাঠানো হয়েছে।

ওই মুখপাত্র বলেন, ‘ইশতেহারটি এমনভাবে সাজানো ছিল যে, হামলাটি ইতোমধ্যে ঘটানো হয়েছে। এতে হামলার উদ্দেশ্য বলা হয়েছে, কিন্তু কোথাও এটা বলা হয়নি- সে কোথায় হামলা চালাতে যাচ্ছে। ফলে বিষয়টি জানা গেলেও হামলা থামানোর কোনো সুযোগ ছিল না।’

এর আগে শুক্রবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে জানায়, হামলার আগের দিন বৃহস্পতিবারই টারান্ট বিষয়টি অনলাইনে শেয়ার করে এবং হামলায় যে অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হবে তার ছবি পোস্ট করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টারান্টের অনুসারীরা সেগুলো ছড়িয়ে দেয় এবং তাকে হামলা চালাতে নানাভাবে উৎসাহিত করে।

কিন্তু তাদের নাম পুলিশের সন্ত্রাসী তালিকায় না থাকার কারণে আটক করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

Last Updated: 16 March 2019


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT